, , ।
মিজানুর রহমান, চারঘাট: রাজশাহীর চারঘাটে অবাধে চলছে পাখি নিধন। কীটপতঙ্গের ভেতরে ও খেজুরের রসের পাতিলের নিচে অভিনব কায়দায় বিষ দিয়ে চলছে পাখি শিকার। আর এসব বিষটোপ খেয়ে মারা যাওয়া পাখিগুলো জবাই করে শিকারিরা বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করছে।
পরিবেশবিদরা বলছেন, এভাবে নির্বিচারে পাখি হত্যা চলতে থাকলে একসময় পাখির বিচরণ কমে যাবে, যা পরিবেশের ভারাসাম্য নষ্ট করবে। চিকিৎসকরা বলছেন, বিষ টোপে শিকার করা এসব পাখি খেয়ে মানুষ বিভিন্ন ধরনের জটিল রোগে আক্রান্তসহ মৃত্যুর ঝুকি থাকে।
সরজমিনে জমিনে উপজেলার নিমপাড়া ইউনিয়নে গিয়ে এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এলাকার কয়েকটি সিন্ডিকেট দেদারছে বিষটোপ দিয়ে পাখি নিধন চালাচ্ছে। দিনের বেলায় এসব পাখি শিকারীদের দৌরাত্ত্ব কম দেখা গেলেও রাতের আধারে তারা পাখি শিকার করছেন বেশী। তারা সাদা বক, গো-শালিক, চড়ুই পাখি, ডাহুক ইত্যাদি পাখি খাবারের সন্ধানে মাটিতে আসে। পোকামকড় সহ বিভিন কীটপতঙ্গ খেতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। এ সময় একশ্রেণির পাখি শিকারি পতঙ্গের ভেতরে বিষাক্ত কীটনাশক ঢুকিয়ে ছেড়ে দেয়। সেই পোকাগুলো খেয়ে পাখিরা মাটিতে ঢলে পড়ে। তখন পাখিগুলো ধরে কাছে রাখা ব্লেড, ছুরি দিয়ে জবাই করা হয়।
স্থানীয়রা জানায়, দীর্ঘদিন ধরে বিষটোপ দিয়ে পাখি নিধন করছে অসাধু চক্র। চক্রটি ছোট ছোট মাছ ও গমের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে তা ছড়িয়ে রাখে ধান খেতের পাশে। সেই বিষাক্ত টোপ খাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে অসহায় পাখিগুলো।
পাখি শিকার করা সাদ্দাম, সাব্বির, খালিদ সহ একাধিক শিকারীর দাবি, আমরা শখের বসত পাখি শিকার করি। শুধু আমরাই পাখি শিকার করি এমনটা নয়। আরো অনেকেই পাখি শিকার করে। তবে এখন আমরা পাখি শিকার করি না বলে দাবি করেন তারা।
স্থানীয় স্কুল শিক্ষক শরিফুল ইসলাম বলেন, বন্যপ্রাণী আইন অনুযায়ী গ্রামের অনেক মানুষ এখনও জানে না যে পাখি শিকার দণ্ডনীয় অপরাধ।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, পাখি শিকার করা একটি দণ্ডনীয় অপরাধ। যদি কেউ আইন অমান্য করে পাখি শিকার করে তাহলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উপজেলা কৃষি আল মামুন হাসান জানান, ধানচাষিদের ক্ষতিকর পোকামাকড় দমনে পাখিদের বসার জন্য পাচিংয়ের পরামর্শ প্রদান করা হয়। বাঁশের কঞ্চি, গাছের ডাল বা বাঁশের জটা প্রভৃতি খাড়াভাবে জমিতে পুঁতে পাখি বসার কিংবা আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হয়। ওই কঞ্চিতে পাখি এসে বসে খেতের ক্ষতিকর পোকামাকড় ধরে খায়। এতে কৃষকের কীটনাশক ব্যবহার কম হয়, ফসলও ভালো হয়। তবে নির্বিচারে পাখি হত্যা হলে কৃষকের ফসলের জন্যও হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।
উপজেলা বন কর্মকর্তা মাহাবুুবুর রহমান বলেন, পাখি শিকার সম্পুর্ণরুপে নিষিদ্ধ এবং দন্ডনীয় অপরাধ। এ কাজের সঙ্গে যারাই জড়িত থাকবে তাদের চিহ্নিত করে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।