বাঘায় আম বাগান থেকে রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ 

স্টাফ রিপোর্টার ,বাঘা :
বাঘার আরিফপুর গ্রাম।সেখানে রয়েছে তিন রাস্তার মোড়। এই মোড়ে রয়েছে কয়েকটি দোকান সহ একটি বটগাছ। উক্ত বট গাছের ছাঁয়ায় সকাল থেকে রাত আনুমানিক ৮ টা থেকে ৯টা পর্যন্ত লোকে লোকারণ্য থাকে। এই মোড়ের পাশে রয়েছে একটি আম বাগান। সেখান থেকে মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১১ টার সময় সাদেক আলী নামে এক ব্যক্তির ক্ষতবিক্ষত রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। একই সাথে মৃত ব্যক্তির সৎ ভাই কামাল ডাকাত পলাতক থাকায় তার স্ত্রী ও পুত্রকে থানায় নিয়ে এসছেন । খবর পেয়ে বুধবার (১৪-মে) সকালে থানা চত্বরে ভিড় করতে লক্ষ্য করা গেছে স্বজনদের।

স্থানীয় লোকজন জানান, মৃত সাদের আলী(৫০)একই গ্রামের নুর হালদাদের ছেলে। তাঁর দু’জন স্ত্রী রয়েছে। প্রথম পক্ষ আরিপপুর গ্রামের মেয়ে । তার দুটি কন্যা সন্তান রয়েছে। বড় মেয়ে বিবাহিত। বর্তমানে প্রথম স্ত্রী বাবার বাড়ী থাকেন। অপর দিকে সাদেক আলী দ্বিতীয় বিয়ে করে স্ত্রী নাদিরা বেগমের সাথে তার বাবার বাড়ী পাশ্ববর্তী গ্রাম চন্ডিপুরে ঘর জামাই থাকেন। তবে সাদেক আলীর বাড়ী আরিফপুর গ্রামে হওয়ার সুবাদে তিন এই গ্রামের মোড়ে প্রায় প্রতিদিনই বিকেলে চা পান করতে আসেন। সর্বশেষ মঙ্গলবার(১৩-মে)রাত আনুমানিক ১১ টার দিকে লোকমুখে মোবাইল ফোনে খবর পেয়ে পুলিশ প্রতিবেশী মকবুলের আম বাগান থেকে সাদেক আলীর রক্তাক্ত মরাদেহ উদ্ধার করেন।

আরিফপুর গ্রামের বাসিন্দা নওশাদ আলী ,আয়বর আলী ও আজিজুল ইসলাম জানান, পুলিশ যখন সাদেক আলীর লাশ উদ্ধার করে, তথন তার বুকে-পিঠে ধারালো অস্ত্রের আঘাত ও পায়ের রগ কাটা ছিল।

এদিকে পুলিশ মঙ্গলবার রাতে সাদেক আলীর পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে খবর পেয়ে তার সৎ ভাই প্রতিবেশী কামাল ডাকাতের বাড়িতে যান । এ সময় তাকে বাড়িতে পাওয়া না গেলে তার মোবাইল নম্বরও বন্ধ পাওয়া যায়। ঘটনার এক পর্যায় পুলিশ কামাল ডাকাতের স্ত্রী চায়না বেগম ও বড় সন্তান বাসার আলীকে জিঙ্গাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসেন। এলাকার লোকজন জানান, কামাল অত্র অঞ্চলে ডাকাত ও মাদক সেবনকারী হিসাবে পরিচিত। তার নামে থানায় বেশ কয়েকটি ডাকাতি মামলা রয়েছে।

এদিকে বুধবার সকালে সাড়ে ৮ টায় বাঘা থানায় গিয়ে দেখা যায়, সাদেক আলীর স্বজনরা থানায় মৃত সাদেক আলীকে এক নজর দেখার জন্য থানা গোল চত্বরে বসে আছেন। এ সময়র সাদেক আলীর প্রথম স্ত্রী আসেমা বেগম দ্বিতীয় স্ত্রী নাদিরা বেগম এবং বড় মেয়ে সাথী আক্তার জানান, সাদেক আলীকে পুর্ব শত্রুতার জের ধরে তার সৎ ভাই কামাল ডাকাত হত্যা করে এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে। তাকে আটক করলে সাথে আর কারা ছিলো সব রহস্য বেরিয়ে আসেবে। আমরা এ বিষয়ে একটি মামলা করবো।

বাঘা থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আ.ফ.ম আসাদুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে আমরা সাদেক আলীর মরাদেহ উদ্ধার করে রাতে একটি মাইক্রো যোগে থানায় নিয়ে এসেছি। বুধবার সকাল ১০ টায় লাশ রামেক হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হবে। এ ঘটনায় সাদেক আলী দ্বিতীয় স্ত্রী অথবা বড় মেয়ে একটি অভিযোগ দেয়ার কথা রয়েছে।অভিযোগ পাওয়ার পর আমরা তদন্ত পূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নোবো।

সানশাইন /নুরুজ্জামান /শামি


প্রকাশিত: মে ১৪, ২০২৫ | সময়: ১২:১১ অপরাহ্ণ | Daily Sunshine

আরও খবর