বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
স্টাফ রিপোর্টার, মোহনপুর: ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে টানা ২ বছর মহামারি কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়ে পুরো বিশ্বে ছিল প্রায় অচল, যা করোনাভাইরাস হিসেবে পরিচিত। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের সঙ্গে দেনদরবার করে বাংলাদেশের জনগণকে বাঁচাতে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে সরকার করোনা ভ্যাকসিনের ব্যবস্থা করে। আর এতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভ্যাকসিন দেয়ার কাজে অংশ নিয়েছিলেন, স্বাস্থ্য সহকারী, পরিবার কল্যাণ সহকারী, পরিদর্শক, স্বেচ্ছাসেবক, পোর্টারসহ হাজার হাজার মানবিক কর্মী।
২০২১ সালের ৭ ফেব্রুয়ারী থেকে কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন কার্যক্রম সারা দেশে উপজেলা পর্যায় শুরু হয়। প্রতি ইউনিয়নে ৭২ দিন টিকা কার্যক্রমের বিল আসে। অথচ প্রতি ইউনিয়নে ৫ থেকে ৭ দিন কোভিড-১৯ টিকা কার্যক্রম চলমান ছিল। কিন্তু ৭২ দিনের পুরো বিল উত্তোলন করা হয়। বিল উত্তোলনে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিসার মোঃ মাকিম, ডাঃ শরিফা বেগম এর স্বাক্ষর জাল করা হয়। কোভিড-১৯ টিকা সুপারভিশন ভ্রমন বাবদ ১ লক্ষ ৮ হাজার টাকা তাদের স্বাক্ষর জাল করে উত্তালন করা হয়। এমনকি টিকাদানকারী ও সেচ্ছাসেবীদের আপ্যায়ন বিল বাবদ ৭ লক্ষ ৩ হাজার ৭ শত ২৮ টাকা উত্তোলন করা হয়। তৎকালিন খাদ্য সরবরাহকারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্মচারী নুর মোহাম্মদ কে ম্যানেজ করে নুর মোহাম্মদ কুক নামে ১৬ টি ভূয়া ভাউচার তৈরী করে এ টাকা উত্তোলন করা হয়।
তবে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মাকিম এবং ডাঃ শরিফা বেগম(মেডিকেল অফিসার)কে কোন টাকা না দিয়ে স্বাক্ষর জাল করে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ আরিফুল কবীর এবং মেডিকেল টেকনোলজিস্ট এমটি (ইপিআই) আলমগীর হোসেন এই অর্থ আত্মসাত করেন। আলমগীর হোসেন (এমটি-ইপিআই) হিসেবে এবং পরিসংখ্যান হিসেবে করোনা বিল উত্তোলন করে।
সরজমিনে গিয়ে কথা বলে জানা গেছে, ওয়ার্ড পর্যায়ে ইপিআই পরিবহন ভাতা নিয়ে প্রাপ্যদের মাঝে বিতরণের পর পরই বৈষম্যের অভিযোগ উঠেছে। আর এই অভিযোগ মোহনপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট এমটি (ইপিআই) আলমগীর হোসেন বিরুদ্ধে।
এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে সেই সময়ে স্বাস্থ্য সহকারী জুয়েল হোসেন, আব্দুর রাজ্জাক, হাসিনা, রুমি খাতুন, শেফালী খাতুন, মার্জিনা, আঃ কাদের, রোজিনা- মহাপরিচালক স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, মহাখালী বরাবব লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগ থেকে জানা গেছে, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট আলমগীর হোসেন ২০১৮ থেকে ২০২১ ইং পর্যন্ত কর্মরত থাকাকালীন সময়ে ডিস্ট্রিবিবউশন পয়েন্ট থেকে সাব ব্লক টিকা কেন্দ্রের পরিবহন বিল কম দেওয়া, বর্তমানে তা অব্যাহত রয়েছে। তা ছাড়াও তিনি কর্মচারিদের সাথে কর্কষ ভাষায় কথা বলেন বলে জানা গেছে। চাকুরী বরখাস্তসহ বিভিন্ন ভযর্ভীতি দেখিয়ে অভিযোগ প্রত্যাহারের জন্য চাপ প্রয়োগ করে। ২০২২ ইং সনের ১২ মার্চ অভিযোগকারিদের বিরুদ্ধে অফিস প্রধানকে ম্যানেজ করে কৈফিয়ত তলব করা হয় । ১৫ মার্চ অভিযোগকারী স্বাস্থ্য সহকারীগণ অভিযোগ প্রত্যাহার করে মহাপরিচালক বরাবর আবেদন করে।
অবসর প্রাপ্ত খাদ্য সরবরাহ কারী নুর মোহাম্মদ সাথে কথা বলে জানা যায় তিনি এত বেশী টাকা খাবার সরবরাহ করেনি মাত্র ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকার খাবার দিয়েছে। যে বিল-ভাউচার তৈরী করা হয়েছে সেগুলো আমার স্বাক্ষর নাই বিল (এমটি-ইপিআই) আলমগীর হোসেন ভূয়া বিল তৈরী করেছেন।
উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মাকিমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, মেডিকেল অফিসার ডাক্তার শরিফা বেগম ও আমি সুপার ভিশনের কোন টাকা পাইনি। আর যে স্বাক্ষর দিয়ে টাকা উত্তোলন করা হয়েছে সে স্বাক্ষরও আমার নয়। তা জাল করা হয়েছে। তিনি উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তদন্ত কামনা করেন।
এছাড়াও ফ্যাসিদবাদ সরকারের সাবেক স্বাস্থ্য মন্ত্রীর সুপারিশক্রমে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট এমটি (ইপিআই) আলমগীর হোসেন আবাও মোহনপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বদলী হয়ে আসেন।
এ বিষয়ে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট এমটি (ইপিআই) আলমগীর হোসেন সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারবো না শুধু স্বাক্ষর করেছি সব কিছু আরিফুল স্যার বলতে পারবে।
সাবেক উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প কর্মকর্তা ডাঃ আরিফুল কবীর সাথে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।