বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
স্টাফ রিপোর্টার, বাগমারা: রাজশাহীর বাগমারার সরকারী খাদ্যগুদামে বিপুল পরিমাণ পচা ও নিম্নমানের চাল কান্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে সুবিধাভোগী গরীব দুস্থ ও অসহায়দের পক্ষে স্থানীয়দের ব্যানারে বাগমারা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ভবানীগঞ্জ পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক শেখ। সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের দোসর উপ-খাদ্য পরিদর্শক (এলএসডি) বাচ্চু মিয়া ও উপজেলা চালকল মালিক সমিতির সভাপতি চঞ্চল ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আনোয়ার হোসেন, সামসুর রহমান সহ কতিপয় ব্যক্তিরা পচা ও নিম্নমানের চাল খাদ্য গুদামে মজুত করায় বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের মান ক্ষুন্ন করেছে বলে দাবি করেন।
তিনি বলেন, ‘গরীব অসহায়রা অত্যন্ত কষ্ট করে টাকা সংগ্রহ করে, লাইনে ৩-৪ ঘণ্টা দাঁড়িয়ে যে চাল সংগ্রহ করে বাড়িতে নিয়ে ভাত রান্না করে না খেতে পারা কষ্টের বিষয়।’ সংবাদ সম্মেলনে খাদ্য উপদেষ্টা, খাদ্য সচিবসহ সংশ্লিষ্ট র্কর্তপক্ষের কাছে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক সুষ্ঠ বিচারের দাবি জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন, উপজেলা তাতী দলের আহবায়ক মামুনুর রশিদ মামুন, ভবানীগঞ্জ পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব ডিএম শাহীন, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম-আহবায়ক দুলাল হোসেন, উপজেলা শ্রমিক দলের আহবায়ক মীর মাসুদ, পৌর যুগ্ম-আহবাযক আলমগীর হোসেন আলম, পৌর ছাত্র নেতা হালিম, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা জোবায়ের আলম রকিসহ স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ।
সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে সাধুদবাদ জানিয়ে বক্তার বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিম্মমানের চাল সংগ্রহ ও বিতরণের বিষয় খবর পেয়ে তদন্ত করতে গত বৃহস্পতিবার উপজেলা খাদ্য গুদামে আসেন।
এ সময় নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুবুল ইসলামের সঙ্গে ছিলেন, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মেহেদী হাসান, উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা নবী নওয়াজেস আমীন, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মিজানুর রহমানসহ কয়েকজন কর্মকর্তা। তাঁরা উপজেলার ভবানীগঞ্জ খাদ্য গুদামগুলোতে অভিযান চালান। এ সময় সেখানে থাকা চালের বস্তা ছিদ্র করে দেখেন। সেখানে দুর্গন্ধ পচা ও নিম্নমানের চাল দেখতে পান। এভাবে কয়েকশ বস্তা থেকে নমুনা সংগ্রহ করে নিম্নমানের চাল পান। পরে গুদাম তিনটি থেকে চার বস্তা চাল নমুনা হিসেবে সংগ্রহ করেন এবং গুদাম তিনটি সিলগালা করে দেন। বোরো মৌসুমে কৃষকদের কাছ থেকে ২৭২৩ মেট্রিক টন ধান কেনা চালের অধিকাংশই পচা ও নিম্ন মানের।
অভিযোগ রয়েছে, ধানগুলো থেকে চাতাল মালিকদের মাধ্যমে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে চাল করে গুদামে মজুদ করার বিধান রয়েছে। এতে ভারপ্রাপ্ত খাদ্য কর্মকর্তা কতিপয় স্বার্থন্মেষীদের সাথে আতাত করে নিম্নমানের চাল কিনে গুদামে রেখেছেন। এছাড়াও মিলারদের কাছ থেকেও নিম্নমানের চাল সংগ্রহ করা হয়েছে। সম্প্রতি চালগুলো দুস্থ নারী ও খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির সুবিধাভোগিদের দেওয়ার প্রক্রিয়া করা হয়। সেখানে চালগুলো পচা, দুর্গন্ধ ও নিম্নমানের বলে অভিযোগের সত্যতা মিলে। এরপর পরই উপ-খাদ্য পরিদর্শক (এলএসডি) বাচ্চু মিয়ার বদলি ও সাময়িক বরখাস্ত করা হলেও বিষয় নিয়ে এলাকায় চাপা ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এই ধরনের অপরাধ ক্ষমা করা যায় না। আরো কঠিন শাস্তি হওয়া প্রয়োজন। সংবাদ সম্মেলনে পচা চাল কান্ডে জড়িততের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি করা হয়।