, , ।
মোজাম্মেল হক, লালপুর: নাটোরের লালপুরে রোপা আমন ধানে মাজরা পোকা (ফুতি পোকা) ও কারেন্ট পোকার (বাদামী গাছ ফড়িং) আক্রমণে দিশেহারা হয়ে পড়েছে ধানচাষীরা। এছাড়া পচন রোগও দেখা দিয়েছে। প্রতিদিন কীটনাশক স্প্রে মেশিন পিঠে নিয়ে পাগলের মত ছুটতে দেখা যাচ্ছে চাষীদের। চাষীরা বলছেন, কীটনাশক ওষুধ স্প্রে করে কোন কাজ হচ্ছে না।
উপজেলার রামকান্তপুর, ফরিদপুর, কলসনগর, আহমদপুর, কুজিপুকুর, পাটিকাবাড়ি ও কালুপাড়া গ্রামের সড়কে ও সড়কের পাশে দেখা যায় কৃষকরা স্প্রে মেশিন পিঠে নিয়ে কেউ ধানখেতে কীটনাশক স্প্রে করতে যাচ্ছেন আবার কেউ কীটনাশক স্প্রে করে বাড়ি ফিরছেন। কেউ কেউ ধান খে তে কীট নাশক ওষুধ স্প্রে করছেন।
উপজেলার রামকান্তপুর গ্রামের হাফিজুর রহমান, কুজিপুকুর গ্রামের ইয়াকুব আলী, মনজুরুল ইসলাম, আব্দুস সাত্তার, আমিরুল ইসলাম, আব্দুল আলিম, কালুপাড়া গ্রামের মজির উদ্দিন ও আনারুল ইসলাম, ফরিদপুর গ্রামের সানাউল হক সহ ১২/১৩ জন কৃষক বলেন, ‘ধান ক্ষেতে ব্যপকহারে পচন রোগ, মাজরা ও কারেন্ট পোকার আক্রমণে ধানের শীষ ও পাতা শুকিয়ে যাচ্ছে। কীটনাশক ওষুধ স্প্রে করে কোন কাজ হচ্ছে না।’ কীটনাশক বিক্রেতাদের পরামর্শে ধানখেতে এক সাথে ২/৩টি করে ওষুধ স্প্রে করছেন তারা।
কুজিপুকুর গ্রামের নুর মোহম্মদ বলেন, ‘আমি কয়েক দিন আগে ৪ বিঘা ধানের জমিতে আড়াই হাজার টাকার বিষ দিয়েছি। কোন কাজ হয়নি আজ আবার বিষ দিতে হচ্ছে। আমি তো লেখাপড়া জানিনা। দোকানদার যা দেয় তাই নিয়ে ধানে দিই।’
কুজিপুকুর মধ্যপাড়া গ্রামে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর অনুমোদিত কীটনাশক বিক্রেতা রুবেল আলী জানান, তিনি ধানচাষীদের মুখে বর্ননা শুনে ধানখেতে প্রয়োগের জন্য ওষুধ দিয়ে থাকেন। দু’একজন চাষী এ এলাকার দায়িত্বে থাকা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ মত কীটনাশক ব্যবহার করেন।
ওই এলাকায় কর্মরত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মনোয়ার হোসেন বলেন, ‘ধান খেতে পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছে। তবে ব্যপক হারে নয়। চাষীরা আতংকিত হয়ে ওষুধ কোম্পানির লোকেদের পরামর্শে কীট নাশক ব্যবহার করেছেন।’
উপজেলা কৃষি অফিসার প্রীতম কুমার হোড় বলেন, ‘ধানখেতে কি ধরণের পোকার আক্রমণ হয়েছে তা নিশ্চিত হয়ে কীট নাশক ওষুধ ব্যবহার করার জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।’ তিনি জানান, বর্তমানে দিনে গরম, রাতে ঠান্ডা ও সকালে কোয়াশার মত বৈরী আবহাওয়ায় ধান গাছে ব্লাস্ট রোগের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এব্যাপারে আমরা সতর্ক রয়েছি।