বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
বড়াইগ্রাম প্রতিনিধি: নাটোরের বড়াইগ্রামে বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার চুরি একটি নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। চুরি করতে গিয়ে ঘটছে দুর্ঘটনা। সম্প্রতি বিদ্যুৎস্পর্শে দুই জন নিহতও হয়েছে। এরপরও চুরি বন্ধ হচ্ছে না। কেন চোর চক্রকে ধরা যাচ্ছে না বা থামানো যাচ্ছে না এ প্রশ্নের যেন কোন উত্তর নেই।
ক্ষতিগ্রস্থরা জানান, চুরি হওয়ার পর সেচের ক্ষেত্রে চুরি হওয়ার পর পুরো দাম দিয়েই নতুন ট্রান্সফরমার নিতে হয়। অন্যান্য ক্ষেত্রে নতুন ট্রান্সফরমার লাগাতে গ্রাহককে প্রথমবার অর্ধেক ও দ্বিতীয়বার চুরি হলে পুরো দাম দিতে হয়। চুরি হওয়ার পর টাকা জোগাড়ে দেরি হলে ট্রান্সফরমার পেতে দেরি হয়, এতে গ্রাহকের পাশাপাশি ফসল নষ্ট হয়ে ক্ষতি হয় কৃষকেরও।
শুক্রবার ভোর রাতে উপজেলার তিরাইল বিল থেকে তিনটি সেচ পাম্পের ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। তিরাইল গ্রামের মোর্শেদ, খোদেজা খাতুন ও শরিফুল ইসলামের সেচ প্রকল্প থেকে চোরেরা রাতের আঁধারে ট্রান্সফরমারগুলো চুরি করে নিয়ে যায়। সপ্তাহ খানেক আগে শ্রীরামপুরের একটি সেচ প্রকল্প থেকেই তিনটি ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। গত ২৮ ডিসেম্বর গুরুমশৈল চিনিডাঙ্গার বিলে একটি সেচ প্রকল্পের পাহারাদারকে অস্ত্রের মুখে বেঁেধ রেখে তিনটি টান্সফরমার চুরির ঘটনা ঘটেছে।
এভাবে উপজেলার শ্রীরামপুর ও গুরুমশৈল এলাকায় ট্রান্সফরমার চুরি করতে বৈদ্যুতিক খুঁটিতে উঠে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুই চোরের মৃত্যুও হয়েছে। গত তিন মাসে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে সংঘবদ্ধ চোরেরা রাতের আঁধারে বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে মোট ১৩ টি ট্রান্সফরমার চুরি করে নিয়ে গেছে যার দাম কমপক্ষে ১০ লাখ টাকা হবে বলে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি সুত্রে জানা গেছে।
এর মধ্যে সর্বনিম্ন ৪০ হাজার থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৮০ হাজার টাকা দামের টান্সফরমার ছিলো। এদিকে, টান্সফরমার চুরি হলে প্রথমেই বিপাকে পড়েন সংশ্লিষ্ট গ্রাহকরা। তাদেরকেই জরিমানার টাকাটা দিতে হয়।
তিরাইল গ্রামের ভূক্তভোগী সেচ পাম্প মালিক মোর্শেদুল ইসলাম বলেন, পুরো মৌসুম পানি দিয়ে যা লাভ হতো, তার পুরোটাই টান্সফরমার কিনতে চলে যাবে। তাছাড়া পানি দিতে না পারায় কৃষকের জমির রসুন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সে জন্যও কথা শুনতে হচ্ছে।
নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী বিপ্লব কুমার সরকার বলেন, ট্রান্সফরমার চুরি হলে সংশ্লিষ্ট গ্রাহককে নতুন ট্রান্সফরমার কিনতে হয়। আমরা বৈদ্যুতিক খুঁটিতে খাঁচা বসিয়েও দেখেছি, চোরেরা খাঁচা ভেঙ্গে চুরি করে নিয়ে যায়। তাই গ্রাহককে সচেতন হওয়া ও পাহারা দেয়ার বিকল্প নেই।
বড়াইগ্রাম থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাহবুবুর রহমান বলেন, শুক্রবার রাতের ট্রান্সফরমার চুরির ব্যাপারে কোন লিখিত অভিযোগ পাইনি। তবে খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। চুরি রোধে গ্রাহকসহ স্থানীয়দের সজাগ থাকতে হবে। তাছাড়া পুলিশী টহল বৃদ্ধি করা যেতে পারে।