বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
সানশাইন ডেস্ক: বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সারা দেশে আহত ও নিহতদের পরিবারকে সহায়তায় গঠিত হলো ‘জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন’। মঙ্গলবার ফাউন্ডেশনের নিবন্ধন সনদ দিয়েছে সমাজসেবা অধিদপ্তরের ঢাকা জেলা কার্যালয়। একই সঙ্গে ২ বছরের জন্য কার্যনির্বাহী পরিষদও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
ফাউন্ডেশনের সাত সদস্যের পরিষদের সভাপতি প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সাধারণ সম্পাদক শহীদ মীর মাহফুজুর রহমানের (মুগ্ধ) ভাই মীর মাহবুবুর রহমান (স্নিগ্ধ)। চারজন উপদেষ্টাও রয়েছেন কার্যনির্বাহী পরিষদে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সারা দেশে নিহতের সংখ্যা অন্তত ৬৩১ এবং আহত ১৯ হাজার ২০০ জনের বেশি। আন্দোলন শুরুর পর গত ১৫ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট সরকার পতনের দিন পর্যন্ত হতাহতের এ তথ্য উঠে এসেছে।
কার্যনির্বাহী পরিষদের সভাপতি প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সাধারণ সম্পাদক মীর মাহবুবুর রহমান (স্নিগ্ধ), কোষাধ্যক্ষ কাজী ওয়াকার আহামদ। দপ্তর সম্পাদক তথ্য সম্প্রচার এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি উপদেষ্টা মো. নাহিদ ইসলাম। শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজিব ভূইয়া, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ উপদেষ্টা নুরজাহান বেগম, সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ কার্যনির্বাহী পরিষদের নির্বাহী সদস্য হয়েছেন। ফাউন্ডেশনের অস্থায়ী ঠিকানা- ৩৫, রোড-৯/ডি, সেক্টর-৫, উত্তরা, ঢাকা। ফাউন্ডেশন ১০ আগস্ট থেকে কার্যকর হবে।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত ছাত্র-জনতার আন্দোলনে শহীদদের পরিবারকে আর্থিক ও মানবিক সহায়তা ও অন্যান্য সুবিধা প্রদান করা নৈতিক দায়িত্ব। এছাড়া আন্দোলনে আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারী ব্যক্তিদের চিকিৎসা, কর্মসংস্থান, পুনর্বাসন, আর্থিক ও মানবিক সহায়তা দেওয়া প্রয়োজন। তাই আন্দোলনে শহীদ, আহত, পঙ্গুত্ববরণকারী ব্যক্তিদের সার্বিক কল্যাণার্থে জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
এ বিষয়ে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. খায়রুল আলম শেখ জাগো নিউজকে বলেন, ‘ফাউন্ডেশন গঠন করা হয়েছে। সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে এর নিবন্ধনও দেওয়া হয়েছে। একটি কমিটি ফাউন্ডেশনের গঠনতন্ত্র করেছে। শহীদ মুগ্ধর ভাই স্নিগ্ধ সেই কমিটির সদস্য সচিব ছিলেন।’
গঠনতন্ত্রে বলা হয়েছে, ফাউন্ডেশনের একটি তহবিল থাকবে। এ তহবিলের অর্থের উৎস হবে সরকারের দেওয়া দান/অনুদান বা মঞ্জুরি, কোনো বিদেশি সরকার আন্তর্জাতিক সংস্থা এজেন্সি সংগঠন বা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে প্রাপ্ত অনুদান, সাধারণ সদস্যদের দেওয়া চাঁদা, সাধারণ পরিষদ এবং নির্বাহী পরিষদের সদস্যদের ব্যক্তিগতভাবে দেওয়া চাঁদা বা অনুদান, ফাউন্ডেশনের সম্পত্তি বা যে কোনো কার্যক্রম থেকে আয়।এছাড়া যেকোনো ব্যক্তি, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ, বিধিবদ্ধ সংস্থা বা এমন কোনো সংস্থা দেয়া দান অনুদান; তহবিলের অর্থ বিনিয়োগ থেকে অর্জিত মুনাফা এবং ফাউন্ডেশনের নিজস্ব উৎস থেকে প্রাপ্ত আয় থেকেও এ তহবিলে অর্থ আসবে।
