রাবির নির্মাণাধীন বহুতল হল ভবনে ধ্বস

রাবি প্রতিনিধি : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) নির্মাণাধীন বহুতল (১০তলা) বিশিষ্ট শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান হলের ছাদ ধ্বসের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার দুপুর পৌনে ১২টায় হলটির অডিটোরিয়ামের ছাদ ঢালাইয়ের সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় অন্তত ৯জন নির্মাণ শ্রমিক আহতের খবর পাওয়া গেছে। রাজশাহী নগরসহ আশপাশের কয়েকটি ফায়ার ব্রিগেড, র‌্যাব ও পুলিশ উদ্ধার প্রায় কয়েক ঘণ্টা উদ্ধার কাজ চালায়। তবে কোনো নিহতের খবর পাওয়া যায়নি।
এই ঘটনায় নির্মাণ প্রতিষ্ঠান মজিদ এন্ড সন্স ও ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ এনে তদন্ত ও পুরো হল ভবনের বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার দাবি জানিয়েছে শিক্ষার্থীরা। এদিকে এই ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন ও অনিয়ম হলে তার সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির আওতায় আনার কথা জানিয়েছে বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসন।
বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসনের কর্তাব্যক্তি ও নির্মাণ শ্রমিকরা জানান, মঙ্গলবার সকালে নির্মাণাধীন শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান হলের অডিটোরিয়ামের ছাদ ঢালাইয়ের কাজ শুরু হয়। বেলা সাড়ে এগারোটার দিকে হঠাৎ ঢালাইরত অবস্থায় সম্পূর্ণ ছাদ ধ্বসে পড়ে। এসময় অন্য শ্রমিক, পথচারী ও শিক্ষার্থীরা এসে আটকে পড়া শ্রমিকদের কয়েকজনকে উদ্ধার করে। খবর পেয়ে দ্রুত ফায়ার ব্রিগেডের কয়েকটি ইউনিট এসে উদ্ধার কাজ শুরু করে। এতে ৯ নির্মাণ শ্রমিক আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নেয়া হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক আসাবুল হক জানান, ছাদ ধসের ঘটনায় ৯জন আহতের খবর জেনেছি। এর মাঝে চারজন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, তিনজন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে ফিরেছে আর বাকি দুজন অপেক্ষাকৃত কম আহত হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিসের রাজশাহী বিভাগীয় উপপরিচালক মো. অহিদুল ইসলাম বলেন, ১২টার দিকে খবর পেয়ে বিশ^বিদ্যালয় ফায়ার স্টেশন, রাজশাহী সদর, কাশিয়াডাঙ্গা, নওহাটাসহ প্রায় ৮টি ইউনিট ছুটে আসে। আমরা যতটুকু জেনেছি যে এখানে ৯জন শ্রমিক ছিলো। তাদের উদ্ধার করা হয়েছে। তবুও আমরা নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছি যে আসলে কতজন শ্রমিক ছিল। কিন্তু তাদের কাউকে নির্মাণ সাইটে পাইনি। তারপরও আমরা নিশ্চিত হয়েই এখান থেকে যাবো।
ঘটনাস্থলে এসে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সুলতান-উল-ইসলাম বলেন, এখন একটা ঘটনা ঘটেছে, এখানে গাফিলতি থাকতে পারে। যতক্ষণ পর্যন্ত সকলের সঙ্গে কথা বলতে পারছি, ততক্ষণ পর্যন্ত প্রকৃত অর্থে কারণটি বলতে পারবো না।
জানা যায়, প্রায় ৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিতব্য এই হলটির নির্মাণ কাজ ২০২২ সালে উদ্বোধন করা হয়। দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান মজিদ এন্ড সন্স লিমিটেড ২০২৩ সালের মধ্যে নির্মাণ কাজ শেষ করার কথা থাকলেও অনিয়ম, অবহেলা ও দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ রাখায় সময়মত তা হয়নি। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটি নির্মাণকাজ শুরু করার পর থেকে এখন নির্মিতব্য এই ভবনগুলোতে অসতর্কতা ও অবহেলায় বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ কয়েকজন শ্রমিক নিহত হয়েছেন। সর্বশেষ মঙ্গলবার রাবির এই কামারুজ্জামান হলের নতুন ছাদ ধ্বসে হতাহতের ঘটনা ঘটলো।
রাবির নির্মাণাধীন বহুতল


প্রকাশিত: জানুয়ারি ৩১, ২০২৪ | সময়: ৬:৩৪ পূর্বাহ্ণ | সুমন শেখ