জীবনযুদ্ধে হার না মানা রাজশাহী টুলি বেগমের পাশে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ রেহেনা

স্টাফ রিপোর্টার : 

একাত্তর টেলিভিশনে সংবাদ প্রচারের পর বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ রেহানার নির্দেশনায় রাজশাহীর নারী রিকশা চালক টুলি বেগম উপহার পেলেন নতুন একটি রিকশা। রবিবার রাজশাহী-৬ আসনের সংসদ সদস্য শাহরিয়ার আলমের প্রতিনিধি দল শেখ রেহানার নির্দেশনায় টুলি বেগমের হাতে রিকশা তুলে দেন। এসময় তারা টুলি বেগমের অসুস্থ মেয়ের চিকিৎসার দায়িত্ব গ্রহন করেন।

এদিকে, সকালে টুলি বেগমকে ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ২০ হাজার টাকা আর্থিক সহযোগী দেন রাজশাহী জেলা প্রশাসক শামীম আহমেদ। এছাড়া দ্রুততম সময়ের মধ্যে টুলি বেগমকে আশ্রয়ন প্রকল্পের একটি ঘর দেয়া হবে বলেও জানান জেলা প্রশাসক।

 

৪৫ বছর বয়সী টুলি বেগম এক অসুস্থ মেয়ে ও নাতনিকে নিয়ে ভাড়া থাকেন নগরীর রায়পাড়া বস্তি এলাকায়। মাথার ওপর যেই আশ্রয় আছে, সেটিরও প্রতি মাসে ভাড়া দিতে হয়। মেয়েটাও প্রায় সব সময় অসুস্থ থাকেন, তার ভালো চিকিৎসা প্রয়োজন। কিন্তু অভাবের তাড়নায় জীবিকার তাগিদে রিকশা চালিয়ে যা উপার্জন করেন তা দিয়ে ঠিকঠাক তিন বেলা খাবার জোটে না। এখন কিভাবে বাড়ি ভাড়া দিবেন এবং মেয়ের চিকিৎসা করাবেন তা নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যে দিয়ে দিন কাটছিল টুলি বেগমের। এ নিয়ে একাত্তর টেলিভিশনে একটি খবর প্রচার হয়। যা নজরে আসে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ রেহানার। জীবন যুদ্ধে হার না মানা টুলি বেগমকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন তিনি। তাকে একটি অটোরিকশা দেওয়া ও বাড়ি দেওয়া ছাড়াও আর্থীক সহযোগিতার নির্দেশ দেন শেখ রেহেনা।

 

এর আগে রবিবার সকালে টুলি বেগমকে শাড়ি, কম্বল, খাদ্য দ্রব্য ও আর্থিক সহযোগিতা করেন জেলা প্রশাসক শামীম আহমেদ। এছাড়াও দ্রুত সময়ের মধ্যে পবা উপজেলায় বাড়ি দেবেন বলে আশ্বাস দেন তিনি।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) কল্যাণ চৌধুরী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) সরকার অসীম কুমার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. আনিসুল ইসলাম, নেজারত ডেপুটি কালেক্টর মো. শামসুল ইসলাম প্রমুখ।

 

এবিষয়ে জানতে চাইলে টুলি বেগম জানান, ‘প্রতিদিন সকাল ৭টায় থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ৩শো টাকা জমা চুক্তিতে রিকশা চালায়। মেয়ে চালক বলে আমার রিকশায় অনেকেই উঠতে চায় না। তবুও মানুষের কাছে হাত না পেতে তিন চাকার রিকশায় ভর করে, দিন শেষে যা আয় হয় সেটা দিয়েই অনেক কষ্টে সংসার চালায়। ছোটবেলা থেকেই কখনো কাগজ কুড়িয়ে কিংবা কখনো রাজমিস্ত্রীর কাজ করে জীবন যাপন করেছি। বিয়ের কয়েক বছর পর স্বামী ছেড়ে চলে গেলে সন্তানদের নিয়ে নিদারুণ কষ্টে দিন যাপন করি। বর্তমানে অসুস্থ মেয়ের ও নাতির ভরণ-পোষণের দায়িত্ব আমার ঘাড়ে। তাই অভাবের তাড়নায় জীবিকার তাগিদে রিকশা চালিয়ে যা উপার্জন করেন তা দিয়ে ঠিকঠাক তিন বেলা খাবার জোটে না।

 

 

টুনি তার প্রত্যাশার কথা আরও জানান, আমার একটা প্রত্যাশা ছিল- মাথা (বাড়ি) গোঁজার ঠাঁইয়ের। আমার কষ্টের কথা জেনে ডিসি স্যার সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। আজকে ডিসি স্যার নিজ বাসভবনে দাওয়াত দিয়ে আমার নিদারুণ কষ্টের কথা শুনেছেন এবং কম্বল, শাড়ি ও খাদ্য দ্রব্য উপহার দিয়েছেন। এছাড়াও আমাকে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করেছেন।

 

অশ্রুসিক্ত নয়নে টুলি বেগম আরও জানান, নিজের একটা বাড়ির দীর্ঘ দিনের স্বপ্ন ছিল, বাড়ি থাকলে ভাড়ার টাকা বেঁচে যাবে। তখন আমার এই অল্প উপার্জনে সংসার চালাতে খুব একটা কষ্ট করতে হবে না। ডিসি স্যার, আমার এই স্বপ্নের কথা শুনে দ্রুত সময়ের মধ্যে পবা উপজেলায় একটি বাড়ি করে দিবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।

 

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক শামীম আহমেদ বলেন, টুলি বেগম অবিরাম জীবন যুদ্ধে হার না মানা এক নারী চরিত্র। দারিদ্র্যের কশাঘাতের সঙ্গে লড়াই করে প্রতিনিয়ত বেঁচে আছেন তিনি। এক সময় তিনি রাজমিস্ত্রী হিসেবে কাজ করেও সংসার চালিয়েছেন। এখন তিনি জীবিকার তাগিদে মানুষের কাছে হাত না পেতে, নিজেই রিকশা চালিয়ে সংসার চালাচ্ছেন। তাকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকল ধরনের সহযোগিতা করা হবে।

সানশাইন / শাহাজাদা

 

 


প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৪ | সময়: ১০:০২ অপরাহ্ণ | Daily Sunshine