সর্বশেষ সংবাদ :

রাজশাহীতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে উদযাপিত হলো শ্রী কৃষ্ণের জন্মাষ্টমী

স্টাফ রিপোর্টার: বর্ণাঢ্য আয়োজনে রাজশাহীতে পালিত হলো পরমেশ্বর ভগবান শ্রী কৃষ্ণের শুভ আবির্ভাব তিথি ও জন্মাষ্টমী। জন্মাষ্টমী উপলক্ষে সোমবার সকালে রাজশাহী মহানগরীর সাহেব বাজার জিরোপয়েন্টের কেন্দ্রীয় হনুমানজিউর মন্দিরের সামনে অনুষ্ঠানের শুরু হয়। চন্ডিপাঠ ও গিতা যজ্ঞের মধ্যদিয়ে আলোচনা সভা করা হয়।
জন্মাষ্টমীতে এবার বানভাসীদের জন্য বিশেষ প্রার্থনা করা হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) কল্যাণ চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(রাজস্ব) সরকার অসীম কুমার।
বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্ট রাজশাহী মহানগরের আয়োজনে আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্ট রাজশাহী মহানগরের সভাপতি অচিন্ত্য কুমার বিশ্বাস সান্টু। সভায় শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্ট রাজশাহী মহানগরের সাধারণ সম্পাদক অশোক কুমার সাহা। উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্ট রাজশাহী বিভাগের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আনন্দ কুমার মন্ডল, মহানগরের সাংগঠনিক সম্পাদক সুব্রত রায় ও রাজশাহী ইসকন এর অধ্যক্ষ রামেশ^র গৌর দাস। এছাড়াও অত্র অত্র ফ্রন্টের অন্যান্য সদস্য, বিভিন্ন মন্দিরে পুরোহিত ও সনাতন ধর্মের শত শত নারী পুরুষ উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভা শেষে সেখান থেকে বের করা হয় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। শোভাযাত্রাটি নগরীর সাহেব বাজার থেকে সোনাদীঘি দিয়ে রানীবাজার হয়ে সাগরপাড়াসহ গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুণরায় সভাস্থলে গিয়ে শেষ করেন। সেখানে সবাই মিলে নেচে গেয়ে দিনটি উদযাপন করেন।
পত্নীতলা: নওগাঁর পত্নীতলায় বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ ও বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ পত্নীতলা উপজেলা শাখার আয়োজনে মহাবতার ভগবান শ্রীকৃষ্ণের ৫২৫০ তম জন্মাষ্টমী উৎসব উপলক্ষে সোমবার নজিপুর কেন্দ্রীয় শ্রীশ্রী বাসুদেব মন্দির থেকে শোভাযাত্রা বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদর্শন শেষে মন্দির প্রাঙ্গণে এসে পূজা অর্চনা ও প্রসাদ বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এসময় প্রধান অতিথি ছিলেন পত্নীতলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার পপি খাতুন। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আজিজুল কবির। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ পত্নীতলা উপজেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি গোপাল চন্দ্র রায়, সাধারণ সম্পাদক গৌতম চন্দ্র দে, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ পত্নীতলা উপজেলা শাখার সভাপতি রমেশ চন্দ্র বর্মন, সাধারণ সম্পাদক সুদর্শন চন্দ্র সাহা, জাতীয় আদিবাসী পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটি সাধারণ সম্পাদক নরেন চন্দ্র পাহান, পুজা উদযাপন পরিষদ পত্নীতলা উপজেলা শাখার সহ-সভাপতি সুকুমার চন্দ্র দাস, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক গয়ানাথ বর্মণ, দিলীপ কুমার দাস, সাংগঠনিক সম্পাদক তমাল কুমার দাস ঘোষ, প্রচার সম্পাদক দিলিপ চৌহান, কোষাধক্ষ্য যুগল চন্দ্র দেবনাথ, আইন সম্পাদক শ্যামল চন্দ্র দাস, সহ-কোষাধক্ষ্য, সাংস্কৃতিক সম্পাদক তুষার প্রামানিক সহ ইউনিয়ন কমিটির ও পুজা মন্দির কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকগণ সনাতন ধর্মাবলম্বী পুরুষ ও মহিলা ভক্তগণ উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়াও সারা দেশের ন্যায় উপজেলার বিভিন্ন মন্দিরে পূজা-অর্চনা, তারকব্রহ্ম হরিনাম সংকীর্তন ও তারকব্রহ্ম নামযজ্ঞ ও প্রসাদ বিতরণের আয়োজন করেছে হিন্দু সম্প্রদায়।
বিশ্বজগতের ভারসাম্য রক্ষার্থে দুষ্টের দমন, শিষ্টের পালন, সাধুদের রক্ষা ও ধর্ম সংস্থাপনের জন্য ভাদ্র মাসের কৃষ্ণাষ্টমী তিথিতে বর্ষণমুখর গভীর রাতে মহাপুণ্য তিথিতে মথুরা নগরীতে অত্যাচারী রাজা কংসের কারাগারে বন্দী দেবকী ও বাসুদেবের বেদনাহত ক্রোড়ে জন্ম নিয়েছিলেন পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস পাশবিক শক্তি যখন ন্যায়নীতি, সত্য ও সুন্দরকে গ্রাস করতে উদ্যত হয়েছিল, তখন সেই শক্তিকে দমন করে মানবজাতির কল্যাণ এবং ন্যায়নীতি প্রতিষ্ঠার জন্য মহাবতার ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব ঘটেছিল। তাদের আরও বিশ্বাস, দুষ্টের দমন করতে এভাবেই যুগে যুগে ভগবান মানুষের মাঝে নেমে আসেন এবং সত্য ও সুন্দরকে প্রতিষ্ঠা করেন।


প্রকাশিত: August 27, 2024 | সময়: 5:07 am | সুমন শেখ