, , ।
স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীর পবায় পুকুরখনন বন্ধে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আবেদন জানিয়েছেন ভূক্তভোগি এলাকাবাসী। বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসকের দপ্তরে উপজেলার বড়গাছী ও হরিয়ান ইউনিয়ন থেকে দু’টি অভিযোগ করেন তারা।
বর্তমানে দিনের বেলা প্রশাসনের ভয়ে নিশ্চুপ থাকলেও উপজেলায় রাতের বেলা সক্রিয় হয়ে উঠছে পুকুরখননকারী চক্র। দিনের বেলায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে জরিমানা, আটক ও স্কেভেটর মেশিন অকেজো করার ঝুঁকি এড়াতে এবারে পুকুরখনন সিন্ডিকেট রাতকে বেছে নিয়েছে। গ্রামের শান্ত পথে দেখা দিয়েছে অস্বাভাবিক যান চলাচল। এতে গাড়ির শব্দে ও মাটি ভারির কম্পনে নির্ঘম রাত কাটছে পুকুরখনন এলাকার জনগণের। মাটির অনেক ওজন হওয়ায় ভেঙ্গে যাচ্ছে গ্রামীণ সরু রাস্তাগুলো। এছাড়াও ধুলিকণায় দেখা দিয়েছে বিভিন্ন রোগ। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিদের শ্বাসকষ্ট দেখা দিয়েছে।
আর ৫ আগস্টের পর থেকে এক শ্রেণির মানুষ একটি রাজনৈতিক দলের নাম ভাঙিয়ে দেদারসে তিন ফসলি জমিতে পুকুর খনন করে চলেছে। ওই দলের নেতারা ওপরে এর দোষ ওর দোষ দিলেও রাতে সব এক।
অভিযোগ থেকে জানা যায়, কাটাখালী থানার হরিয়ান ইউনিয়নের রনহাটপূর্বপাড়া দিগড়ীয়া বিলে প্রায় ২০ বিঘা জমিতে ১২ মার্চ থেকে পুকুর খনন হচ্ছে। উপজেলা প্রশাসন কয়েক আগেই পুকুরখননের দায়ে একলাখ টাকা জরিমানা করা হয়। কিন্তু খনন থেমে নেই। পুকুরটি খনন হলে এলাকার অপূরনীয় ক্ষতি হবে। স্থায়ী জলাবদ্ধতা দেখা দিবে। এব্যাপারে এলাকাবাসী মূলতঃ তিনজন জড়িত বলে উল্লেখ করেন। অপর আবেদন থেকে জানা যায়, উপজেলার বড়গাছি, শুভিপাড়া, কাঞ্চিয়াপাড়া এলাকায় বেপরোয়াভাবে চলছে পুকুরখনন। এই এলাকায় পুকুরখননের মুল হোতা হচ্ছে মুরাদ আলী ও মো. আব্দুল মান্নান। ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে স্কেভেটর মেশিন অকেজো করা হলেও তাদেরকে খননকার্য বন্ধ করা সম্ভব হয়নি। তারা মারপিটসহ মামলায় ফাঁসানোর হুমকী দেয়। এসব জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তির দাবিতে ও ফসলি জমি বাঁচাতে জেলা প্রশাসকসহ উর্ধ্বতন কর্তা ব্যক্তির দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফারজানা তাসনিম বলেন, কৃষি জমি নষ্ট করে পুকুর খনন সম্পূর্ণরূপে অবৈধ। তার পরও যেসব স্থানে পুকুর খননের খবর পাওয়া যাচ্ছে সেখনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এসল্যিান্ড অভিযান চালাচ্ছেন। তবে পুকুর খনন বন্ধে জনগণকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরাফাত আনাম আজিজ বলেন, শ্রেণি পরিবর্তন করে পুকুর খনন সম্পূর্ণভাবেই অবৈধ। পুকুরখননবন্ধে অভিযান চালানো হচ্ছে। উপজেলার যে প্রান্তেই পুকুর খননের সংবাদ পাওয়া যাচ্ছে সেখানেই অভিযান পরিচালনা করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। হরিয়ানের যে পুকুরের অভিযোগ হয়েছে-কয়েকদিন আগেই সেটাই একলাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তবে সামাজিক ও রাজনৈতিক সচেতনতা ও উদ্যোগ খুবই জরুরী।
এদিকে পবাতেই নয়-রাজশাহীতে নির্বিচারে কৃষি জমিতে চলছে পুকুর খনন। কৃষি জমিতে পুকুরখননের মাটি দিয়েই করা হচ্ছে ইটভাঁটি। উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও থেমে নেই পুকুর খনন ও ইটভাঁটি নির্মাণ। নানাভাবে স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে চলছে এসব অবৈধ কাজকারবার। এ কারণে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে ফসলি জমি। খোজ নিয়ে জানা গেছে, থানা পুলিশকে বলেই (ম্যানেজ) চলছে পুকুরখনন।