স্টাফ রিপোর্টার, দুর্গাপুর:
রাজশাহীর দুর্গাপুরে প্রতিপক্ষের হামলায় গুরুতর আহত মকবুল হোসেন (৪০) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এদিকে মকবুল হোসেনের মৃত্যুর সংবাদ এলাকায় পৌঁছালে ওই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ফের হামলা পাল্টা হামলার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। এর আগের দিন হামলা পাল্টা হামলায় উভয় পক্ষের আরও ৫ জন আহত হন। বিয়ের দাবিতে এক নারীর অনশনকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে এই হামলা পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
গুরুতর আহত মকবুল হোসেন রাজশাহী নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন ছিলেন। মঙ্গলবার বিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা গেছেন বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছেন।
গত সোমবার (১৪ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলার দেলুয়াবাড়ি ইউনিয়নের আমগ্রাম (আমচত্বর) মোড়ে এই হামলার ঘটনা ঘটে। নিহত মকবুল হোসেন আমগ্রাম এলাকার মৃত বেশারত আলীর ছেলে।
জানা গেছে , গত সোমবার উপজেলার আমগ্রাম মোড়ে প্রতিপক্ষের সাথে সংঘর্ষে জড়ান যুবদল নেতা আহাদের অনুসারীরা। এ সময় উভয় পক্ষের অন্তত ৫ জন আহত হন। হামলায় গুরুতর আহত মকবুল হোসেনকে প্রথমে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। রামেক হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসকরা মকবুল হোসেনকে আইসিইউতে নেওয়ার পরামর্শ দেন। রামেক হাসপাতালের আইসিইউতে বেড সংকুলান না হওয়ায় বেসরকারি সিডিএম হাসপাতালে নেয়া হয় মকবুল হোসেনকে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার বিকেলে মকবুল হোসেন মারা যান।
পুলিশ ও স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, সোমবার রাতে এশার নামাজ শেষে কথিত প্রেমিক ইসমাইলের বাড়িতে বিয়ের দাবিতে এক নারীর অনশনকে কেন্দ্র করে যুবদল নেতা আব্দুল আহাদের সমর্থকদের সাথে মকবুল হোসেনের কথা কাটাকাটি হয়। বাক-বিতন্ডার এক পর্যায়ে মকবুল হোসেনের উপর হামলা চালায় আব্দুল আহাদের সমর্থকরা। এ সময় মকবুলসহ বেশকয়েকজনকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করা হয়।
নিহত মকবুল হোসেনের স্বজনরা জানায় , মকবুলের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ধারালো অস্ত্রের আঘাত দেখেছি। স্থানীয় যুবদল নেতা আহাদের লোকজনের অর্তকিত হামলায় ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মকবুলের মৃত্যু হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, যুবদল নেতা আব্দুল আহাদের অনুসারী আলামিন, শহিদুল, সাহাবুর, রিপন, মেহেদী, হবিবর, ইসমাইলসহ অনেকে এ ঘটনার সাথে জড়িত। ঘটনার সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তির দাবি জানান তারা।
হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে যুবদল নেতা আব্দুল আহাদের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
দুর্গাপুর থানার সেকেন্ড অফিসার (এসআই) ইব্রাহিম হোসেন জানান , দু’পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় মকবুল নামের এক ব্যাক্তি মারাত্মক আহত হয়ে বেসরকারী একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু বরণ করেছেন। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে, এই ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ ও দলীয় কেউ এই ঘটনার সাথে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধেও কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ।
উপজেলা বিএনপি’র আহবায়ক কামরুজ্জামান আয়নাল ও সদস্য সচিব অধ্যাপক জোবায়দ হোসেন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে দলীয় অবস্থান ব্যাখ্যা করে ঘটনার সুষ্ঠ তদন্তের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
এমনকি বিরোধী দলের কেউ এই ঘটনার সাথে জড়িত রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি গঠণ করা হবে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
সানশাইন /রবি/শামি