বাগমারায় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে তিন ছাত্রদল নেতা বহিস্কার

স্টাফ রিপোর্টার, বাগমারা: বাগমারায় এবার অসহায় এক মাছচাষীর চাষকৃত পুকুরের এক ট্রাক মাছ লুট করে দলীয় পদ হারিয়েছেন উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক মহব্বত হোসেন। ছাত্রদল নেতা মহব্বত হোসেন ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজ ইউনিয়ন গনিপুরের পোড়াকয়া গ্রামের এক নিরীহ মাছ চাষীর পুকুর থেকে রাতের অন্ধকারে ক্যাডার বাহিনী নিয়ে দেশীয় অস্ত্রের মহড়া দিয়ে জোর পূর্বক দুই ট্রাক মাছ লুট করে নিয়ে যান। মাছগুলো থেকে তিনি এক ট্রাক মাছ স্থানীয় মোহনগঞ্জ মাছের আড়তে বিক্রি করে লক্ষাধীক টাকা পকেটস্থ করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পরে ভুক্তভোগি রুবেল হক থানা পুলিশের সহায়তা না পেয়ে ৯৯৯ এ কল করেন। পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর যৌথ সহযোগিতায় মহব্বতকে পাকড়াও করে সাক্ষী প্রমান হাজির করে লুটকৃত বিক্রি করা মাছের লক্ষাধীক টাকা উদ্ধার করে মাছচাষী রুবেলের হাতে ফেরত দেন।
এ ঘটনায় মাছ চাষী রুবেল হক বাগমারা থানায় অভিযোগ দায়ের করলেও পরে মহব্বতের ক্যাডার বাহিনী ও দলীয় একাধিক চাঁদাবাজ নেতার জোর তদবির ও হুমকির মুখে অভিযোগ প্রত্যাহার করে নিতে বাধ্য হন। এ ঘটনায় ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে মাছ লুটকারী মহব্বত ও তার আশ্রয় প্রশ্রয় দাতা কথিপয় বিএনপি নেতা। বিষয়টি গোটা উপজেলার ত্যাগি বিএনপির নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
পরদিনে বিষয়টি কয়েকটি স্থানীয় জাতীয় দৈনক ও অনলাইন মাধ্যমে ব্যাপক প্রচারিত হলে টনক নড়ে ছাত্রদল কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের। পরে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সিদ্ধান্ত মোতাবেক গত ১৯ অক্টোবর দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনিদৃষ্ট অভিযোগে বাগমারা ছাত্রদলের আহবায়ক মহব্বত হোসেন সহ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক আহসান হাবিব ও ছাত্রদল নেতা হাসিবুল ইসলাম হাসিবকে দলীয় সদস্য পদ থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়।
দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ, চাঁদাবাজি ও মাছ লুটের ঘটনায় তিন ছাত্রদল নেতার দলীয় সদস্যপদ বাতিলের সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির। পরে ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলাম স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তি গণমাধ্যমে পাঠানো হয়।
এদিকে মাছ লুটের কারণে দলীয় সদস্যপদ হারানোর ঘটনায় স্থানীয় বিএনপির রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। দলের কয়েকজন ত্যাগি নির্যাতিত নবীন- প্রবীন নেতা এক বিএনপির ইউপি চেয়ারম্যান জানান, গত ৫ আগস্টের পর যেভাবে বিএনপির দুই পৌরসভা ও উপজেলা পর্যায়ের ৫-৬ জন অতিলোভী ও বিগত আওয়ামী শাসন আমলে আতাত ও ব্যাপক সুবিধা পাওয়া বিএনপির নেতারা ব্যাপক চাঁদাবাজি লুটপাট মামলা বানিজ্য সহ নানান অপকর্মে মেতে ওঠেন।
বিএনপির ত্যাগি নির্যাতিত নেতারা আরো অভিযোগ করে বলেন, দলের দুর্দিনে যারা নির্যাতিত হয়েছে তাদেরকে পাশ কাটিয়ে আওয়ামী লীগের সুবিধাপ্রাপ্ত পল্টিবাজ-হাইব্রীড বিএনপি নেতারা আবার মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে। তাদের আশ্রয় প্রশ্রয় ও প্রত্যক্ষ ইন্ধনে এবং সহযোগিতায় মহব্বতের মত পল্টিবাজ নেতারা দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতে এখনই মরিয়া হয়ে ওঠেছে। তাই কেন্দ্রীয় নেতাদের এমন কঠোর সিদ্ধান্তকে স্থানীয় বিএনপির ত্যাগি নির্যাতিত নেতারা সাধুবাদ জানিয়েছেন।
সেই সাথে দলের ভিতর ঘাপটি মেরে থাকা এমন হাইব্রীড পল্টিবাজ চাঁদাবাজ ও আওয়ামী লীগের সাথে বিগত সময়ে আতাত করে চলা নেতাদের চিহ্নিত করে তাদের বহিস্কার করার জন্য বিএনপির কেন্দ্রীয় হাইকমান্ডের প্রতি জোর দাবী জানান।
এ বিষয়ে বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি তৌহিদুল ইসলাম জানান, মাছ লুটের ওই ঘটনা অবগত হয়ে পুলিশ সেখানে গিয়েছিল। পরে বাদী বিবাদী বিষয়টি নিস্পত্তি করায় থানায় কোন পক্ষেও অভিযোগ করেনি।


প্রকাশিত: অক্টোবর ২১, ২০২৪ | সময়: ৬:২০ পূর্বাহ্ণ | সুমন শেখ