বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
মাহফুজুর রহমান প্রিন্স, বাগমারা: উপজেলার আশপাশের এলাকায় পাটের বাম্পার ফলন পেয়েছে। ভালো দাম পেয়েও কৃষক বেজায় খুশি। তবে এখন ভাল দাম থাকলেও গতবারের মত মৌসুমের মাঝামাঝিতে দাম কমে যাওয়ার আশংকায় রয়েছেন কৃষক।
জানা গেছে, এবার আবহাওয়া অনুকূল থাকায় পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। এতে পাট চাষী ও ব্যবসায়ীরা বেশ লাভবান হচ্ছেন।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে এই উপজেলায় পাটের আবাদ হয়েছে প্রায় দেড় হাজার হেক্টর জমিতে। গতবছর এই চাষাবাদের পরিমান ছিল সাড়ে বার’শ হেক্টর। এখন পাট কাটা ও জাগ দেওয়ার কাজ শেষ হয়েছে। এখন কৃষক শুকানো পাটগুলো নিয়ে হাটে যাচ্ছেন।
উপজেলার নরদাশ এলাকার কৃষক আবুল হোসেন জানান, এবার সাড়ে তিন বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছি। এতে প্রতি বিঘা খরচ হয়েছে ৮ হাজার টাকা। পরে জাগ দিয়ে ও শুকিয়ে পাট পরিমাপ করে দেখেন প্রতি বিঘায় তিনি ৮ থেকে ১০ মণ হারে পাট পেয়েছেন। এবার প্রতি মণ পাটে তিনি ৫০০-৬০০ টাকা বেশি দাম পেয়েছেন।
শ্রীপুরের কৃষক মকবুল হোসেন জানান, এবার ব্যাপক বৃষ্টিপাত ও বন্যা হওয়ায় চারিদিকে থৈ থৈ পানি। খালে বিলে পানি থাকায় পাট জাগ দিতে তেমন অসুবিধা হয়নি। পাট জাগ থেকে খোসা ছাড়ানো পর্যন্ত পাটের মান ভাল রয়েছে। শুরুতেই পাট তিন হাজার থেকে তিন হাজার আটশ টাকা মণ দরে বিক্রি করেছি। তবে এখন বাজার চার হাজারের উপর। তার মতে, ভাল দাম পাওয়ায় এবার পাটের আবাদ করে বেশ লাভবান হয়েছেন তিনি। তবে গত বছরের পুরাতন পাটও অনেক কৃষক বাজারে আনছেন। তবে এই পাট আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
একই এলাকার কৃষক মমতাজ, আয়নাল, হবিবর সহ ১০-১২ জন কৃষক আশাবাদি হয়ে বলেন, বর্তমান অন্তবর্তীকালীন সরকারের সময় তারা উপযুক্ত পাটের দাম পাবেন এমনটি আশাও করেননি।
তারা আরো আশাবাদি হয়ে বলেন, এই সরকার পলিথিন সহ পরিবেশের জন্য ক্ষতিকারক দ্রব্যাদি তুলে দিতে চাইছে এটা খুব ভাল পদক্ষেপ। সোনালী আঁশ পাটের সেই হারানো ঐতিহ্য আবার ফিরে আসবে এবং তারা আরো বেশি করে পাট চাষ করবেন এমন আশায় বুক বেঁধেছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুল বাজ্জাক জানান, এবার আবহাওয়া পাট চাষের অনুকূল ছিল। প্রথম থেকে কৃষকরা পাটের দাম ভাল পাওয়ায় বেশ লাভবান হচ্ছেন। ভবিষ্যতে এই উপজেলায় আরো বেশি হারে পাটের আবাদ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।