সর্বশেষ সংবাদ :

বাগমারায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষে আহত ২০

স্টাফ রিপোর্টার, বাগমারা: বাগমারা উপজেলার হামিরকুৎসা বাজারের আধিপত্য ও চাঁদাবাজির দখল নিয়ে প্রতিপক্ষের হামলায় অন্তত বিশ জন আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে ৭ থেকে ৮ জনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদেরকে বাগমারা স্বাস্থ কমপ্লেক্্ের ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদের স্থানীয় ক্লিনিকে ভর্তি ও প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। গত রবিবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে হামিরকুৎসা বাজারে এই হামলার ঘটনা ঘটে। হামলার সময় লোকজন এদিক ওদিক ছুটাছুটি করতে থাকে। অনেকে বাজারে চা পান করতে এসেও হামলার শিকার হয় বলে জানা গেছে। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হামিরকুৎসা হাটের দক্ষিণ পাশের ট্রাক অফিস ও চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে ইউনিয়ন বিএনপির নেতৃবৃন্দের সাথে দ্বন্দ্ব দেখা দেয়। গত ৫ আগষ্ট শেখ হাসিনা পদত্যাগ ও দেশ ছেড়ে পলায়নের পর এই দ্বন্দ্ব চরম আকার ধারন করে।
স্থানীয় কতিপয় আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক এমপি আবুল কালামের ক্যাডার বাহিনী ওই ট্রাক অফিস ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রন করে আসছিল। পরে ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর তাদের সাথে স্থানীয় কিছু সুবিধাবাদী বিএনপি নেতা যোগ দিয়ে পূর্বের চাঁদাবাজি চালিয়ে যাওয়ার পাঁয়তারা শুরু করে। এতে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হওয়ায় বিএনপির অপর অংশ তাদের বাধা দিলে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে আহত হন বাগমারা উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য রাশেদুল হক ফিরোজ, হামিরকুৎসা ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি রতন খামারু, ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রশিদ মামুন ও তার পিতা মান্নান। হামলার সময় মান্নান তার দোকানের সামনে উভয় পক্ষকে নিবৃত্ত করতে চেষ্টা করলে তাকেও জখম করে।
এছাড়া সংঘর্ষে আরো আহত হন ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য নান্নুর রশিদ, ইউনিয়ন কৃষকদলের আহবায়ক সান্টু মোল্লা, ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি সুমন, ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক কাউসার, ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সাব্বির হোসেন, সহ অন্তত বিশ জন আহত হন।
স্থানীয় লোকজন আহতদের উদ্ধার করে বাগমারা উপজেলা মেডিকেল এ ভর্তি করে চিকিৎসা করানো হয়।
এ বিষয়ে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি বেলাল শাহ জানান, দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয় এমন কোন কাজ করতে আমরা নিষেধ করে আসছি। এখানে দলের নাম ভাঙ্গিয়ে কাউকে চাঁদাবাজি ও দখল বানিজ্য করতে দেওয়া হবে না। এই ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের শাস্তির দাবী জানান তিনি। প্রায় একই মতামত ব্যক্ত করে বাগমারা বিএনপির আহবায়ক কমিটির অন্যতম নেতা সাবেক মেয়র আব্দুর রাজ্জাক জানান, দলের ভাবমূর্তি বিনষ্টকারীদের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান কঠোর। আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখে শুনে এর সঠিক সমাধান করা হবে।
বাগমারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তৌহিদুল ইসলাম জানান, ওই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেহই অভিযোগ দায়ের করেনি। তবে পরিস্থিতি শান্ত রাখতে ওই এলাকায় পুলিশী টহল বাড়ানো হয়েছে।


প্রকাশিত: September 10, 2024 | সময়: 5:50 am | সুমন শেখ