বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী কলেজে ভাইভা দিতে আসা নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের এক কর্মীকে আটকের পর পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৬মে) দুপুর ২টার দিকে কলেজ শাখা ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দরা তাঁকে আটকের পর বোয়ালিয়া মডেল থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।
ছাত্রলীগের ওই কর্মীর নাম মাজহারুল ইসলাম আশিক। তিনি রাজশাহী কলেজের ইতিহাস বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তাঁর বাড়ি গাইবান্ধার জেলার সাদুল্লাপুর থানার ক্ষুদ্রকমরপুর গ্রামে। ৫ আগস্ট সরকারের পতনের আগে তিনি কলেজের মুসলিম ছাত্রাবাসের আবাসিক শিক্ষার্থী ছিলেন।
তথ্যমতে, মঙ্গলবার কলেজে ভাইভা দিতে মাজহারুল ইসলাম আশিক কলেজে আসে। এ সময় ছাত্রদল কর্মীরা তাকে চিনতে পেরে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। জিজ্ঞাসাবাদের সময় তার ফোন দেখতে চাইলে সে জানাই তার কাছে ফোন নেই, সে ফোন ব্যবহার করে না। বিষয়টি আরো সন্দেহজনক মনে হওয়ায় ছাত্রদলের কাছে থাকা পূর্বের ছাত্রলীগের কর্মীদের কলেজ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন কার্যক্রমের ছবিতে চেক করা হয়। ছবিগুলোতে দেখা যায়, আওয়ামী লীগ সরকারের শাসন আমলে কলেজ ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের বিভিন্ন কর্মসূচিতে তার সক্রিয় অংশগ্রহণ রয়েছে এবং ছাত্রলীগের মিছিলগুলোতে তাকে সামনের কাতারে অবস্থান করতে দেখা গেছে। এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে রাজশাহী কলেজে ১৬ তারিখের শিক্ষার্থীদের উপর ছাত্রলীগের হামলার দিনেও তার সম্পৃক্ততা রয়েছে।
এ বিষয়ে রাজশাহী কলেজ শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক খালিদ বিন ওয়ালিদ (আবির) বলেন, আজ রাজশাহী কলেজ ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের একনিষ্ঠ কর্মী এবং রাজশাহী কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি শীর্ষ সন্ত্রাসী ও হত্যা মামলার আসামি রাশিক দত্তের ঘনিষ্ঠ সহযোগী আশিক কলেজে ভাইভা দেয়ার জন্য ক্লাসে উপস্থিত হয়। পরবর্তীতে কলেজ ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।
এসময় তিনি কলেজ প্রশাসনের নিকট দাবি জানিয়ে বলেন, যারা জুলাই আন্দোলনে হামলাকারী তাঁদের বিরুদ্ধে যেন কলেজ প্রশাসনের পক্ষ থেকে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এছাড়াও যারা মূখ্য ভূমিকা পালন করেছে তাদের ছাত্রত্ব যেন বাতিল করা হয়।
এ বিষয়ে বোয়ালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোস্তাক আহম্মেদ কে ফোন করা হলে তিনি জানান, নতুন করে তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা করা হয়নি। পূর্বের একটি মামলা চলমান রয়েছে, সেই মামলায় তাকে চালান করে দেওয়া হবে।