সর্বশেষ সংবাদ :

কাশফুলের শুভ্রতায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়: প্রকৃতির সাদা রূপালী ছোঁয়া

ববি প্রতিনিধি :

শরতের আগমনীর সঙ্গে সঙ্গেই বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) ক্যাম্পাস সেজে উঠেছে এক নৈসর্গিক সাদা-রূপালী সাজে। কীর্তনখোলা নদীর তীর ঘেঁষে অবস্থিত এই বিদ্যাপীঠ এখন দিগন্তজোড়া কাশফুলের শুভ্র ঢেউয়ে আচ্ছন্ন, যা শিক্ষার্থী ও আগত দর্শনার্থী—সবার মন কেড়ে নিচ্ছে।

ক্যাম্পাসের মূল পথ, একাডেমিক ভবন, লাইব্রেরি, মসজিদ এবং হলের আশেপাশের এলাকা—সবখানেই কাশফুলের ঘন চারা মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে। বাতাসে তাদের ছন্দময় দোল যেন প্রকৃতির এক শান্তিদায়ক কবিতা। অনেককেই দেখা যাচ্ছে এই মোহময়ী দৃশ্যকে ক্যামেরাবন্দী করতে, যাতে প্রতিটি ছবিই হয়ে ওঠে স্মৃতিময়।

এই নয়নাভিরাম কাশফুলের বৈজ্ঞানিক নাম হলো Saccharum spontaneum। এটি Poaceae পরিবারের অন্তর্ভুক্ত একটি বহুবর্ষজীবী ঘাস এবং দক্ষিণ এশিয়ার আদি উদ্ভিদ। এটি সাধারণত ৩ মিটার পর্যন্ত লম্বা হতে পারে।

কাশফুল শুধু সৌন্দর্যের প্রতীক নয়, এর রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহারও। এটি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সহায়ক, মাটির ক্ষয় রোধ করে এবং বহু বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল হিসেবে কাজ করে। এমনকি, এর আঁশ থেকে কাগজ তৈরির কাঁচামাল হিসেবেও ব্যবহার করা যায়, যা পরিবেশবান্ধব পণ্য উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

এই সাদা ফুলের সমারোহ শিক্ষার্থীদের জন্য এক স্বস্তির নাম। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আরিফ হোসাইন বলেন, “ক্লাসের চাপ, অ্যাসাইনমেন্ট ও পরীক্ষার মাঝে যখন ক্লান্তি আসে, তখন এই কাশফুলের সৌন্দর্য আমাকে নতুন করে উদ্যম দেয়। হলের জানালা দিয়ে তাকালেই সাদা কাশফুলের দোল দেখতে পাই, যা মনকে অসীম প্রশান্তি এনে দেয়।”

ক্যাম্পাসে ঘুরতে আসা এক দর্শনার্থী সুমি আক্তারও মুগ্ধতা প্রকাশ করে বলেন, “বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কাশফুলের সৌন্দর্য সত্যিই অসাধারণ। প্রকৃতির এমন মনোমুগ্ধকর রূপ খুব কম জায়গাতেই দেখা যায়, তাই ছবি তোলার জন্যই এখানে ছুটে এসেছি।”

কীর্তনখোলা নদীর তীরবর্তী ববি ক্যাম্পাস যেন শরতে প্রকৃতির এক অপূর্ব ক্যানভাস। শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থীরা এই অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে ক্যাম্পাসে আসছেন এবং প্রকৃতির মাঝে হারিয়ে গিয়ে মুহূর্তগুলো উপভোগ করছেন।

তৌফিক/শামি


প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৫ | সময়: ১:০৮ অপরাহ্ণ | Daily Sunshine