, , ।
রাবি প্রতিনিধি: অর্থ মন্ত্রণালয় কর্তৃক জারিকৃত প্রত্যয় পেনশন স্কিমের প্রতিবাদে ক্লাস-পরীক্ষা এবং দাপ্তরিক কার্যক্রম বর্জন করে সর্বাত্মক কর্মবিরতি কর্মসূচি পালন করছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ও রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) শিক্ষকবৃন্দ। সোমবার (০১ জুলাই) সকাল থেকেই এই কর্মসূচি পালন করছেন তারা। কঠোর এই কর্মসূচির ফলে দুই বিশ্ববিদ্যালয়েই বন্ধ হয়ে গেছে ক্লাস-পরীক্ষাসহ সকল দাপ্তরিক কার্যক্রম। এতে সেশনজটের শঙ্কায় পড়েছেন শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষকবৃন্দ বলছেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাদের সর্বাত্মক কর্মবিরতি কর্মসূচি চলবে। অন্যদিকে শিক্ষার্থীরা বলছেন, করোনার পর এই আন্দোলন তাদের আরও পিছিয়ে দিচ্ছে। সমস্যা সমাধানে শিক্ষকদের বিকল্প পথ ভাবা উচিত বলে মনে করছেন তারা।
সর্বাত্মক কর্মসূচির অংশ হিসেব সোমবার বেলা ১১টায় বিশ্বববিদ্যালয়ের শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ সিনেট ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন রাবির শিক্ষকবৃন্দ। কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক হাবিবুর রহমান বলেন, দাবি আদায়ে শিক্ষকরা ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করেছে। যতক্ষণ পর্যন্ত না দাবি আদায় হচ্ছে, আন্দোলন চলবে।
একই দাবিতে সোমবার দুপুর ১২টায় রুয়েটের প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষকবৃন্দ। কর্মসূচিতে রুয়েট শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক কামরুজ্জামান রিপন বলেন, বৈষম্যের বিরুদ্ধে শিক্ষকরা রাস্তায় নেমেছে। যা মোটেও কাম্য ছিল না। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।
এদিকে শিক্ষকদের আন্দোলন যৌক্তিক হলেও শিক্ষার্থীদের জন্য দুঃখজনক বলে মনে করছেন রাবির আইন বিভাগের শিক্ষাথী সোহাগ আলী। তিনি বলেন, শিক্ষকদের দাবিগুলো যৌক্তিক। তাদের চিন্তাটা সুদূরপ্রসারী। শিক্ষকতা পেশাকে আকর্ষণীয় না করলে, মেধাবীরা এই পেশায় আসবে না। আর মেধাবীরা শিক্ষকতায় না আসলে সেটা জাতির ভবিষ্যৎকে অন্ধকারের দিকে যাবে। তবে একটা ভালো কাজের জন্য শিক্ষার্থীদের ক্ষতি হচ্ছে। এই অবস্থা সৃষ্টি হওয়াটা দুঃখজনক। এই অবস্থার অর্থ হলো, সরকার শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেনা।
বিশ্ববিদ্যালয়টির সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তনিমা ইসলাম বলেন, করোনা মহামারীর ফলে আমাদের পড়াশোনা দেড় বছর পিছিয়ে গেছে। নতুন করে শিক্ষকদের এ আন্দোলন আমাদের আরও পিছিয়ে দিচ্ছে। শিক্ষকদের সমস্যা সমাধানের বিকল্প পথ ভাবা উচিত। শিক্ষার্থীদের সেশনজটে ফেলে নিজেদের দাবি আদায় তাদের স্বার্থান্বেষী করে তুলেছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতি সমাধানের বিষয়ে জানতে চাইলে রাবি উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক সুলতান-উল-ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমরা চাই বিশ্ববিদ্যালয় সুন্দর এবং স্বাভাবিকভাবে চলুক। সমস্যা তৈরি হতেই পারে, কারণ আমরা মানুষ। তবে যেকোনো ন্যায়-অন্যায়ের ঘটনা ঘটলে তার ভালো-মন্দ প্রতিক্রিয়া থাকে। সকলের সঙ্গে আলোচনা করে এটার সুষ্ঠু সমাধানের অবস্থা তৈরি করার জন্য আমরা ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সঙ্গে কথা বলেছি। বিষয়টি সরকারের সঙ্গে সম্পর্কিত। তারপরও আমরা চাই, বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসুক, সমস্যাটারও সমাধান হোক এবং আমাদের শিক্ষার্থীরা যথারীতি তাদের শিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করুক।
এদিকে, অনিবার্য কারণবশত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি কার্যক্রম স্থগিত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। রবিবার (৩০ জুন) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে তিন (এ,বি ও সি) ইউনিটের প্রধান সমন্বয়ক স্বাক্ষরিত পৃথক তিনটি জরুরী বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিসমূহে বলা হয়, অনিবার্য কারণবশত ভর্তি ও সাক্ষাৎকার (স্নাতক প্রথম বর্ষের) কার্যক্রম পরবর্তী বিজ্ঞাপ্তি না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত করা হলো।
এর আগে, ৩০ জুন বিকেলে এ ইউনিটের সপ্তম মেধাতালিকা প্রকাশিত হয়েছিলো। তবে কয়েক ঘন্টার মাথায় এই ঘোষণা দেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এছাড়া ১ জুলাই বি ইউনিটের নবম মেধাতালিকার ভর্তির শেষ তারিখ থাকলেও নতুন ঘোষণার ফলে তা স্থগিত। অন্যদিকে আগামী ১ ও ২ জুলাই সি ইউনিটের ষষ্ঠ মেধাতালিকা থেকে ভর্তির সময়সূচি ছিলো।
রবিবার (৩০ জুন) বেলা ১১টায় অর্থ মন্ত্রণালয় কর্তৃক জারিকৃত প্রত্যয় পেনশন স্কিম প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস-পরীক্ষা এবং দাপ্তরিক কাজ বর্জনের ঘোষণা দেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষকবৃন্দ। পরে এদিন রাতে রাবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে প্রত্যয় স্কিমের প্রতিবাদে সর্বাত্মক কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে ৮টি কর্মসূচির মধ্যে ৩ নম্বর ও ৫ নম্বর কর্মসূচিতে ভর্তি পরীক্ষা স্থগিত রাখার বিষয়ে বলা হয়। এরপরই তিন ইউনিট থেকে পৃথক এই তিন বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়।