কোভিড: ২৪ ঘণ্টায় ১৭৭ রোগী শনাক্ত, মৃত্যু ৫

সানশাইন ডেস্ক: ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টের রোগী শনাক্তের খবর আসার দিনে দেশে নতুন করে ১৭৭ জন কোভিড রোগী ধরা পড়ার কথা জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এই সময়ে মারা গেছে পাঁচজন। শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বুলেটিনে আগের ২৪ ঘণ্টায় ১৭৭ জন কোভিড-১৯ রোগী শনাক্তের কথা জানানো হয়। তাদের নিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৫ লাখ ৭৮ হাজার ৯৯৬ জন।
গত এক দিনে যে পাঁচজন মারা গেছেন, তারা সবাই নারী। তাদের নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২৮ হাজার ২২ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, দেশে আক্রান্তদের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১২২ জন সেরে উঠেছেন। তাদের নিয়ে মোট ১৫ লাখ ৪৩ হাজার ৮৬২ জন এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে উঠলেন। এদিকে দৈনিক বুলেটিন আসার আগেই স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক দেশে ওমিক্রনে দুজন রোগী শনাক্তের তথ্য জানান। আক্রান্ত দুজনই জিম্বাবুয়ে সফর করে আসা নারী ক্রিকেটার।
নতুন করোনাভাইরাস দুই বছর আগে মানবদেহে সংক্রমণের পর অসংখ্যবার রূপবদল করলেও এক বছরের বেশি সময় পর ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টই মহামারীর মাত্রা ভয়াবহ করে তোলে। এরপর টিকা যখন মহামারী নিয়ন্ত্রণের আশা দেখাচ্ছে, তখন দক্ষিণ আফ্রিকায় ধরা পড়ে ভাইরাসটির নতুন রূপ ওমিক্রন। বিশ্বে এখন অবধি অমিক্রনে আক্রান্ত কারও মৃত্যুর খবর না মিললেও এটা ছড়াচ্ছে দ্রুত। তবে এতে আক্রান্তদের উপসর্গ মৃদু দেখা গেছে দক্ষিণ আফ্রিকা ও ভারতের ক্ষেত্রে।
সেংক্রমণে ভয়াবহ সময় (গত জুন, জুলাই, অগাস্ট) পেরিয়ে বাংলাদেশে সংক্রমণ পরিস্থিতি এখন উন্নতির দিকে। গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষা অনুযায়ী রোগী শনাক্তের হার ছিল ১ দশমিক ১৩ শতাংশ, যা আগেরদিন ১ দশমিক ৩৪ শতাংশ ছিল। এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা অনুযায়ী শনাক্তের হার ১৪ দশমিক ২৩ শতাংশ। মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৭৭ শতাংশ।
শনিবার দেওয়া স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুসারে, দেশে এখন সক্রিয় রোগীর সংখ্যা ৭ হাজার ১১২ জন। অর্থাৎ, জানা হিসেবে এই সংখ্যক মানুষ এখন করোনাভাইরাস সংক্রমিত অবস্থায় রয়েছেন। অথচ এই বছরের মাঝামাঝিতে এই সংখ্যা লাখের উপরে ছিল। গত একদিনে শনাক্ত রোগীদের মধ্যে ১৪৯ জনই ঢাকা বিভাগের,যা দিনের মোট শনাক্তের ৮৪ শতাংশেরও বেশি। দেশের ৪৯ জেলায় এ সময় নতুন করে কেউ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হননি।
গত ২৪ ঘণ্টায় যে পাঁচ নারী মারা গেছে, তাদের চারজনই ঢাকা বিভাগের এবং একজন চট্টগ্রাম বিভাগের বাসিন্দা। গত একদিনে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া পাঁচজনের মধ্যে দুইজনের বয়স ৬০ বছরের বেশি, একজনের বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে, একজনের বয়স ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে এবং একজনের বয়স ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ছিল।
তাদের মধ্যে চারজন সরকারি হাসপাতাল এবং একজন বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত এক দিনে সারা দেশে মোট ১৫ হাজার ৬৩২টি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। এ পর্যন্ত পরীক্ষা হয়েছে ১ কোটি ১০ লাখ ৯৮ হাজার ৫৮৬টি নমুনা। বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়েছিল গত বছরের ৮ মার্চ। এ বছর ৩১ অগাস্ট তা ১৫ লাখ পেরিয়ে যায়। এর আগে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের ব্যাপক বিস্তারের মধ্যে ২৮ জুলাই দেশে রেকর্ড সংখ্যক ১৬ হাজার ২৩০ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়।
প্রথম রোগী শনাক্তের ১০ দিন পর গত বছরের ১৮ মার্চ দেশে প্রথম মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। গত ৫ অগাস্ট ও ১০ অগাস্ট ২৬৪ জন করে মৃত্যুর খবর আসে, যা মহামারীর মধ্যে এক দিনে সর্বোচ্চ সংখ্যা। বিশ্বে করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা ইতোমধ্যে ৫২ লাখ ৯৫ হাজার ছাড়িয়েছে। আর শনাক্ত হয়েছে ২৬ কোটি ৯১ লাখের বেশি রোগী।
