মেয়াদ পেরিয়ে গেলেও হয়নি কাজ শেষ

সবুজ ইসলাম: সারাদেশে ৩০টি পৌরসভায় পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন প্রকল্পের (বিএমডাব্লুএসএসপি) আওতায় রাজশাহীর পবা উপজেলার কাটাখালি পৌরসভায় দুইটি প্যাাকেজের মাধ্যমে ২৩ কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যায়ে কাজ শুরু হয় ২০২০ সালে। কাজের মেয়াদ ছিল দেড় বছর। তবে ৫ বছর পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কাজ শেষ করতে পারেনি ঠিকাদার। স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। অর্থায়ন করছে জিওবি, বিশ্ব ব্যাংক এবং এআইবি।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের দেয়া তথ্য মতে, পানি সরবরাহ কাজটিকে দুই ভাগে ভাগ করে দুই ঠিকাদারের মাধ্যমে কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। মাটির নিচে থেকে পানি উত্তোলন এবং ট্যাঙ্কি পর্যন্ত পানি সরবরাহ কাজকে বলা হচ্ছে ট্রান্সমিশন এবং বাড়ি বাড়ি পাইপ লাইনের মাধ্যমে পানি সরবরাহ কাজটিকে বলা হচ্ছে ডিস্ট্রিবিউশন। কাজের মেয়াদ ছিল ১৮ মাস। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের আবেদনের প্রেক্ষিতে কাজের মেয়াদ বাড়িয়ে করা হয় ২৪ মাস। তবে ৫ বছরেও কাজ শেষ করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দুটি।
১০ কোটি ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে কাটাখালী পৌরসভায় পানি সরবরাহের ডিস্ট্রিবিউশন পাইপ লাইন অংশের কাজ করছে সারা এন্টারপ্রাইজ এবং ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে মেসার্স কবির হোসেন ও মের্সাস ডন এন্টারপ্রাইজ কাজ করছে ট্রান্সমিশন অংশের কাজ। ১০ কোটি ৭০ লাখ টাকার মধ্যে ৮ কোটি ৪৬ লাখ টাকা এবং ১২ কোটি টাকার মধ্যে ১০ কোটি টাকা তুলে নিয়েছে এই দুই ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান।
কাটাখালি পৌরসভায় সাড়ে ৬ হাজার পরিবার এই প্রকল্পে আওতায় পাইপ লাইনের মাধ্যমে বাড়িতে বিশুদ্ধ পানি পাবেন। এখন পর্যন্ত রেজিস্ট্রেশন করেছেন ৫ হাজার পরিবার। রেজিস্ট্রেশন ফি সংযোগ প্রতি ২০০ টাকা করে নেওয়া হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, পৌরসভার দেওয়ানপাড়ায় অবস্থিত বিশালকৃতির ওভারহেড ট্যাংক নির্মাণ কাজ চলমান। পাশেই কয়েকটি পাইপ পড়ে থাকতে দেখা যায়। এখনও বাড়ি বাড়ি পাইপ লাইন সংযোগ দেওয়া হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও এখনো নির্মাণ কাজ শেষ না হওয়ায় কবে নাগাদ পানির সংযোগ তারা বাড়িতে পাবেন তা নিয়ে কেউ কোন তথ্য দিতে পারেননি। কাজের ধীরগতির জন্য পৌরসভায় কয়েকবার মৌখিক অভিযোগ জানালেও কোন প্রতিকার পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেন তারা।
পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের শ্যামপুর এলাকার সাজেদুল ইসলাম বলেন, আমাদের এখানে পানির তীব্র সমস্যা। মটর থেকে পানি তুলে ব্যবহার করি। খরার সময় সেই পানিও মেলে না। দীর্ঘদিন হয়ে গেলো এখন পর্যন্ত এই ওভারহেড ট্যাংকের কাজ শেষ হয়নি। কবে যে পানি পাবো তাও জানি না।
একই এলাকার গৃহিণী মরিয়ম বেগম বলেন, বাসা বাড়ির নিত্যপ্রয়োজনীয় পানি ছাড়াও গবাদি পশুর জন্য আমাদের অনেক পানি লাগে। টিউবওয়েল থেকে পানি তুলতে আমাদের অনেক কষ্ট হয়। পৌরসভা থেকে আমাদের বাড়ি বাড়ি পানি দিবে এই কথা শুনে অনেক খুশিই হয়েছিলাম। কিন্তু এখন পর্যন্ত পানি পেলাম না। রেজিস্ট্রেশনের নামে ২০০ টাকা করে নিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত বাড়িতে পানি তো দূরের কথা পাইপও আসিনি।
ওভারহেড ট্যাংক থেকে বাড়িতে পানির সংযোগ দেওয়ার জন্য প্রতিটি গ্রাহকের কাছে থেকে রেজিস্ট্রেশন ফি ২০০ টাকা আদায় করা হয়েছে এবং হাফইঞ্চি পাইপে ৫০০ ও থ্রিফোর পাইপে ৭০০ টাকা কানেকশন ফি হিসেব ধরা হয়েছে। এক হাজার লিটারে এক ইউনিট, আর এক ইউনিটের বিল ধরা হয়েছে ১০ টাকা।
মের্সাস কবির হোসেন ও ডন এন্টারপ্রাইজের লাইসেন্সে কাটাখালীতে ট্রান্সমিশন অংশের কাজটি করছেন সামসুর রহমান শান্তনু। তিনি বলেন, করোনার কারণে দুই বছর কাজে বিলম্ব হয়েছে। এর পর ওভার হেড ট্যাংকি নির্মাণের জন্য কর্তৃপক্ষ আমাদেরকে নির্ধারিত অংশ বুঝিয়ে দিতে পারেনি। যেকারণে কাজ বিলম্ব হয়েছে। এখন কাজের ফিনিশিং চলছে। আশা করছি চলতি জুন মাসেই কাজ বুঝিয়ে দিতে পারবো।
এদিকে সারা ইন্টার ন্যাশনালের লাইসেন্সে ডিস্ট্রিবিউশন পাইপলাইনের কাজ করছেন সালাউদ্দিন সোহাগ। এবিষয়ে কথা বলতে তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে কল করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।
কাজের অগ্রগতি প্রসঙ্গে কাটাখালি পৌরসভার প্রকৌশলী মনিরুল ইসলামের কাছে এই বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে প্রকল্পের কাজ শেষ হলে কাটাখালী পৌরসভার পক্ষ থেকে দায়িত্ব বুঝে নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
সার্বিক বিষয়ে জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেপুটি প্রজেক্ট ডাইরেক্টর (ডিপিডি) মামুনুর রশিদ মজুমদার বলেন, ‘করোনাকালীন সময়ে আমাদের এই প্রকল্পের কাজ অনেকটা পিছিয়ে পড়েছিল। তারপরে আগস্টে পৌরসভায় মেয়র কাউন্সিলর বাদ হয়ে প্রশাসক এবং কর্মকর্তা বদলি হয়েছে, এখানেই প্রায় ৬ মাসের মত সময় চলে গেছে। তারপরেও আমরা চেষ্টা করছি দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার। প্রকল্পের প্রায় ৯৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। আশা করছি সেপ্টেম্বরের ভিতরেই কাজ শেষ করতে পারবো।’


প্রকাশিত: জুন ২, ২০২৫ | সময়: ৪:৩৪ পূর্বাহ্ণ | সুমন শেখ