বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
সানশাইন ডেস্ক: দীর্ঘ ৩৩ বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের ভোট। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে শুরু হয়ে এই ভোটগ্রহণ বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলে। কয়েক প্রজন্ম পর ক্যাম্পাসে ছাত্র সংসদ নির্বাচন ফিরে আসায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস ও উদ্দীপনা কাজ করছে। বহু বছরের চেপে থাকা ক্ষোভ আর বঞ্চনার অবসানের প্রত্যাশা নিয়ে শিক্ষার্থীরা ভোটকেন্দ্রে নিজেদের রায় দিয়েছে গতকাল।
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন প্রবেশপথ ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এক হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়। ভোটকেন্দ্রের ভেতরে আনসার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন এবং প্রায় ৮০টি সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হয়।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, মোট ১১ হাজার ৭৪৩ জন ভোটারের জন্য ২১টি কেন্দ্রে ২২৪টি বুথ স্থাপন করা হয়েছে। নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করছেন ২১ জন রিটার্নিং কর্মকর্তা এবং ৬৭ জন করে পোলিং ও সহকারী পোলিং কর্মকর্তা। কোনো ভোটারের ব্যালট পেপার নষ্ট হলে তা পরিবর্তন করে নতুন ব্যালট দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়।
এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ১১ হাজার ৭৪৩ জন। কেন্দ্রীয় সংসদের ২৫টি পদের জন্য লড়ছেন ১৭৭ জন প্রার্থী। এর মধ্যে সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে ৯ জন এবং সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে ৮ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। একইসঙ্গে ২১টি হল সংসদের ৩১৫টি পদের জন্য ৪৭৭ জন প্রার্থী হয়েছেন। তবে, ছাত্রীদের ১০টি হলে ১৫০টি পদের মধ্যে ৫৯টিতে কোনো প্রার্থী না থাকায় এবং ৬৭টি পদে একজন করে প্রার্থী থাকায় সেখানে মাত্র ২৪টি পদে ভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
নির্বাচনে মোট সাতটি প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। এর মধ্যে ছাত্রদলের প্যানেল, ছাত্রশিবির-সমর্থিত প্যানেল ‘সমন্বিত শিক্ষার্থী জোট’, প্রগতিশীল শিক্ষার্থীদের ‘সম্প্রীতির ঐক্য’ এবং ‘গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ (বাগছাস) সমর্থিত ‘শিক্ষার্থী ঐক্য ফোরাম’ পূর্ণাঙ্গ প্যানেল দিয়েছে। এ ছাড়া তিনটি আংশিক প্যানেল ও অনেক স্বতন্ত্র প্রার্থী নির্বাচনে লড়ছেন।
নির্বাচনী প্রচারে প্রার্থীরা শিক্ষার্থীদের নানা সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। প্রায় সব প্রার্থীই ক্যাম্পাসের দীর্ঘদিনের অভিশাপ গণরুম ও গেস্টরুম সংস্কৃতি (হলের অতিথিকক্ষে আদবকায়দা শেখানোর নামে নির্যাতন) বিলোপ, আবাসন সংকট, পরিবহন সমস্যা, খাবারের মান উন্নয়ন এবং একটি শিক্ষার্থীবান্ধব নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেছেন।
সংশপ্তক পর্ষদের জিএস প্রার্থী জাহিদুল ইসলাম বলেন, “বিগত দিনে ছাত্রলীগের গণরুম, গেস্টরুমের ব্যাপারে আমরা প্রগতিশীল শিক্ষার্থীরাই সাধারণ শিক্ষার্থীদের কণ্ঠস্বর ছিলাম। জাকসুর মাধ্যমে সেসব অপসংস্কৃতি পুরোপুরি বিলোপ করাই আমাদের প্রথম লক্ষ্য থাকবে।”
