, , ।
স্টাফ রিপোর্টার, বাগমারা ও মান্দা প্রতিনিধি: অবৈধভাবে গড়ে ওঠা রাজশাহীর বাগমারার চারটি ইটভাটায় অভিযান চালানো হয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের সদর দপ্তর ও রাজশাহীর যৌথ উদ্যোগে অভিযানে ইটভাটাগুলো গুড়িয়ে দিয়েছে। সোমবার সকাল থেকে শুরু হয়ে বিকেল পর্যন্ত এই অভিযান চলে। তবে অভিযানকালে কোন ইটভাটা মালিককে পাওয়া যায়নি। নওগাঁর মান্দায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে মেসার্স ভাই ভাই ব্রিকস নামের একটি ইটভাটা ভেঙে গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। পরিবেশগত ছাড়পত্র ও লাইসেন্স না থাকায় সোমবার দুপুরে নওগাঁ-রাজশাহী মহাসড়কের নীলকুঠি এলাকায় অবস্থিত ইটভাটাটি ভেঙে দেওয়া হয়।
বাগমারায় সোমবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে অভিযান শুরু হয়। প্রথমে শুভডাঙ্গা ইউনিয়নের বিগোপাড়ায় গড়ে ওঠা ‘এস ই এ এম’ বিকস নাামের ড্রামচিমনির ইটভাটায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানে পরিবেশ অধিদপ্তরের ঢাকা এবং রাজশাহীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে সেনাবাহিনী, র্যাব, পুলিশ ও ফায়ারসার্ভিসের লোকজন অংশ নেন। ফায়ারসার্ভিসের লোকজন পানি ছিটিয়ে আগুন নেভায়। পাশাপাশি ড্রামচিমনির ইটভাটাটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। তবে অভিযান দলের আসার খবর পেয়ে ভাটা মালিক সফিফুল ইসলাম ও শ্রমিকেরা সটকে পড়েন।
পরে দেড় কিলোমিটার দূরে শালমারায় নামক স্থানে অবস্থিত ‘এমএনকে’ নামের আরেকটি ড্রামচিমনির ইটভাটায় একই ভাবে অভিযান চালানো হয়। তবে অভিযানের খবর পেয় ওই ভাটার মালিক নূরন্নবী ইটভাটার উপরে থাকা ড্রামের অংশ খুলে ফেলেন।
অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া পরিবেশ অধিদপ্তর রাজশাহীর সহকারী পরিচালক কবির হোসেন বলেন, তাদের এই অভিযান গোটা জেলায় অব্যাহত থাকবে। পরিবেশ আইন অমান্য করে ড্রামচিমনির ইটভাটাগুলো তৈরি করা হয়েছিল।
এদিকে মান্দা প্রতিনিধি জানায়, নওগাঁর মান্দায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে মেসার্স ভাই ভাই ব্রিকস নামের একটি ইটভাটা ভেঙে গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। পরিবেশগত ছাড়পত্র ও লাইসেন্স না থাকায় সোমবার দুপুরে নওগাঁ-রাজশাহী মহাসড়কের নীলকুঠি এলাকায় অবস্থিত ইটভাটাটি ভেঙে দেওয়া হয়।
নওগাঁ জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মনিরুজ্জামান ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পরিবেশগত ছাড়পত্র ও লাইসেন্স ছাড়াই মেসার্স ভাই ভাই ব্রিকসের মালিক রফিকুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে ইট নির্মাণ ও পোড়ানোর কাজ করে আসছিলেন। এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে ওই ইটভাটায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানকালে এস্কেভেটর দিয়ে ভাটার চিমনি ভেঙে দেওয়া এবং ফায়ার সার্ভিসের সাহায্যে পানি দিয়ে আগুন নিভিয়ে দেওয়া হয়।
এ সময় নওগাঁ জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাকিব বিন জামান, পরিবেশ অধিদপ্তর নওগাঁর সহকারী পরিচালক নাজমুল হোসাইন উপস্থিত ছিলেন। সেনাবাহিনী, আনসার ও ফায়ার সার্ভিস অভিযান পরিচালনা কাজে সহায়তা করেন।