, , ।
স্টাফ রিপোর্টার: জীবনকে গড়ে তুলতে বাস্তবমুখি শিক্ষা কোন বিকল্প নেই। কারিগরি শিক্ষাই শিক্ষার্থীদের এ অভিজ্ঞতা এনে দিতে পারে। তাই তো শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তি ও বাস্তবমুখি প্রশিক্ষণ দিতে আরো এক ধাপ এগিয়ে গেলো নওহাটা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি (ভো.) উচ্চ বিদ্যালয়। রাজশাহী জেলার পবা উপজেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) এমনই এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে।
দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) প্রকল্পের আওতায় এই বিদ্যালয়টিতে স্থাপন করা হয়েছে একটি কারিগরি ল্যাব, যা হাতে-কলমে শিক্ষার মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি হিসেবে শিক্ষার্থীদের গড়ে তোলার স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেবে।
এই ল্যাবটির উদ্বোধন করেন পবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরাফাত আমান আজিজ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন,“শুধু পুঁথিগত বিদ্যায় এখনকার বিশ্বের সঙ্গে তাল মেলানো কঠিন। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হলে আমাদের প্রয়োজন কারিগরি জ্ঞানে দক্ষ একটি প্রজন্ম। নওহাটার এই ল্যাবটি সেই লক্ষ্য পূরণে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এখান থেকে অর্জিত জ্ঞান কাজে লাগিয়ে শিক্ষার্থীরাই একদিন দেশের সমৃদ্ধি আনবে এবং দেশ গঠনে নেতৃত্ব দেবে।” তিনি সরকারি সম্পদের সঠিক ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণে বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের যত্নবান হওয়ার আহ্বান জানান।
নতুন এই ল্যাব পেয়ে সবচেয়ে বেশি উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থীরা। নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী আদি জানান, আমরা এখন থেকে আরো বেশি বাস্তবমুখি শিক্ষা নিতে পারবো। যা আমাদের ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের জন্য প্রস্তুত করবে।”
এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগের পেছনের প্রেক্ষাপট ও লক্ষ্য তুলে ধরে বিস্তারিত বক্তব্য দেন এই প্রকল্পের বাস্তবায়নকারী কর্মকর্তা প্রকৌশলী আবু বাশির। তিনি বলেন,“সাধারণত টিআর কর্মসূচি দিয়ে আমরা রাস্তাঘাট, সেতু বা কালভার্টের মতো গ্রামীণ ভৌত অবকাঠামো নির্মাণ করে থাকি। কিন্তু সরকার এখন মানবসম্পদ উন্নয়নকেও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। কারণ একটি দেশের সেরা অবকাঠামো হলো তার দক্ষ ও শিক্ষিত নাগরিক। এই ভাবনা থেকেই আমরা শিক্ষা খাতে এই প্রকল্পটি হাতে নিয়েছি এবং সরকারি অর্থের সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহারের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জন্য একটি বিশ্বমানের সুযোগ তৈরি করতে চেয়েছি।”
এই বিদ্যালয়ের সুপারিনটেনডেন্ট আব্দুল হান্নান চৌধুরী বলেন, আমাদের জনসংখ্যার চাপ অনেক বেশি। চাকুরির সুযোগও কম। তাই শিক্ষার্থীদের আত্ম নির্ভারশীল করে গড়ে তুলতে হবে। প্রতিষ্ঠানে আধুনিক যন্ত্রপাতি থাকলে শিক্ষার্থীরাও ভালো কিছু শিখতে পারবে।
তিনি আরো বলেন, অস্ত্র প্রশিক্ষণ ছাড়া যেমন যোদ্ধা হওয়া যায় না। তেমন যন্ত্রপাতি ছাড়া দক্ষ জনশক্তিও গড়ে তোলা যায় না। এর আগে প্রকল্পের মাধ্যমে কারিগরি শিক্ষায় যন্ত্রপাতি দেয়া হতো। তবে সে প্রকল্পটি আরো বেগবান না করে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এটি কারিগরি শিক্ষায় দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার অন্তরায়।
সুপারিনটেনডেন্ট আব্দুল হান্নান চৌধুরী আরো বলেন, দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার আরো একটি প্রধান অন্তরায় হচ্ছে ভাষা শিক্ষা। আমাদের জনশক্তি অনেকাংশই ফেরত আসে ভাষা না জানার কারণে। তাই এ বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে। দক্ষ জনশক্তি যে দেশে যাবে সে দেশের ভাষা যদি শেখে তাহলে তারা আরো বেশি দক্ষ হয়ে উঠে। আমরা যতো বেশি জনশক্তি বিদেশে পাঠাতে পারবো ততো বেশি রেমিটেন্স আয় করতে পারবো। দেশও হবে সমৃদ্ধ।
নওহাটা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি (ভো.) উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশাপাশি নওহাটা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ভোকেশনাল শাখাতেও একটি ল্যাব উদ্বোধন করা হয়েছে।