, , ।
স্টাফ রিপোর্টার, জয়পুরহাট: জয়পুরহাটের কালাইয়ে হাতিয়র কামিল মাদ্রাসায় ফাজিল পরীক্ষার প্রবেশপত্র নিয়ে তর্কের জেরে ওই মাদ্রাসার আরবি বিভাগের সহকারি অধ্যাপক মাওলানা সেলিম রেজাকে বেধরক মারপিট করেছে এক নারী শিক্ষার্থীর স্বামী ও ভাসুর। এ খবর বাহিরে ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজিত জনতা ওই শিক্ষার্থীর স্বামী ও দেবরকে তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অবরুদ্ধ করে রাখেন এবং কালাই বাসস্ট্যান্ড এলাকায় জয়পুরহাট-বগুড়া মহাসড়কে বিক্ষোভ করেন।
খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পুলিশ এসে উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করে ওই শিক্ষার্থীর স্বামী ও দেবরকে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে নিয়ে যায় এবং পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তাদের দুজনকেই ১৫ দিনের কারাদন্ডাদেশ দিয়েছেন। এ ঘটনাটি বৃহ¯পতিবার বিকেল পৌনে ৬টার দিকে কালাই আহলে হাদীদ মসজিদ মার্কেটে ঘটেছে।
আহত মাওলানা সেলিম রেজা হাতিয়র কামিল মাদ্রাসার আরবি বিভাগের সহকারি অধ্যাপক ছাড়াও তিনি কালাই আহলে হাদীস জামে মসজিদের খতিব এবং এলাকার ২২টি মসজিদের সংযুক্ত কালাই আহলে হাদীস ঈদগা মাঠের খতিবও। অপরদিকে দন্ডপ্রাপ্তরা হলেন, কালাই পৌর এলাকার থুপসাড়া মহল্লার নুর মোহাম্মদের দুই ছেলে আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ (৩৮) ও নুরনবী (৩৫)।
এদিকে ওই ঘটনার প্রতিবাদে শুক্রবার জুমার নামাজ আদায়ের পর কালাই আহলে হাদীস মসজিদেও মুসল্লীরা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় জয়পুরহাট-বগুড়া মহাসড়কে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন করেছে।
এ সময় বক্তব্য রাখেন উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর তাইফুল ইসলাম ফিতা, পৌর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক আব্দুল আলিম সরকার, আহম্মেদাবাদ ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক ও কালাই ডিগ্রি কলেজের সভাপতি তাজ উদ্দিন আহম্মেদ, মাওলানা মোজাফফর হোসেন প্রমুখ।
প্রত্যক্ষদর্শী, পুলিশ ও ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, নুরনবীর স্ত্রী মৌসুমী আক্তার হাতিয়র কামিল মাদ্রাসা থেকে সম্প্রতি কামিল পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হয়। গত বৃহ¯পতিবার সকালে নুরনবী তার স্ত্রীর কাগজপত্র নিতে মাদ্রাসায় যান। এ সময় জমা দেওয়া ফাজিল পাশের প্রবেশপত্র পাওয়া যায়নি মাদ্রাসা অফিসে।
এ নিয়ে নুরনবী অফিস কক্ষে বিভিন্ন হুমকি-ধামকি দেন। তখন মাদ্রাসায় আরবি বিভাগের সহকারি অধ্যাপক মাওলানা ফারুক হোসেন ও মাওলানা সেলিম রেজা তাকে শান্ত করার চেষ্টার এক পর্যায়ে নুরনবী দুই সহকারি অধ্যাপকের সাথে তর্কে জড়িয়ে পড়েন এবং দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে চলে আসেন। পরে বিকেলে মাওলানা সেলিম রেজা মাদ্রাসা থেকে কালাই আহলে হাদীস মসজিদ মার্কেটে এসে তার নিজ কাপড়ের দোকানে বসেন। এদিকে একই মার্কেটে কাপড়ের ব্যবসা করেন অভিযুক্ত নুরনবীও। মাদ্রাসায় তর্কের জের ধরে নুরনবী ও তার বড় ভাই মাহমুদ মিলে মাওলানা সেলিমের দোকানে গিয়ে আবারও কাগজ চান। দুই-এক কথার মধ্যে তারা দুই ভাই মিলে বেধরক মারপিট করতে থাকেন মাওলানা সেলিম রেজাকে।
এ খবর শহরে ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজিত জনতা কালাই আহলে হাদীস মসজিদ মার্কেটে অবস্থান নিয়ে ওই দুই ভাইকে তাদের দোকানঘরে অবরুদ্ধ করেন এবং মহাসড়কে বিক্ষোভ করতে থাকেন।
এ সময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামিমা আক্তার জাহান ও কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহিদ হোসেন ঘটনাস্থলে পৌঁছে উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করে অভিযুক্ত দুই ভাইকে উদ্ধার করে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে নিয়ে যান। এ সময় উত্তেজিত জনতা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের সামনে গিয়ে অবস্থান নেন। এ অবস্থায় পরিবেশ শান্ত করতে সেখানে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে দুই ভাইকে ১৫ দিনের কারাদন্ডাদেশ দেন।
হাতিয়র কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আমিনুল ইসলাম বলেন, মাদ্রাসার বিষয় মাদ্রাসাতেই সমাধান হবে, বাহিরে কেন একজন শিক্ষককে মারপিট করা হলো? তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে আদালতে যাওয়া হবে। কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহিদ হোসেন বলেন, বর্তমানে পরিবেশ শান্ত। ঘটনার পর থেকে কালাই আহলে হাদীস মসজিদ মার্কেট বন্ধ রয়েছে। কারাদন্ডাদেশপ্রাপ্ত দুই ভাইকে শুক্রবার সকালে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
কালাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামিমা আক্তার জাহান বলেন, অভিযুক্ত দুই ভাইকে ১৫ দিনের কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে। মার্কেট পরিচালনা কমিটি কি ব্যবস্থা নেয় তার উপর আমরা নজর রাখছি।