১৩০ বছরের বৃদ্ধ তফের মণ্ডলের পাশে বিএনপি নেতা এমএ মতিন

মান্দা প্রতিনিধি: নওগাঁর মান্দা উপজেলার ভালাইন ইউনিয়নের লক্ষ্মীরামপুর গ্রামের এক জীর্ণশীর্ণ কুঠিরে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন ১৩০ বছর বয়সী বৃদ্ধ তফের আলী মণ্ডল। হাড্ডিসার দেহ, চলার শক্তি নেই বললেই চলে। ঘরে নেই খাট বা চৌকি। স্যাঁতস্যাঁতে মাটিতে বিছানা পেতে রাত কাটে তার। ১২ সন্তানের জনক এই বৃদ্ধ বর্তমানে বসবাস করছেন রাস্তার পাশে সরকারি জমিতে নির্মিত মরিচা ধরা টিনের বেড়া ও ছাউনি দিয়ে তৈরি এক নড়বড়ে ঘরে।
দীর্ঘ জীবনের শেষ প্রান্তে এসে এমন দুর্দশার মধ্যেই দিন পার করছিলেন তফের মণ্ডল। সরকারি বা বেসরকারি পর্যায় থেকে আজও কোনো সহায়তা পাননি তিনি। তবে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার জীবনের করুণ চিত্র ভাইরাল হলে বিষয়টি দৃষ্টি কাড়ে মান্দা উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এমএ মতিনের।
শনিবার এমএ মতিন লক্ষ্মীরামপুর গ্রামে গিয়ে তফের মণ্ডলের জীবনযাত্রা প্রত্যক্ষ করেন। এরপরই তিনি বৃদ্ধের জন্য একটি পাকাঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেন। রোববার বেলা ১১টার দিকে আনুষ্ঠানিক ভাবে ঘর নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন তিনি। শুধু ঘর নির্মাণ নয়, বৃদ্ধ তফের মণ্ডলের খাবার, চিকিৎসা এবং যাবতীয় ব্যয়ভার বহনের প্রতিশ্রুতিও দেন বিএনপির এই নেতা মতিন।
তফের মণ্ডল জানান, জীবিকার তাগিদে তার ৮ ছেলে বিভিন্ন এলাকায় বিচ্ছিন্নভাবে বসবাস করেন। স্ত্রী মারা গেছেন বহু আগেই। সেবাযত্ন করার মতো কেউ পাশে নেই। একসময় ছোট ছেলে আইনাল হকের বাড়িতে থাকলেও পুত্রবধূর সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় সেই আশ্রয়ও হারাতে হয় তাকে। এখন রাস্তার ধারে একটি অন্ধকার ঘরে একাকী দিন কাটাচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিদিন ভ্যানে চড়ে পাশের বানডুবি বাজারের একটি হোটেলে গিয়ে খাওয়া-দাওয়া করি। এভাবেই জীবন চলছে, আর মৃত্যুর প্রহর গুনছি। হঠাৎ বিএনপির লিডার মতিন আমার বাড়িতে এলেন। আমার অবস্থা দেখে ঘর করে দিচ্ছেন, খাবারের ব্যবস্থাও করছেন। এমনকি চিকিৎসাও করিয়ে দেবেন বলেছেন।’
ভালাইন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচারের পরই এমএ মতিন সাহেব নিজ উদ্যোগে এই সহায়তার ব্যবস্থা করেন। তার মানবিকতায় আমরা গর্বিত।’
এ বিষয়ে বিএনপি নেতা এমএ মতিন বলেন, ‘ফেসবুক ও সংবাদমাধ্যমে বৃদ্ধ তফের মণ্ডলের মানবেতর জীবন যাপনের খবর দেখে আমি গভীরভাবে মর্মাহত হই। সঙ্গে সঙ্গে তার কাছে গিয়ে তার জীবনযাত্রা দেখে ঘর করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। যতদিন বেঁচে থাকবেন, তার সব খরচ আমি বহন করব। এটি আমার দায়িত্ব ও মানবিক কর্তব্য বলে মনে করি।’


প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১, ২০২৫ | সময়: ১:২৭ পূর্বাহ্ণ | সুমন শেখ