, , ।
স্টাফ রিপোর্টার :
রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের ৩০ টি ওয়ার্ডে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা দিন দিন বাড়ছেই। মশার যন্ত্রণায় অতিষ্ট জনজীবন, দিন ও রাতে মশার ভোগান্তি এখন যেন নিত্য দিনের ঘটনা। নগরবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায় সবচেয়ে বেশি মশা নিয়ে ভোগান্তিতে রয়েছে বৃদ্ধ শিশু ও শিক্ষার্থীরা। তাদের অভিযোগ মশার বিস্তার নিরসনে রাসিকের পদক্ষেপ কার্যকরী হচ্ছে না।
নগরবাসীর অভিযোগ, দিনের চেয়ে সন্ধ্যা হলেই নেমে আসে মশার যন্ত্রণা। সন্ধ্যার পরে মশারির বাইরে থাকলেই খেতে হচ্ছে মশার কামড়। স্কুল-কলেজ, রাস্তা-ঘাট, হাটবাজার, অফিস আদালতে মশার বিস্তার হয়েছে পূর্বের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি।
নগরীর নওদাপাড়া এলাকার সম্রাট হোসেন নামের এক বাসিন্দা এই বিষয়ে অভিযোগের সুরে বলেন, “মশার অত্যাচারে এখন আমাদের টিকে থাকাই মুশকিল। সন্ধ্যা নামলেই মশারির ভিতরে ঢুকতে হয় অথবা কয়েল জ্বালিয়ে আমাদের থাকতে হয়, তা না হলে মশা কামড় দিয়ে পা-হাত সব ফুলিয়ে ফেলে। আমাদের বাড়ির পাশের ড্রেন গুলো নিয়মিত পরিস্কার করা হয়না। এগুলো যদি পরিষ্কার করা হয় এবং নিয়মিত মশার ঔষধ ছিঠানো হতো তাহলে আর আমাদের মশা নিয়ে এত ভোগান্তিতে পড়তে হতো না।”
নগরীর সপুরা এলাকার নিমার্ণ শ্রমিক তৌহিদুল ইসলাম বলেন, “দিন রাত সমান তালেই মশার উপদ্রব বেড়েছে আগের চেয়ে। এখন আমাদের বেশি সচেতন থাকতে হয়। ডেঙ্গু হলেই হাসপাতালে থাকতে হবে এই ভয়টাই সবচেয়ে বেশি লাগে। কয়েল জ্বালিয়েও মশা থেকে নিস্তার পাওয়া যাচ্ছে না। আমাদের এই এলাকায় দেখি মাঝেমধ্যে মশার ঔষুধ ছিটায়। যদি সিটি কর্পোরেশন থেকে নিয়মিত মশা নিধনের জন্য ঔষুধ ছিটানো হতো তাহলে মশা থেকে আমরা রেহায় পেতাম।”
রাসিকের তথ্যমতে, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ড্রেন ও তার আশেপাশের এলাকায় মশার বিস্তার রোধে লার্ভিসাইড ও আ্যডালিসাইড নামের মশা নিধনের ঔষুধ ব্যবহার করা হচ্ছে। গত বছরের ফ্রেবুয়ারি মাসে লার্ভিসাইড এক হাজার লিটার ঔষুধ ও আ্যডালিসাইড ৬০০ লিটার রাসিক মশা নিধনের জন্য পেয়েছিলো। তার ভিতরে এখনো ১০০ লিটার ও ২০০ লিটার আ্যডালিসাইড ঔষুধ মজুত রয়েছে। আরো ঔষুধ কিনার জন্য সরকারের কাছে আবেদন করা হয়েছে বলে জানায় তারা।
রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড.এ.বি.এম শরীফ উদ্দিন জানান মশা নিধনে রাসিক সর্ব্বোচ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, “সারাদেশেই ডেঙ্গুর এখন ভরা মৌসুম চলছে। তবে সারাদেশের তুলনায় রাজশাহীতে ডেঙ্গু পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ডেঙ্গু বিস্তার রোধে আমাদের মশক শাখা কাজ করছে। মশার লার্ভা নিধন, নগরী পরিস্কার পরি”ছন্নতা রাখার জন্য সেখানে আমাদের কর্মচারীরা দিন রাত সমান তালে কাজ করছে। আপনারা ইতিমধ্যে দেখেছেন আমাদের প্রশাসক মহোদয় গাঙ্গ পাড়া খাল পরিস্কারে উদ্যোগ নিয়েছেন এবং সেই খাল পরিস্কার প্রায় শেষ পর্যায়ে। নগরীতে যেখানে যেখানে অপরিস্কার কিংবা যেখানে মশা বিস্তার করতে পারে সেইসব জায়গায় আমাদের টিম কাজ করছে। আমাদের জনবল পর্যাপ্ত আছে, তারা নগরী পরিষ্কার পরি”ছন্ন রাখার জন্য নিয়মিত ব্লিচিং পাউডার ছিটাচ্ছে এবং মশার ঔষুধ প্রয়োগ করছে। আশা করছি আমরা রাজশাহীতে মশা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবো।”
রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের তথ্যমতে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত রাজশাহীতে ২ হাজার ৮৯৪ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ২৪০ জন এবং মারা গেছে ৫জন। মৃতদের ভিতরে ২ জন রামেক হাসপাতালে ভর্তি ছিলো। গত ১৪ ই নভেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে রামেক হাসাপাতালে ভর্তি ছিলো ৭৭ জন।
সানশাইন / শামি