বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
বড়াইগ্রাম প্রতিনিধি: নাটোরের বড়াইগ্রামের আগ্রান শুটকার ঘাটে বড়াল নদী পারাপারের জন্য নির্মিত ব্রিজটি দুই বছর আগে ভেঙ্গে পড়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিনেও ব্রিজটি পুণঃনির্মাণের উদ্যোগ না নেয়ায় উপজেলার সবচেয়ে বড় ব্যবসা কেন্দ্র মৌখাড়া হাট ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াতসহ কয়েকটি গ্রামের মানুষেরা প্রতিনিয়ত চলাচলে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
স্থানীয়রা জানান, ২০০২-০৩ অর্থ বছরে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের তত্ত্বাবধানে এ ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়। দুই বছর আগে বরেন্দ্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে বড়াল নদী খনন করা হয়। এর কিছুদিন পরই নদীতে বর্ষার পানির স্রোতে ব্রিজের পিলারের নীচ থেকে মাটি সরে গিয়ে ব্রিজটি ভেঙ্গে পড়ে। এতে এলাকার কয়েকটি গ্রামের মানুষের চলাচলের একমাত্র পথ বন্ধ হয়ে যায়।
পরবর্তীতে গ্রামের বাসিন্দা ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের উদ্যোগে ব্রিজের পাশে বাঁশের সাঁকো তৈরি করে নদী পারাপারের ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু বর্তমানে সেটিও নড়বড়ে হয়ে পড়ায় বাই সাইকেল ও পায়ে হেঁটে চলা ছাড়া অন্য কোন যানবাহন চলতে পারে না। এতে আগ্রান সহ কয়েকটি গ্রামের মানুষেরা উপজেলা বৃহৎ ব্যবসা কেন্দ্র মৌখাড়া হাটে কৃষিপণ্যসহ ব্যবসার মালামাল নিতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। এছাড়া জরুরী রোগীসহ শিক্ষার্থীদেরও ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।
মৌখাড়া হাটের ব্যবসায়ী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বড়াল নদীর দক্ষিণে আগ্রান ও উত্তরে মৌখাড়া গ্রাম। এ এলাকার মানুষ মুলত মৌখাড়া হাটে ব্যবসা করে এবং কৃষকেরা তাদের কৃষিপণ্য এ হাটেই বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে। কিন্তু দুই বছর ধরে ব্রিজটি ভেঙ্গে পড়ে থাকায় এসব লোকজন চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
আগ্রান গ্রামের কৃষক ফরিদুল ইসলাম বলেন, আমরা নদী পার হয়ে হাটে ধান, পাট ও রসুনসহ অন্যান্য পণ্য বিক্রি করে সংসার চালাই। কিন্তু ব্রিজটি ভেঙ্গে পড়ায় আমাদেরকে মালামাল নিয়ে প্রায় ৩-৪ কিলোমিটার ঘুরে হাটে যেতে হয়।
মৌখাড়া ইসলামিয়া ডিগ্রী কলেজের শিক্ষার্থী জান্নাতুন নাইম তোবা জানান, আগে ব্রিজ দিয়ে নির্ভয়ে নদী পার হয়ে মাদরাসায় যেতাম। এখন যে কোন সময় দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কায় বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপারে খুব ভয়ে থাকি।
মৌখাড়া ইসলামিয়া মহিলা ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ লুৎফর রহমান বলেন, এ ব্রিজ পার হয়ে নদীর ওপারের শিক্ষার্থীরা এপারের একটি কলেজ, দুটি হাইস্কুল, দুটি দাখিল মাদরাসা ও একাধিক হাফেজিয়া মাদরাসায় পড়াশুনা করে। কিন্তু নড়বড়ে বাঁশের সাঁকোয় তাদেরকে ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হতে হয়।
মাঝগাঁও ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল আজাদ দুলাল বলেন, এখানে একটি নতুন ব্রিজ নির্মাণের জন্য সে সময়েই এমপি মহোদয়সহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেছিলাম। কিন্তু কাজ হয়নি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে দ্রুত ব্র্র্র্র্র্র্রিজ নির্মাণের উদ্যোগে নেবো।