বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
মেহেদি হাসান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ: চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ আদিনা ফজলুল হক সরকারি কলেজের প্রশাসনিক ভবনের ভগ্নদশা চরমে পৌঁছেছে। প্রাচীন এই ভবনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দায়িত্ব পালন করছেন অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ সহ কর্মচারীরা।
১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দে বিশিষ্ট সমাজসেবক ও রাজনীতিবিদ ইদ্রিশ আহমদ মিয়ার প্রচেষ্টায় আদিনা ফজলুল হক কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। সুদীর্ঘ ৮৭ বছরে এই প্রতিষ্ঠানটি এলাকার উচ্চ শিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। এই কলেজে বর্তমানে উচ্চ মাধ্যমিক, স্নাতক (পাস) ও স্নাতক। সম্মান কোর্স চালু রয়েছে।
কলেজের প্রবীণ শিক্ষার্থী লোকমান হাকিম জানান, তিনি ১৯৭৩ সালে এই কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন ভবনটি তারও আগে নির্মিত। হাকিম আরো জানান, তিনি এই কলেজে প্রধান সহকারী হিসেবে গত ২০১৬ সালে কর্মজীবন শেষ করেছেন। কর্মজীবনে কয়েকবার তিনি এই ভবন পরিত্যক্ত হবে বলে পদক্ষেপ গ্রহণের কথা শুনেছেন। কিন্তু বাস্তব কোন পদক্ষেপ গৃহীত হয়নি।
কলেজের এই ভবনে অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষের কক্ষ ছাড়াও মোট ১২টি কক্ষ রয়েছে। এই কক্ষগুলো প্রধান সহকারী ও অফিস সহকারীবৃন্দে অফিস, হিসাব বিভাগ, গ্রন্থাগার, কম্পিউটার ইউনিট, ছাত্রী কমনরুম, মহাফেজখানা ও আদিনা কলেজ ডাকঘর হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
ভবনটির ভগ্নদশা সম্পর্কে অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. সৈয়দ মোজাহারুল ইসলাম বলেন, বিগত শতাব্দীর ষাটের দশকে নির্মিত অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এই ভবনে দায়িত্ব পালন করা বিপদজনক। কিন্ত পুরো প্রশাসন পরিচালনা করতে যে পরিমান কক্ষের প্রয়োজন তা কোনভাবেই অন্যভবনে ব্যবস্থা করা সম্ভব নয়। তাই এই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই অফিস চালাতে হচ্ছে।
ভবনের ছাদের পলেস্তারা দীর্ঘদিন যাবত খসে খসে পড়ছে ইতোমধ্যে কয়েক দফা মেরামত করা হয়েছে। বারান্দার পিলারগুলো ফেটে গেছে, সেগুলো খুলে পড়ছে। কলেজে সম্প্রতি ৩টি নতুন ভবন তৈরি হয়েছে।
একটি বিজ্ঞানভবন এবং একটি ছাত্রাবাস ও একটি ছাত্রীনিবাস। প্রশাসনিক ভবন নির্মাণের বিষয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর আবেদন জানানো হলেও কোন বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গৃহীত হয়নি। কলেজের সার্বিক কল্যাণার্থে জরুরিভিত্তিতে প্রশাসনিক ভবন নির্মাণে প্রয়োজন বলে অভিজ্ঞমহল মনে করেন।