আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচনের ব্যবস্থা না করলে কঠোর আন্দোলন: মিনু

স্টাফ রিপোর্টার :

বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার অন্যতম উপদেষ্টা রাসিকের সাবেক মেয়র ও এমপি মিজানুর রহমান মিনু বলেছেন, বর্তমান অন্তবর্তীকালিন সরকার বলেছিলেন, ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন দিয়েই জনপ্রতিনিধির দ্বারা দেশ পরিচালিত হবে। কিন্ত এখন দেখি আপনাদের কারও কারও সুর উল্টা।  বৃহস্পতিবার রাজশাহী মহানগরীর ৩০ নং ওয়ার্ড বিএনপি (দক্ষিণ) কর্তৃক আয়োজিত বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার রোগ মুক্তি ও সুস্থতা কামনায় দোয়া ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

তিনি আরো বলেন, আমাদের নেতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিল আমরা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করেছি। আমরা এরশাদকে বিদায় করেছি ও স্বৈরশাসক খুনি হাসিনাকে বিদায় করতে গিয়ে আমরা আমাদের জীবনের সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছি। এই অবস্থা যদি চলতে থাকে তাহলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি আগামী দিনে জনগনকে নিয়ে গণতন্ত্রকে রক্ষা, দেশকে রক্ষা ও মানুষের ক্রয় ক্ষমতা ফিরিয়ে আনার জন্য আমরা যেকোনো সময় যেকোনো সংগ্রামের মধ্যে আবার অতীতের স্বৈচারদের যেমন বিদায় করেছি। আমরা চাইবো নির্বাচন কমিশনের ব্যাপারে বর্তমান সরকারের যে দায়িত্ব আছে সেটি পালন করবেন। নির্বাচন কমিশন অতিসত্ত্বর ডিসেম্বরের মধ্যেই জাতীয় সংসত নির্বাচনের ঘোষণা করে মানুষের সেবা করার সুনিশ্চিত করবেন।

 

 

মিনু আরো বলেন, আজকের এই দোয়া ও ইফতার মাহফিলে আমি শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সাহেবকে। যার আহবানে বাংলাদেশের সর্বস্তরের জনগন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন এবং বিজয় অর্জন করেছিলেন। আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি আমাদের মা বাংলাদেশ। সেই মায়ের প্রতিকী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তিনি যখন হাসেন, তখন সারা বাংলাদেশ হেসে উঠেন। তিনি যখন দুঃখ পান, তখন দেশের সর্বস্তরের মা ও ভাইবোনেরা কষ্টে থাকেন। গণতন্ত্রের মুক্তির আন্দোলনের প্রধান, গণতন্ত্রের প্রবক্তা আমাদের প্রিয় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে আল্লাহ যেন সুস্থতা দান করেন। আমাদের এই দীর্ঘ ১৭ বছর স্বৈরাচার খুনি হাসিনার আওয়ামী সরকারের বিরুদ্ধে লাগাতার আন্দোলন সংগ্রামে বিএনপি ও দেশের মানুষকে নিয়ে যিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন আমাদের প্রিয় নেতা তারেক রহমান সাহেব। তিনিও ইনশাআল্লাহ অল্প সময়ের মধ্যেই মাকে নিয়ে সন্তান দেশের মাটিতে ফিরে আসবে। বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষকে নিয়ে নতুন জাগরণে বাংলাদেশকে আবার গড়ে তুলবে।

 

যারা এই অঞ্চলের মানুষ অনেকেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্টিত করার সময় জায়গা-জমি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছেন। আমি প্রশাসনকেও বলেছি আগামী দিনে যারা ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার তাদের কর্মসংস্থান যেন হয়। বিএনপি সরকারের সময় আমরা করেছি, আগামি দিনেও আমরা করবো।

 

ইফতার মাহফিলস্থল মির্জাপুর স্কুল নিয়ে তিনি বলেন, আমি খুব আনন্দ পাচ্ছি, এত সুন্দর পরিবেশ। আল্লাহ যদি আমাদের সুযোগ দেয় ভবিষ্যতে তাহলে এই স্কুলের যে সমস্যাগুলি আছে অতীতেও আমরা নিজের করে দেখিছি আগামি দিনেও দেখবো। আমরা এখানে বড় ভবন তুলে এই এলাকার সবচাইতে সুন্দর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যেন আরও সুপ্রতিষ্ঠিত হয় তার সকল ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করবো।

 

আজকের এই দিনে বলতে চাই, আজকে যখন আমরা ইফতার ও দোয়া মাহফিলে জমায়েত তখন বাংলাদেশের অবস্থা ভালো নয়। ছাত্রজনতার আন্দোলনের মাধ্যমে খুনি হাসিনাকে বিদায় করা হয়েছে। ১৭ বছর ধরেই আমাদের আপোষহীন নেতা তারেক রহমান দেশের মানুষকে নিয়ে মাঠে ছিলেন। আন্দোলনে বিএনপির হাজার হাজার নেতাকর্মী জীবন উৎসর্গ করেছে। লাখ লাখ নেতাকর্মী জেল খেটেছেন। অনেক নেতাকর্মী গুম হয়েছেন যাদের খোঁজ এখনও নাই। পরিবর্তনের পরও আজ বাংলাদেশর মানুষের খাদ্যের কষ্ট, চালের দাম বৃদ্ধি, তেলের দাম বৃদ্ধি, চিনির দাম বৃদ্ধি, বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি, গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি ও ওষুধের মূল্য বৃদ্ধি।

বিশেষ অতিথি ছিলেন, রাবি জিয়া পরিষদের সভাপতি প্রফেশন ডঃ এনামুল হক, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সভাপতি প্রফেসর ড. আব্দুল আলিম, জিয়া পরিষদ রাজশাহী মহানগরের সভাপতি প্রফেসর ড. মোঃ আখতার হোসেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের প্রফেসর ডঃ মুহাম্মদ নেছার উদ্দিন, রাজশাহী মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি আবুল কালাম আজাদ সুইট। সভাপতিত্ব করেন, ৩০ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ শুকুর আলী। এই দোয়া ও ইফতার মাহফিলে ওয়ার্ড বিএনপির নেতাকর্মী ছাড়াও সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। ইফতার মাহফিল থেকে মৃত্যুবরণ করা নেতাকর্মীদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় দোয়া করা হয়।

সানশাইন / শামি


প্রকাশিত: মার্চ ১৩, ২০২৫ | সময়: ৮:৪৬ অপরাহ্ণ | Daily Sunshine