১৯৭১ সালে যাত্রা শুরুর পর ১৯৭২ সালে জাকসু প্রতিষ্ঠিত হয়। তবে ৫৩ বছরের যাত্রাপথে নির্বাচন হয়েছে মাত্র ৯ বার। প্রথম জিএস শাহ বোরহানউদ্দিন এবং ১৯৭৩ সালের জিএস মোজাম্মেল হক—দুজনই রাজনৈতিক কোন্দলে নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। নানা বিতর্কের মধ্যেই ১৯৮০, ১৯৮১, এবং স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের উত্তাল সময়ে ১৯৮৯, ১৯৯০, ১৯৯১ ও ১৯৯২ সালে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
সর্বশেষ ১৯৯২ সালের নির্বাচনে ছাত্রদল একচেটিয়া জয় পায়। কিন্তু ১৯৯৩ সালে সিন্ডিকেট নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শিক্ষকদের ওপর জাকসুর ছাত্রদের একাংশের হামলার ঘটনায় তৎকালীন উপাচার্য জাকসু ভেঙে দেন। সেই থেকেই বন্ধ ছিল কার্যক্রম। ধারণা করা হচ্ছে, এবারের নির্বাচনে গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ, ছাত্রশিবির, ছাত্রদল এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। তবে নির্বাচন নিয়ে ছোটখাটো অভিযোগও উঠেছে। শিবির-সমর্থিত প্যানেলের ভিপি প্রার্থী আরিফ উল্লাহ অভিযোগ করেন, প্রশাসন ক্যাম্পাসে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের অবস্থান নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি এবং প্রার্থীদের পোলিং এজেন্ট রাখার অনুরোধও রাখেনি।
সার্বিকভাবে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রার্থী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে শুধু জাহাঙ্গীরনগর নয়, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আসন্ন ছাত্র সংসদ নির্বাচনগুলোর জন্যও একটি ইতিবাচক ধারা তৈরি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ছাত্রদল প্যানেলের ভিপি প্রার্থীর অভিযোগ: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ এনেছেন ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের সহ-সভাপতি (ভিপি) প্রার্থী শেখ সাদী হাসান।
ভোট গ্রহণ শুরুর চার ঘণ্টা পরে বৃহস্পতিবার দুপুর ১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মওলানা ভাসানী হলে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ জানান শেখ সাদী হাসান। লিখিত বক্তব্যে শেখ সাদী হাসান বলেন, ‘সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিপুল সাড়া পেয়ে ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেল জাকসুতে বিজয়ের আশা করেছে। ভোটগ্রহণের আগের রাতে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখতে পাই, জামায়াতে ইসলামীর কোনও এক অখ্যাত কোম্পানি থেকে যথাযথ ক্রয় প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে নির্বাচন কমিশন জাকসু নির্বাচনের ব্যালট পেপার ও ভোট গণনার ওএমআর মেশিন সরবরাহ করেছে।’
নির্বাচনে ছাত্রশিবিরের প্যানেলকে বিজয়ী করার লক্ষ্যে এমন করা হয়েছে বলে দাবি করেন শেখ সাদী হাসান। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘আমরা এ নিয়ে ভোট গণনায় কারচুপির শঙ্কা করেছি। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের চাপের মুখে নির্বাচন কমিশন তাৎক্ষণিকভাবে ওএমআর মেশিনে ভোট গণনার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে ভোট গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে। কিন্তু একই কোম্পানির সরবরাহ করা ব্যালট পেপার দিয়েই আজকের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।’
