রাজশাহীতে ট্রাক-অ্যাম্বুলেন্স সংঘর্ষ মা-মেয়েসহ নিহত ৩

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার রাজাবাড়ি এলাকায় ট্রাক্রের সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্সের মুখোমুখি সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। সোমবার ভোরে এ ঘটনায় আহত এক নারীসহ তিনজনকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
নিহতরা হলেন, অ্যাম্বুল্যান্স চালক রাজশাহী নগরীর হোসনীগঞ্জ এলাকার জাফর ইকবাল জুয়েল (৪৫), গোদাগাড়ী উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের ঠাকুর জুবন গ্রামের সুন্দরী রানী (৬৫) ও তার মেয়ের আদরী রানী (৩৮)।
গোদাগাড়ী থানার ওসি রুহুল আমিন জানায়, হৃদরোগে আক্রান্ত ঠাকুর জুবন গ্রামের সুন্দরী রানীকে নিয়ে গোদাগাড়ী থেকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যাচ্ছিল অ্যাম্বুলেন্সটি। এ সময় রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহাসড়কের রাজাবাড়ি বিজিবি চেকপোস্টে বিপরিদ দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্সের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
এতে অ্যাম্বুলেন্সটি দুমড়ে মুচড়ে যায়। এ সময় অ্যাম্বুলেন্সের চালক জুয়েলসহ ঘটনাস্থলে তিনজন মারা যান। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা নিহত ও আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। পরে অ্যাম্বুলেন ও ট্রাক রাস্তার উপর থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
ওই দুর্ঘটনায় আহত সুমি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন। একই ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছটফট করছেন সুমির ভাই অসীম মুরালি ও তাঁর বোনের ছেলে সুবেদ মুরালি। তাঁদের বাড়ি গোদাগাড়ী উপজেলার ঠাকুরযৌবন গ্রামে।
এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন সুমির মা সুন্দরী পাহান, বোন আদরী রানী ও গোদাগাড়ী হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্সচালক জাফর ইকবাল (৪৫)। জাফর রাজশাহী নগরের হোসনীগঞ্জ মহল্লার বাসিন্দা।
তাদের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, কয়েক দিন ধরে সুন্দরী পাহান অসুস্থ ছিলেন। রোববার রাত ১২টার দিকে তার কথা বন্ধ হয়ে যায়। তখন তাকে গোদাগাড়ী উপজেলা সরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানকার চিকিৎসক তাকে রামেক হাসপাতালে নেয়ার পরামর্শ দেন। তখন সরকারি অ্যাম্বুলেন্সে করেই সুন্দরী পাহানকে রাজশাহী আনা হচ্ছিল। পথে রাজাবাড়ীহাট এলাকায় একটি ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে অ্যাম্বুলেন্সের সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান রোগীসহ তিনজন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা গিয়ে আহত তিনজনকে হাসপাতালে আনেন।
রামেক হাসপাতালের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সহকারী রেজিস্ট্রার আরাফাত হোসেন জানান, ভর্তি থাকা তিন রোগীরই চেতনার মাত্রা কমেছে। একজন মানুষের স্বাভাবিক চেতনার মাত্রা থাকে ১৫। সুমির এখন মাত্রা ১২। অন্য দুজনের ১৪। মাত্রা তিন হলে মানুষ মারা যায়।
আরাফাত হোসেন বলেন, তিন রোগীরই সিটি স্ক্যান করতে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু হাসপাতালের মেশিনটি এই মুহূর্তে কাজ করছে যান। এসব রোগীকে বাইরে নিয়ে গিয়ে সিটি স্ক্যান করাও খুব ঝুঁকিপূর্ণ।
এদিকে গোদাগাড়ী উপজেলার প্রেমতলী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক এস এম মাকসুদুর রহমান জানান, দুর্ঘটনার পর তিনজনের লাশ উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। চিকিৎসক প্রয়োজন বোধ করলে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠাবেন। না হলে আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। আর দুর্ঘটনার পর ট্রাকের চালক ও সহকারী পালিয়েছেন। ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে। এ নিয়ে থানায় সড়ক পরিবহন আইনে মামলার প্রস্তুতি চলছে।


প্রকাশিত: মার্চ ৪, ২০২৫ | সময়: ৭:৪৬ পূর্বাহ্ণ | সুমন শেখ