সর্বশেষ সংবাদ :

জিয়াউর রহমানের মতবাদ ছিলো জনগণের মুক্তি ও উন্নয়ন: শাহীন শওকত

স্টাফ রিপোর্টার: বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক, উন্নয়নের রুপকার, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা বাংলার রাখাল রাজা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ছিলেন উন্নয়ন ও জনগণের মতবাদে বিশ্বাসী। তিনি স্বাধীনতা ঘোষনা করেছিলেন বলে বাংলাদেশ নামে একটি দেশ রচিত হয়েছে। অথচ তাঁকে কটুক্তি ও তাঁর ছবি পদদলিত করেছে সাত দিনের সংগঠন এনসিপি।

শনিবার বিকেলে রাজশাহী মহানগরীর বাটার মোড়ে রাজশাহী মহানগর বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের আয়োজনে সারাদেশে প্রশাসনের নির্লিপ্ততায় আইনশৃংখলা পরিস্থিতির অবনতি এবং ষড়যন্ত্রমূলক দেশকে পরিকল্পিতভাবে অস্থিতিশীর করার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট সৈয়দ শাহীন শওকত এই কথাগুলো বলেন।
তিনি আরো বলেন, তিনবারের সাবেক সফল প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে এনসিপি কুরুচিপূর্ন মন্তব্য করেছে। এটা বিএনপি কখনো মেনে নেবেনা। তিনি এনসিপিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, তোমরা জুলাই আগস্টে নেতৃত্ব দিয়েছো। তার মানে এই না তোমরা সব করেছো। তোমাদেও সাথে দেশের স্বাধীনতাকামী ও স্বৈরাচার বিরোধী ছাত্র-জনতা ছিলো। আর নেপথ্য থেকে সকল প্রকার সহযোগিতা করেছিলেন তারেক জিয়া। তাঁকে নিয়েও এনসিপি মন্তব্য করতে ছাড়েনি বলে উল্লেখ করেন তিনি।
শাহীন শওকত আরো বলেন, বাংলাদেশের সাবেক স্বৈরশাসক হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদ কোনদিন আর্মি প্রোটেকশন নিয়ে কোন জনসভায় যায়নি। কিন্তু এনসিপি তা করপ দেখালো। এটা হচ্ছে শুরুতেই দেউলাত্ত্বের প্রমান। স্লোগান দেয়া আর আন্দোলন করা মানে রাজনীতি করা নয়। রাজনীতি করতে হলে শিখতে হয় উল্লেখ করেন তিনি। তিনি বলেন, ১৬জুলাই ছিলো গণহত্যার দিন। সেদিন শোকের দিন। সেদিন কেন কোটালিপাড়ায় তাদের জনসভা করতে হবে। এটা জাতি এখন বুঝতে পেরেছে তাদের দুরভীসন্ধি।
তিনি বলেন, যে দল নিবন্ধনের প্রাথমিক পর্যায়ে বাতিল হয়। সেইদলের নেতাদের এত কথা মানায় না। তিনি বলেন, বাংলাদেশে আরেকটি দল রয়েছে। যারা ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করে। যারা বাংলাদেশকে এখনো স্বীকৃতি দেয়নি। যুদ্ধের সময়ে যারা স্বাধীনতা যুদ্ধের বিপক্ষে ছিলো, সেইদল এখন বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য উতালা হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশের মানুষ এতটা পাগল এখনো হয়নি যে রাজাকারকে ভোট দিয়ে দেশের ক্ষমতায় বসাবে।
এই দল কখনো একা পথ চলতে পারেনা। কখনো বিএনপি, আবার কখনো আওয়ামীলীগের সাথে জোট বেধে নির্বাচনে অংশগ্রহন করেছিলো। আর এই দলকে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান রাজনীতি করার সুযোগ করে দিয়েছিলো, সেইদলের বিরুদ্ধে কথা বলছে। এই দলকে কোনভাবেই প্রশ্রয় দেয়া হবেনা বলে উল্লেখ করেন তিনি। দেশের এবং বিএনপিকে নিয়ে কেউ কুরুচিপূর্ন মন্তব্য করলে আর কাউকে ছেড়ে কথা বলা হবেনা উল্লেখ করে নেতাকর্মী সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি। বক্তব্য শেষে উপস্থিত নেতাকর্মীরা বাটার মোড় থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে আলুপট্টির মোড়ে গিয়ে শেষ করেন।
রাজশাহী মহানগর বিএনপি’র আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা ডভোকেট এরশাদ আলী ঈশার সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন বিএনপি রাজশাহী মহানগরের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নজরুল হুদা, সদস্য সচিব মামুন- অর-রশিদ, যুগ্ম আহ্বায়ক আসলাম সরকার, শফিকুল ইসলাম শাফিক, বজলুল হক মন্টু ও জয়নুল আবেদিন শিবলী।
আরো উপস্থিত ছিলেন শাহ মখদুম থানা বিএনপি’র সদস্য সচিব নাসিম খান, চন্দ্রিমা থানা বিএনপি’র সভাপতি ফাহিজুল হক ফাহি, সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম জনি, বোয়ালিয়া থানা (পূর্ব) বিএনপি’র সভাপতি আশরাফুল ইসলাম নিপু, সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন, মতিহার থানার সাধারণ সম্পাদক আল-মামুন বাবু, কাশিয়াডাঙ্গা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক সচিব মজিউল আহসান হিমেল, মহানগর যুবদল আহ্বায়ক মাহফুজুর রহমান রিটন ও মহানগর যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম জনি, সদস্য সচিব রফিকুল ইসলাম রবি, স্বেচ্ছাসেবক দল রাজশাহী মহানগরের সদস্য সচিব আসাদুজ্জামান জনি, কৃষক দল রাজশাহী মহানগরের আহ্বায়ক শরফুজ্জামান শামীম, মহিলাদল কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য গুলসান আরা মমতা, মহানগরের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রোজি, মহানগর শ্রমিক দলের সভাপতি রফিকুল ইসলাম পাখি, মহানগর জাসাস এর সদস্য সচিব সেলিম রেজা ও মহানগর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক খন্দকার মাকসুদুর রহমান সৌরভসহ বিএনপি অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের সকল থানা, ওয়ার্ড নেতাকর্মীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


প্রকাশিত: July 20, 2025 | সময়: 4:19 am | সুমন শেখ