, , ।
রকিবুল হাসান রকি, পুঠিয়া: দেশের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া শৈত্য প্রবাহের কারনে উত্তর অঞ্চলের জেলাগুলোতে ঘন কুয়াশা আর শীতে নাজেহাল অবস্থা মানুষের। পাশাপাশি অতিমাত্রায় ঠান্ডা ও ঘন কুয়াশার কারণে রাজশাহী জেলার পুঠিয়া উপজেলায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে ধানের বীজতলা। নানান রকম কীটনাশক ব্যবহার করেও কোন ফল আসছে না। ঠান্ডা জনিত কারণে ধানের চারা নষ্ট হয়ে যাওয়ায়, ধানের চারা সংকটের আশঙ্কা ও ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ নাও হতে পারে বলে, ধারণা করছেন স্থানীয় কৃষকরা।
এবারের বোরো মৌসুমে উপজেলা জুড়ে প্রায় ১ শত ৪০ হেক্টর জমিতে ধানের বীজ তলা তৈরি করা হয়েছে। তবে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, যে সকল জায়গায় অতিরিক্ত ঠান্ডার আগে ধানের বীজতলা তৈরি করে চারা বপন করা হয়েছে, সেগুলো মোটামুটি ভালো রয়েছে। এছাড়াও এখন থেকে প্রায় ১৫ দিন আগে যারা ধানের চারার বীজতলা তৈরি করেছেন, সেসব চারার কোথাও কোথাও মোটামুটি ভাবে প্রায় সবগুলোই হলুদ বর্ণের হয়ে শুকিয়ে মারা যাচ্ছে। গত বছরের হিসেব অনুযায়ী এক কাঠার বীজতলার চারা দিয়ে প্রায় ৪ বিঘার মতো ধানের ক্ষেত তৈরি করা সম্ভব হয়েছিল, কিন্তু বর্তমানে চারা গুলো নষ্ট হওয়ায় এবছর সেই একই সমান চারা দিয়ে ২ বিঘার মতো জমিতে তা রোপন করা সম্ভব হবে বলে একাধিক কৃষক জানান। তাই ধারণা করা হচ্ছে চারা সংকট হলে ধান উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নাও পূরণ হতে পারে।
অপরদিকে উপজেলার ঝলমলিয়া, মোল্লাপাড়া, ধোপাপাড়া, নওপাড়া, বানেশ্বর সহ বিভিন্ন হাটে কৃষকরা ধানের চারা হাটে তুলতে শুরু করেছেন। অন্যান্য সময়ের চেয়ে এবছর তুলনামূলক কম চারা হাটে দেখা যাচ্ছে। দাম আগের তুলনায় একটু বেশিই লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
এসব বিষয়ে পুঠিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা স্মৃতি রানী বলেন, আমাদের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা প্রতিটি ইউনিয়নে, প্রতিদিন সকাল হতে বিকেল অব্দি কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছেন। এছাড়াও রাতের বেলা পলিথিন দিয়ে চারাগুলো ঢেকে রাখার পরামর্শও দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে আবহাওয়া অনেকটাই খারাপ তাই উপ-সহকারীরা প্রতিনিয়ত কৃষকদের ফসলের পরিচর্যার বিষয়ে নানান রকম পরামর্শ দিচ্ছেন। তবে আশা করছি ধান উৎপাদন বা চারা উৎপাদনে সংকট হবে না।