বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
স্টাফ রিপোর্টার,বাঘা :
রাজশাহীর বাঘায় চাকরি দেওয়ার নামে টাকা আত্নসাতের অভিযোগে একজন অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তিনজন ভুক্তভুগি। শনিবার (৩১ মে) বেলা ১১ টার সময় বাঘা প্রেসক্লাব কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন করেন তারা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ভূক্তভূগি একলাসুর রহমান, নাইম ইদ্দীন এবং অপর এক ভূক্তভূগি আবুল বাছেদের বড় ভাই নিজাম উদ্দিন।
সংবাদ সম্মেলনে ভূক্তভূগি একলাসুর রহমান তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, উপজেলার তেঁথুলিয়া-পীরগাছা টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজম্যান্ট কলেজ ও ভোকেশনাল ইন্সটিটিউটের অধ্যক্ষ মোজাম্মেল হক সদর আমাকে অফিস সহকারী পদে চাকরি দেওয়ার নাম করে ১০ লক্ষ টাকা চান। তাঁর কথা বিশ্বাস করের আমি ২০১৯ সালের ২৭ নভেম্বর ২ লক্ষ টাকা প্রদান করি। একলাস আড়পাড়া গ্রামের মৃত রহমান মন্ডলের ছেলে ।
এ সময় অপর এক ভুক্তভুগি একই গ্রামের মৃত চহরম প্রামানিকের ছেলে আবুল বাছেদ বাচ্চু বলেন, অধ্যক্ষের সাথে নৈশ প্রহরী পদে চাকরি দেয়ার নামে আমার সাথে ৫ লক্ষ টাকার চুক্তি হয়। সেই মোতাবেক ২০১৯ সালের ২০ নভেম্বর আমি তাঁকে বিশ্বাস করে নগদ তিন লক্ষ টাকা দেয়। অপর দিকে ল্যাব এ্যাসিসটেন্ট পদে একই গ্রামের মৃত মহরম প্রামানিকের ছেলে নাসির উদ্দীন ৮ লক্ষ টাকা চুক্তি মর্মে ২০১৯ সালের ২০ অক্টোবর তিন লক্ষ টাকা প্রদানের অভিযোগ করেন। কিন্তু আদ্যাবধী কাউকেই ঐ অধ্যক্ষ চাকরি দিতে পারেননি। তবে ভুক্তভুগি তিনজনের একটি করে নির্দিষ্ট পরিমান টাকার চেক অধ্যক্ষের কাছে ছিলো বলেও অভিযোগে উল্লেখ করেন তারা।
এদিকে দীর্ঘদিন অতিবাহিত হওয়ার এক পর্যায় চাকরী দিতে না পারায় ভুক্তভুগিরা আদালতের স্বরনাপূর্ণ হন। ঘটনার এক পর্যায় অধ্যক্ষ টাকা ফেরত দিবেন বলে তাঁর স্বাক্ষরিত ব্যাংকের চেক গুলো কৌশলে তিনজনকে তার বাড়িতে ডেকে জোরপূর্বক অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে চেকের পাতা গুলো ছিনিয়ে নেন। এরপর ভুক্তভুগিরা স্থানীয় প্রশাসন ঐ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার এর সহযোগিতা চেয়ে বিচার না পাওয়ার এক পর্যায় একলাসুর রহমান বাদি হয়ে ২০২০ সালের ১২ অক্টোবর অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে রাজশাহী মহামান্য আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন।
ওই সময় অধ্যক্ষ দলীয় প্রভাব খাটিয়ে আদালত থেকে ঐ নথি স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের উপর তদন্তের দায়িত্ব ভার নিয়ে আসেন। এরপর চেয়ারম্যানের দেওয়া তদন্ত প্রতিবেদনে মামলা খারিজ হয়ে যায়। পরে মামলা থেকে রক্ষার জন্য অধ্যক্ষ নিজে বাদি হয়ে ১০৭ ধারায় ভূক্তভূগি তিন জনের বিরুদ্ধে আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় ভূক্তভূগিরা নির্দোষ প্রমানিত হয়। পরে ২০২৪ সালের ২১ আগষ্ট নবাগত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে ভূক্তভূগিরা অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ফের লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ২ সেপ্টম্বর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শুনানির দিন ধার্য্য করলে অধ্যক্ষ অসুস্থতার কথা বলে সেখানে উপস্থিত হননি। এক পর্যায় নির্বাহী কর্মকর্তা ভুক্তভুগিদের আরেকবার অভিযোগ দায়ের করার পরামর্শ দেন। এ খবর পেয়ে অধ্যক্ষ টাকা ফেরত দিব নিচ্ছি বলে সময় কালক্ষেপন করেন।
সর্বশেষ চলতি বছরের ২৭ মে রাজশাহীর আদালতে ৬ জনকে অভিভুক্ত করে অধ্যক্ষকে বাঘা উপজেলা থেকে বাড়ি ফেরার পথে তেপুকুরিয়া নামক স্থান থেকে তাঁকে জোর পূর্বক অপহরণ করে ফাকা ষ্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করানো হয়েছে মর্মে বাদি হয়ে আদালতে আরেকটি মামলা দায়ের করেন।
এ বিষয়ে তেঁথুলিয়া-পীরগাছা বিএম কলেজের অধ্যক্ষ মোজাম্মেল হক সদর বলেন, আমার ব্যক্তিগত প্রয়োজনে নিজ বাড়ি বানানোর সময় তাদেরকে অতিরিক্ত টাকা দেবো বলে সুদের উপরে চেক দিয়ে টাকা নিয়ে ছিলাম। পরবর্তীতে তাদের কাছে থেকে টাকা দিয়ে চেক ফেরত নিয়েছি। জোরপূর্বক চেক নেওয়ার বিষয়ে কোন ঘটনা ঘটেনি। তাদেরকে চাকরি দেয়ার বিষয়ে আমার কোন প্রতিশ্রুতিও ছিলোনা। তারা আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করেছেন তা সবই ভিত্তিহীন। উপরন্ত গত ২৫ মে তারা আমাকে রাস্তা থেকে জোর পূর্বক তাদের গ্রাম আড়পাড়া এলাকায় তুলে নিয়ে যায় এবং অস্ত্রের মুখে একটি ফাকা ষ্ট্যাম্পে আমাকে স্বাক্ষক করিয়ে তারপর ছেড়ে দেন। যা তদন্ত করলে বেরিয়ে আসবে।
সানশাইন /নুরুজ্জামান/শামি