, , ।
নওগাঁ প্রতিনিধিঃ
নওগাঁয় গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলে নওগাঁয় গত ২৪ ঘন্টায় প্রধান দুটি নদী ছোট যমুনা ১০২ সেন্টিমিটার ও আত্রাই নদীতে বিপৎসীমার ১১৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে সবগুলো নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন নওগাঁ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী প্রবীর কুমার পাল।
মঙ্গলবার বেলা ১২টায় জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের কন্ট্রোলরুম থেকে জানিয়েছে, পূর্নভবা ১৯৯ সেন্টিমিটার ও নাগর ১৮৪ সেন্টিমিটার বিপৎসীমা নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ছোট যমুনা নদীর লিটন ব্রিজ পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ১০২ সেন্টিমিটার ও আত্রাই নদীর রেলস্টেশন পয়েন্টে বিপৎসীমার ১১৪ সেন্টিমিটার, জোত বাজার পয়েন্টে ৭৮ সেন্টিমিটার, মহাদেবপুর পয়েন্টে ২০০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে প্রতিদিনই নদীগুলোতে যে পরিমাণ পানি বাড়ছে, তাতে জেলার কিছু কিছু নিম্নাঞ্চল তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছে নওগাঁ পানি উন্নয়ন বোর্ড।
নওগাঁ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী প্রবীর কুমার পাল বলেন, টানা বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলে কয়েক দিন ধরেই যমুনা ও আত্রাই নদীর পানি বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ছোটযমুনায় ৩১ সেন্টিমিটার, আত্রাই নদীর রেলওয়ে স্টেশন পয়েন্টে ৩৫ সেন্টিমিটার ও পুনভবা নদীর ৬ সেন্টিমিটার পানি বেড়েছে। এছাড়া আত্রাই নদীর শিমুলতলী পয়েন্টে ৬৫ সেন্টিমিটার, মহাদেবপুর পয়েন্টে ২০ সেন্টিমিটার, জোতবাজার পয়েন্টে ৮ সেন্টিমিটার পানি কমেছে। আগামী কয়েক দিন যদি বৃষ্টির পানি বাড়ে, তাহলে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে বেশি সময় লাগবে না। প্রচণ্ড বৃষ্টি উজান থেকে নেমে আসা ঢলে নিম্নাঞ্চল তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তিনি আরো বলেন, নওগাঁর আত্রাই নদীর সব পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ ছাড়া ছোট যমুনা নদীর পানিও বর্তমানে বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আমরা সার্বক্ষণিক ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধগুলো পরিদর্শন করছি। চেষ্টা করছি দ্রুত কিভাবে মেরামত করা যায়। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী দুই-তিন দিন পানি আরও কিছুটা কমবে বলে জানান তিনি।
জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, নওগাঁর সদর, মান্দা, আত্রাই, রানীনগর, পোরশা ও সাপাহার উপজেলার ৪৫টি গ্রামের ৬০ হাজার মানুষ নদীর তীরে বসবাস করছে। জেলা প্রশাসন থেকে ইতোমধ্যে নদীর ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধগুলো মেরামত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সানশাইন/তৈয়ব