ছাত্রশিবির তাদের নিজস্ব কোম্পানি থেকে আলাদা করে ব্যালট পেপার সংগ্রহ করে কারচুপির মাধ্যমে জয়ী হওয়ার জন্য নীলনকশা করে রেখেছে বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন সাদী হাসান। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের আশপাশে জামায়াত শিবিরের অনেক নেতা-কর্মী জড়ো হয়েছেন বলে জানিয়েছেন শেখ সাদী হাসান। এতে সাধারণ শিক্ষার্থীরা আতঙ্কিত বলেন তিনি।
দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিলেন বিএনপিপন্থি তিন শিক্ষক: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) নির্বাচনের দায়িত্ব থেকে বিএনপিপন্থি তিন শিক্ষক অব্যাহতি নেন। তারা হলেন অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, অধ্যাপক শামীমা সুলতানা ও অধ্যাপক নাহরিন ইসলাম খান।
বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে নির্বাচন কমিশনের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এ সিদ্ধান্তের কথা জানান। এদের মধ্যে অধ্যাপক নজরুল ইসলাম কেন্দ্রীয়ভাবে জাকসু নির্বাচন মনিটরিংয়ের দায়িত্বে ছিলেন। বাকি দুই শিক্ষক হল পর্যায়ে ভোট মনিটরিং করছিলেন। তিনজনই ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। তারা জানিয়েছেন, আরও কয়েকজন শিক্ষক একই সিদ্ধান্ত নেবেন।
এর আগে বিকেল সোয়া ৪টার দিকে নানা অভিযোগ তুলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেল জাকসু নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেয়। সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১টি কেন্দ্রে ২২৪টি বুথে জাকসু নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ১১ হাজার ৭৪৩ জন, যার মধ্যে ৫ হাজার ৭২৮ জন ছাত্রী এবং ৬ হাজার ১৫ জন ছাত্র। ২৫টি পদে ১৭৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
সম্প্রীতির ঐক্য ও স্বতন্ত্র অঙ্গীকার পরিষদ প্যানেলের ভোট বর্জন: প্রশাসনের পক্ষপাতমূলক আচরণ, ভোটকেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা, পোলিং এজেন্টদের হয়রানিসহ নানা অভিযোগ এনে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (জাকসু) নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে সম্প্রীতির ঐক্য ও স্বতন্ত্র অঙ্গীকার পরিষদ প্যানেলসহ পাঁচজন স্বতন্ত্রপ্রার্থী।
বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টায় এ ঘোষণা দেন তারা। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত জাকসুতে মোট চারটি প্যানেল ভোট বর্জন করেছে। এর আগে জাল ভোট ও ভোটারের অতিরিক্ত ব্যালট কেন্দ্রে পাঠানোসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে বর্জন করে সংশপ্তক পর্ষদ ও ছাত্রদল প্যানেল। এবারের নির্বাচনে মোট ১১ হাজার ৮৯৭ জন শিক্ষার্থী ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এর মধ্যে ছাত্র ৬ হাজার ১১৫ এবং ছাত্রী ৫ হাজার ৭২৮ জন। ভোটগ্রহণের জন্য ২১টি কেন্দ্রে ২২৪টি বুথ স্থাপন করা হয়েছে।
ছাত্রদের হলের মধ্যে আল বেরুনী হলে ভোটার ২১০ জন, আ ফ ম কামালউদ্দিন হলে ৩৩৩, মীর মশাররফ হোসেন হলে ৪৬৪, শহীদ সালাম-বরকত হলে ২৯৮, মওলানা ভাসানী হলে ৫১৪, ১০ নম্বর ছাত্র হলে ৫২২, শহীদ রফিক-জব্বার হলে ৬৫০, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলে ৩৫০, ২১ নম্বর ছাত্র হলে ৭৩৫, জাতীয় কবি নজরুল হলে ৯৯২ এবং তাজউদ্দীন আহমদ হলে ৯৪৭ জন ভোটার রয়েছেন।
