বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
নুরুজ্জামান ,বাঘা :
পবিত্র ঈদউল আজহা উপলক্ষে বাঘা উপজেলায় কোরবানি যোগ্য গবাদি পশুর পরিসংখ্যান দিয়েছেন উপজেলা প্রানি সম্পদ অফিসার। তিনি তাঁর পরিসংখ্যানে জানিয়েছেন, অত্র উপজেলায় কোরবানি দেয়ার জন্য গবাদি পশুর চাহিদা রয়েছে প্রায় ২৮,৩৮২টি। এদিক থেকে এখানে উদ্বৃত্ত রয়েছে বিভিন্ন জাতের ৩০৮১টি পশু।
বাঘা উপজেলা প্রানি সম্পদ অফিসার আমিনুল ইসলামের দেয়া ইতিবাচক তথ্য পেয়ে আনান্দিত হয়েছেন অত্র অঞ্চলের সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ। তবে পশুর হাটে কোরবানী যোগ্য হরেক রকম গবাদি পশুর দাম এবার অনেকটা বেশি বলে মন্তব্য করেছেন ক্রেতাগণ। এ বিষয়ে খামারু এবং পশু পালনকারীদের মন্তব্য একটু ভিন্ন। তারা বলছেন, পশু পালনের জন্য সকল প্রকার খাদ্যের দাম এবার অনেক বেশি হওয়ার কারণে তারা বেশি দাম চাচ্ছেন। যদি কোন কারনে এর ব্যত্বয় ঘটে তাহলে পশু পালনকারী ও খামারুরা আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
বাঘা উপজেলা প্রানী সম্পদ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে বাঘায় কোরবানী যোগ্য গরু রয়েছে ৩৬৯২ টি। এর মধ্যে ষাড় ২৮০৫টি, বলদ ১৫৬টি, এবং গাভী (বকনা) গরু হয়েছে ৭৩১টি। এ ছাড়াও মহিষ এর সংখ্য ধরা হয়েছে ৯৭টি এবং ছগল খাসির সংখ্য ধরা হয়েছে ২৭,২৪৩টি এবং ভেড়ার সংখ্য ধরা হয়েছে ৪৩১টি। এতে সর্বমোট পরিসংখ্যান দেখানো হয়েছে ৩১,৪৬৩টি। অপর দিকে চাহিদা ধরা হয়েছে ২৮,৩৮২টি। তাঁর দেয়া তথ্য মতে, চাহিদার চেয়েও বাড়তি পশু রয়েছে ৩০৮১টি ।
স্থানীয় লোকজন বলছেন, ঈদকে সামনে রেখে জমে উঠেছে বাঘা উপজেলায় অবস্থিত দু’টি হাট-সহ পুরো রাজশাহী, নাটোর ও পাবনা অঞ্চল জুড়ে অসংখ্য পশুহাট। তবে এসব হাটের মধ্যে গরু-ছাগল আমদানী করার দিক থেকে সবচেয়ে গুরুত্ব বহন করে চলেছে বাঘা উপজেলার সীমান্তবর্তী বির্স্তীর্ণ পদ্মার চরাঞ্চল এলাকা। সেখানে প্রত্যেক বাড়িতে রয়েছে প্রায় ৪-৫ টি করে বিভিন্ন জাতের গরু এবং ৮-১০ টি ছাগল। বর্তমানে এ সকল গরু-সহ সমতল এলাকায় পালিত হাজার-হাজার গরু মহিষ স্থানীয় চাহিদা পুরনের পাশা-পাশি আমদানি করা হচ্ছে রাজধানী ঢাকা-সহ দেশের বিভিন্ন শহরে। তবে গত বারের চেয়ে এবার পশুর দাম অনেক বেশী বলে মন্তব্য করেছেন ক্রেতা ও সাধারণ জনগণ। কোরবানীর গরু কিনতে আসা ক্রেতারা বলছেন, বিভিন্ন শহর থেকে বড়-বড় গরু ব্যবসায়ীরা এ অঞ্চলের হাটে এসে সকল প্রকার পশু ক্রয় করে দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন।
বাঘার গরু ব্যবসায়ী আব্দুর রহমান ও আমোদপুর গ্রামের মিজানুর রহমান জানান, রাজশাহী, নাটোর ও পাবনা’র একটি অংশ নিয়ে সপ্তাহ জুড়ে এই অঞ্চলে গরুর হাট বসে। এর মধ্যে- রাজশাহীর সিটি হাট-সহ পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বরের হাট বসে প্রতি শনিবার, বাঘার রুস্তমপুরে বুধবার এবং চন্ডিপুরে হাট বসে শুক্রবার। অপর দিকে নাটোর শহরের তেবাড়িয়ায় প্রতি রবিবার বসে জেলার সবচেয়ে বড় পশুর হাট। এছাড়া বড়াইগ্রাম উপজেলার মৌখাড়া হাট শুক্রবার, সিংড়া ফেরিঘাটে সোমবার ও বৃহস্পতিবার, বাগাতিপাড়ার পেড়াবাড়িয়া, গুরুদাসপুরের চাঁচকৈড় এবং গোপালপুর উপজেলার মধুবাড়ী ও পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলায় সোমবার বসে আরণ কোলায় বিশাল হাট।
ঢাকার গরু ব্যবসায়ী করিম মিঞা জানান, গরুর ব্যবসা অনেকটা ভাগ্যের উপরেও নির্ভর করে। তিনি বলেন, গত বছর ঈদউল আযহার পূর্বে তিনি ৪০ টি গরু কিনে ব্যবসায় লস করে ছিলেন। কারন সেইবার গরু আমদানি অনেক বেশি ছিল। এ দিক থেকে তিনি আগের বছর ২০ টা গরুতে খরচ বাদে প্রায় এক লাখ টাকা লাভ করে ছিলেন।
নুরুজ্জামান /শামি