বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
সানশাইন ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে শেখ হাসিনার পদত্যাগের বিষয়টি নিয়ে দেশে বেশ আলোচনার সৃষ্টি হচ্ছে। শেখ হাসিনার পদত্যাগের দালিলিক প্রমাণ বা নথিপত্র নিজের কাছে নেই বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন। এমন মন্তব্যকে ঘিরে এই ইস্যুতে আলোচনায় রয়েছে সারা দেশে।
রাষ্ট্রপতির এমন মন্তব্যের জেরে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বৈষম্য-বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেয়া এক পোস্টে হাসনাত লেখেছেন, “শেখ হাসিনাকে উৎখাত করা হয়েছে। পদত্যাগপত্রের কোনো ভূমিকা নেই। এরপর ফেসবুকে ভিডিও বার্তায় তিনি ফ্যাসিবাদ নির্মূলে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।”
ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন হয়। ওই দিনই দেশ ছেড়েছেন শেখ হাসিনা। পরে দেশবাসীর উদ্দেশে দেয়া ভাষণে সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান জানিয়েছিলেন, শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছেড়েছেন। পরে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে বলেন, রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগ করেছেন শেখ হাসিনা। তিনি তা গ্রহণ করেছেন।
এদিকে শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় দাবি করেন, তার মা শেখ হাসিনা পদত্যাগ করেননি। তাই সংবিধান অনুযায়ী তিনি প্রধানমন্ত্রীই রয়েছেন। এরপর দলীয় এক নেতার সঙ্গে মোবাইলে শেখ হাসিনার কথোপকথন প্রকাশ্যে আসে। সেখানেও আ.লীগ সভাপতি দাবি করেন তিনি পদত্যাগ করেননি। কাজেই তিনিই বৈধ প্রধানমন্ত্রী বলে দাবি করেন।
“জয় এবং শেখ হাসিনার এমন দাবির পর সকলের কাছে প্রশ্ন ওঠে আসলেই তিনি পদত্যাগ করেছিলেন নাকি তার পদত্যাগের আগেই দেশ ছেড়েছেন তিনি।” এই আলোচনায় এবার ঘি ঢেলেছে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের একটি মন্তব্য।
মানবজমিন পত্রিকার সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরীকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, “শেখ হাসিনার পদত্যাগের কোনো দালিলিক প্রমাণ বা নথিপত্রের প্রমাণ তার কাছে নেই। এমনকি গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা বঙ্গভবনে গিয়ে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতের কথা থাকলেও পরে তিনি ওখানে যাননি। এরপর বিভিন্ন মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি জানতে পারেন শেখ হাসিনা পদত্যাগ করেছেন।”