ছাত্রীদের হলের মধ্যে নওয়াব ফয়জুন্নেসা হলে ২৭৯ জন, জাহানারা ইমাম হলে ৩৬৭, প্রীতিলতা হলে ৩৯৬, বেগম খালেদা জিয়া হলে ৪০৩, সুফিয়া কামাল হলে ৪৫৬, ১৩ নম্বর ছাত্রী হলে ৫১৯, ১৫ নম্বর ছাত্রী হলে ৫৭১, রোকেয়া হলে ৯৫৬, ফজিলাতুন্নেছা হলে ৭৯৮ এবং তারামন বিবি হলে ৯৮৩ জন ভোটার রয়েছেন। এবারের নির্বাচনে কেন্দ্রীয় সংসদের ২৫ পদের বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১৭৭ জন প্রার্থী। নির্বাচনে বামপন্থি, শিবির, ছাত্রদল ও স্বতন্ত্রদের সমর্থিত মিলিয়ে মোট আটটি প্যানেল অংশগ্রহণ করছে। ছাত্রদের ১১টি ও ছাত্রীদের ১০টি হল মিলিয়ে মোট ২১ ভোটকেন্দ্র।
ভোটগ্রহণের জন্য ২১টি কেন্দ্রে ২২৪টি বুথ স্থাপন করা হয়েছে। নির্বাচনে ৬৭ জন পোলিং অফিসার (শিক্ষক) এবং ৬৭ জন সহায়ক পোলিং অফিসার (কর্মকর্তা) নিয়োগ করা হয়েছে। ভোটগ্রহণ শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট হলে ভোট গণনা করা হবে। নির্বাচন উপলক্ষে ক্যাম্পাসের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ১৫০০ পুলিশ, সাত প্ল্যাটুন বিজিবি ও পাঁচ প্ল্যাটুন আনসার ক্যাম্পাসের পরিসীমায় মোতায়েন থাকবে। এছাড়া ক্যাম্পাসে যে কোনো অপ্রীতিকর ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা মোকাবিলায় আনসার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ক্যাম্পাসে ও ক্যাম্পাসের বাইরে অবস্থান করবেন।
লুঙ্গি পরে ভোট দিলেন জাবি শিক্ষার্থী, ভিডিও ভাইরাল: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলছে। বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা থেকে ভোট শুরু হয়েছে, যা চলবে বিকেল ৫টা পর্যন্ত।
জাকসু নির্বাচনে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে ভোটকেন্দ্র। এতে কেউ কেউ লুঙ্গি পরে এসেও ভোট দিচ্ছেন। জাতীয় কবি কাজী নজরুল হলে এক শিক্ষার্থীকে লুঙ্গি পরে ভোট দিতে আসতে দেখা গেছে। লুঙ্গি পরে তার ভোট দেওয়ার একটি ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, একজন শিক্ষার্থী কেন্দ্রে এসে ভোট দিচ্ছেন। তার গায়ে টি-শার্ট ও পরনে লুঙ্গি। পায়ে স্পঞ্জের স্যান্ডেল। কেন্দ্রে এসে ভোট দিয়ে বেরিয়ে যান তিনি। তবে এ নিয়ে গণমাধ্যমে কোনো কথা বলেননি ওই শিক্ষার্থী। তার নাম-পরিচয়ও জানা যায়নি।
এর আগে বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টায় ২১টি হলে একযোগে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে। এবারের নির্বাচনে মোট ১১ হাজার ৮৯৭ জন শিক্ষার্থী ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এর মধ্যে ছাত্র ৬ হাজার ১১৫ জন এবং ছাত্রী ৫ হাজার ৭২৮ জন। ভোটগ্রহণের জন্য ২১টি কেন্দ্রে ২২৪টি বুথ স্থাপন করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় সংসদের ২৫ পদের বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১৭৭ জন প্রার্থী। নির্বাচনে বামপন্থি, শিবির, ছাত্রদল ও স্বতন্ত্রদের সমর্থিত মিলিয়ে সর্বমোট আটটি প্যানেল অংশগ্রহণ করছে। ছাত্রদের ১১টি ও ছাত্রীদের ১০টি হল মিলিয়ে মোট ২১ ভোটকেন্দ্র ঠিক করা হয়েছে। নির্বাচনে ৬৭ জন পোলিং অফিসার (শিক্ষক) এবং ৬৭ জন সহায়ক পোলিং অফিসার (কর্মকর্তা) নিয়োগ করা হয়েছে। ভোটগ্রহণ শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট হলে ভোট গণনা করা হবে।