মূলত ফাউন্ডেশন ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ঘিরে আহত ও নিহতদের পরিবারকে সহায়তায় কাজ করবে বলেও জানান সচিব। ফাউন্ডেশনের প্রকৃতিতে বলা হয়েছে- ফাউন্ডেশন একটি অরাজনৈতিক, স্বেচ্ছাসেবামূলক এবং জনকল্যাণমূলক সংস্থা।
ফাউন্ডেশনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য তুলে ধরে ফাউন্ডেশনের গঠনতন্ত্রে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত ছাত্র-জনতার আন্দোলনে শহীদদের কল্যাণার্থে তাদের পরিবারকে আর্থিক ও মানবিক সহায়তা, পরিবারের সদস্যদের কর্মসংস্থান বা অন্য কোনো উপযুক্ত সুবিধা দেওয়া হবে।
২০২৪ সনের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আহত বা পঙ্গুত্ববরণকারী ব্যক্তিদের ওষুধপত্রসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা প্রদান, কর্মসংস্থান, আর্থিক ও মানবিক সহায়তা প্রদান বা অন্য কোনো উপযুক্ত সুবিধা দেওয়া হবে।
আন্দোলনে আহত বা পঙ্গুত্ববরণকারী ব্যক্তিদের পুনর্বাসন ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা ও প্রশিক্ষণ প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণসহ এর ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করবে কমিশন। নিহতদের পরিবারের সদস্যদের জন্য শিক্ষাবৃত্তি, কর্মসংস্থান বা অন্য কোনো উপযুক্ত সুবিধা দেওয়া হবে। ফাউন্ডেশনের উদ্দেশ্য পূরণে বিভিন্ন প্রকল্প বা কর্মসূচি গ্রহণ, যে কোনো ব্যক্তি বা দেশি বা বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তি সম্পাদন, ফাউন্ডেশনের উদ্দেশ্যের সঙ্গে সাঞ্জস্যপূর্ণ যে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করবে ফাউন্ডেশন।
ফাউন্ডেশনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের প্রতি যাদের আস্থা ও বিশ্বাস থাকবে তাদের জন্য ফাউন্ডেশনের সদস্যপদ উন্মুক্ত থাকবে বলে গঠনতন্ত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। ফাউন্ডেশনের সদস্য হতে ইচ্ছুক ব্যক্তিকে নির্ধারিত ফরমে আবেদন করতে হবে এবং নির্বাহী পরিষদের তার আবেদনপত্র গ্রহণ করতে হবে। যদি কোনো সদস্য ফাউন্ডেশনের স্বার্থবিরোধী বা রাষ্ট্রবিরোধী বা নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধ করেন তাহলে তার সদস্যপদ বাতিল করা যাবে।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত ছাত্র-জনতার আন্দোলনে শহীদদের পরিবারকে আর্থিক ও মানবিক সহায়তা ও অন্যান্য সুবিধা প্রদান করা নৈতিক দায়িত্ব। এছাড়া আন্দোলনে আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারী ব্যক্তিদের চিকিৎসা, কর্মসংস্থান, পুনর্বাসন, আর্থিক ও মানবিক সহায়তা দেওয়া প্রয়োজন। তাই আন্দোলনে শহীদ, আহত, পঙ্গুত্ববরণকারী ব্যক্তিদের সার্বিক কল্যাণার্থে জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। ফাউন্ডেশনের কার্যাবলি পরিচালনার সাধারণ পরিষদ ও নির্বাহী পরিষদ থাকবে বলে গঠনতন্ত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।