বাংলাদেশে ওমিক্রনের রোগী শনাক্ত
সানশাইন ডেস্ক: করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে বিশ্বজুড়ে এখন উদ্বেগ ছড়ানো ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত দুই রোগীর সন্ধান মিলেছে বাংলাদেশ। তারা দুজনই বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটার; তারা আফ্রিকার দেশ জিম্বাবুয়ে সফর করে সম্প্রতি দেশে ফিরে আইসোলেশনে রয়েছেন।
শনিবার ঢাকার শিশু হাসপাতালে এক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বাংলাদেশে প্রথম ওমিক্রনের রোগী ধরা পড়ার কথা জানান। একই দিনে আরেক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি নাজমুল হাসান সাংবাদিকদের প্রশ্নে বলেন, ওই দুই খেলোয়াড়ের কারও কোনো ধরনের শারীরিক জটিলতা নেই, তারা ‘ভালো’ আছেন।
নতুন করোনাভাইরাস মানবদেহে সংক্রমণের পর অসংখ্যবার রূপবদল করলেও এক বছরের বেশি সময় পর ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টই মহামারীর মাত্রা ভয়াবহ করে তোলে। এরপর টিকা যখন মহামারী নিয়ন্ত্রণের আশা দেখাচ্ছে, তখন দক্ষিণ আফ্রিকায় ধরা পড়ে ভাইরাসটির নতুন রূপ ওমিক্রন। এরপর আফ্রিকা মহাদেশ থেকে আসার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকার নানা বিধি-নিষেধ আরোপ করে।
এর মধ্যেই জিম্বাবুয়েতে নারীদের ওয়ানডে বিশ্বকাপের বাছাই পর্বে খেলতে যাওয়া বাংলাদেশ দল ঢাকায় পৌঁছানোর পর সব খেলোয়াড়দের পাঠানো হয় প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে। সেখানে নমুনা পরীক্ষার পর দুজনের করোনাভাইরাস ‘পজিটিভ’ আসে। তার ছয় দিন পর শনিবার স্বাস্থ্যমন্ত্রী নিশ্চিত করেন যে ওই দুই খেলোয়াড় ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত।
তিনি বলেন, “আমাদের দুইজন যে নারী ক্রিকেটার, যাদের শরীরে ওমিক্রন ভাইরাস পাওয়া গেছে, তাদের আমরা কোয়ারেন্টিনে রেখেছি এবং তারা সুস্থ আছেন। “তাদের যা যা চিকিৎসা দরকার, সে ব্যবস্থা করা হয়েছে। মাঝে মাঝেই তাদের পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। পুরোপুরি সেরে উঠতে আরও কিছুদিন সময় লাগবে। দুই সপ্তাহ আমরা দেখব, সম্পূর্ণ সেরে উঠলে তখন তাদের আমরা ছাড়তে পারব।”
দক্ষিণ আফ্রিকা, যেখানে ওমিক্রনের প্রথম রোগী ধরা পড়েছিল, সেখানকার এক চিকিৎসক জানিয়েছিলেন যে এই ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্তদের উপসর্গ মৃদু। আক্রান্তদের হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজনও পড়ছে না। ভারতে যে ৩৩ জনের মধ্যে ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হয়েছে, তাদের তেমন কোনো জটিলতা নেই বলে দেশটির স্বাস্থ্য দপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
ওমিক্রনের রোগীদের ক্ষেত্রে দুর্বল ভাব এবং গা ও মাথা ব্যথার উপসর্গই দেখা যাচ্ছে। তাদের অক্সিজেনের মাত্রা কমে যাওয়ার লক্ষণ দেখা যায়নি, যেটা ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছিল। ওমিক্রনে বিশ্বে এখন অবধি কারও মৃত্যুর নিশ্চিত খবরও পাওয়া যায়নি। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, দুই নারী ক্রিকেটারের সঙ্গে যারা যারা ছিল, তাদের সবার নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে।
এদিকে বিসিবি সভাপতি নাজমুল সাংবাদিকদের বলেন, ওমিক্রন আক্রান্ত দুই ক্রিকেটারের খোঁজই নিয়মিত রাখছেন তিনি। “তারা সুস্থ আছে। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে। তাদের কোনো উপসর্গ নাই।” তাদের সঙ্গী অন্য নারী ক্রিকেটাররাও কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন বলে জানান তিনি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “ডব্লিউএইচও আমাদেরকে জানিয়েছে, আমরা যে সমস্ত টিকা ব্যবহার করছি, এই টিকাও ওমিক্রনকে প্রতিরোধ করার কাজ করে। আমরা চাইব, যারা এখনও টিকা নেয় নাই, তারা তাড়াতাড়ি যেন টিকা নিই।” ইতোমধ্যে ৭ কোটি মানুষ টিকার প্রথম ডোজ পেয়েছেন জানিয়ে তিনি বলেন, “এরমধ্যে দ্বিতীয় ডোজ চার কোটির বেশি হয়ে গেছে। এখনও বেশ কিছু বাকি আছে, তারা যেন তাড়াতাড়ি টিকা গ্রহণ করে।”


প্রকাশিত: ডিসেম্বর ১২, ২০২১ | সময়: ৪:২৫ পূর্বাহ্ণ | সুমন শেখ

আরও খবর