, , ।
স্টাফ রিপোর্টার: উদ্যোক্তা মানে শুধু ব্যবসা নয়, এটি এক দৃষ্টিভঙ্গি। নতুন কিছু গড়ে তোলার স্বপ্ন। রাজশাহী কলেজের সমাজকর্ম বিভাগের মাস্টার্স শিক্ষার্থী ঐশী সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিয়েছেন। রাজশাহীর মুক্তমঞ্চে ‘কবির’স মোমো’ নামে একটি ফুড স্টল চালু করে তিনি নিজের ক্যারিয়ারের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছেন। ঐশীর জন্ম ও বেড়ে ওঠা নওগাঁ জেলায়। বর্তমানে তিনি রাজশাহীর একটি মেসে থাকেন। রাজশাহী কলেজ থেকে সমাজকর্ম বিভাগে গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করার পরই উদ্যোক্তা হওয়ার চিন্তা তাঁর মাথায় আসে।
ঐশী বলেন,”অনার্স শেষ করার পর বাসা থেকে টাকা নেওয়া আমার কাছে খারাপ লাগছিল। বিশেষ করে আমার বাবা ২০২১ সালে মারা যাওয়ার পর পরিবারের সমস্ত খরচ মা বহন করছিলেন। মা একজন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। আমার ছোট বোনও রয়েছে। তাই ভাবলাম, যদি নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারি, তাহলে হয়তো মায়ের কষ্ট কিছুটা কমবে। এই ভাবনা থেকেই আমার ব্যবসা শুরু করা।”
ঐশীর জন্য এই ব্যবসার অভিজ্ঞতা বেশ ইতিবাচক। নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার পাশাপাশি প্রতিদিন নতুন কিছু শিখছেন তিনি। “এখনো দুই মাস হয়নি, এর মধ্যেই অনেক মানুষের ভালোবাসা পেয়েছি। যদি কোনো কারণে দোকান না খুলতে পারি, তাহলে মানুষ নক দিয়ে জানতে চায় কেন দোকান খোলা হয়নি। এটা আমার জন্য বড় আনন্দের বিষয়,”বললেন ঐশী। ঐশী প্রতিদিন বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত স্টলে বসেন। এ সময়ের মধ্যেই ১০০-১৫০ পিস মোমো বিক্রি হয়। তবে সামনে গরমকাল আসায় নতুন নতুন আইটেম যুক্ত করছেন তিনি। ঐশী বলেন, “আমরা ছাত্র, তাই চাই না সবাইকে হাই-প্রাইজ রেস্টুরেন্টে গিয়ে খেতে হোক। আমি চাই, এখানে সবাই রিজনেবল দামে খাবার উপভোগ করতে পারে।
প্রাথমিকভাবে ব্যবসা করতে কিছু চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছে ঐশীকে। “আগে এখানে ব্যবসা করতে হলে চাঁদা দিতে হতো, তবে ৫ আগস্টের পর থেকে সেটি আর দিতে হয় না। তবে আমি একজন শিক্ষার্থী হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রেই কিছুটা ছাড় পেয়েছি,”বললেন তিনি।
ঐশীর সহপাঠীরা তাঁকে দারুণ সমর্থন দিচ্ছেন। কলেজে কোনো মেলা হলে বন্ধুরাই স্টল নিতে তাঁকে উৎসাহিত করেন।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে ঐশী বলেন, “আমি ভবিষ্যতে একজন আইনজীবী হতে চাই। তবে পাশাপাশি আমার এই ফুড বিজনেসটিকেও বড় করে তুলতে চাই, যেন একদিন এটি একটি বড় রেস্টুরেন্টে পরিণত হয় এবং আরও বেশি মানুষের কাছে আমার খাবার পৌঁছাতে পারে।”
রাজশাহী কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের মাস্টার্স শিক্ষার্থী মো. রায়হান প্রাং বলেন,”ঐশী যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। শিক্ষার্থীদের মধ্যে এমন আত্মনির্ভরশীল মানসিকতা খুব কম দেখা যায়। আমি বিশ্বাস করি, সে ভালো কিছু করবে, কারণ তার আত্মবিশ্বাস ও উদ্যোগ সত্যিই অনুকরণীয়।”
রাজশাহীর মুক্তমঞ্চে ‘কবির’স মোমো’ এখন শুধু একটি ফুড স্টল নয়, বরং তরুণদের জন্য অনুপ্রেরণার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে। ঐশীর এই যাত্রা প্রমাণ করে যে সংকল্প আর পরিশ্রম থাকলে স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়া সম্ভব।