, , ।
আসাদুজ্জামান মিঠু, বরেন্দ্র অঞ্চল প্রতিনিধি: রাজশাহীর বরেন্দ্র অঞ্চলে উচুঁ-নিচু শক্ত মাটিতে একের পর এক চাষাবাদে সফলতার গল্প শোনা যায়। আর এবার একটু ব্যতিক্রম চাষাবাদ শুরু হয়েছে বরেন্দ্রের মাটিতে। মাল্টা-কমলা আরবের খেজুর ডাব বেদেনাসহ নানান জাতের ফল চাষাবাদে সফলতা মিলেছে আগেই।
তবে এবার চা-কফি প্রেমিদের জন্য সুখবর নিয়ে এলো কৃষি সম্প্রাসরণ অধিদপ্তর। তাদের দেয়া বীজে কৃষক পর্যায়ে কফি চাষে সফলতা এনেছেন শফিকুল ইসলাম নামে এক কৃষক। তার বাগানে শতশত গাছে ঝুলছে তরতাজা কফি। কফি চাষে সফলতা পেয়ে কৃষি সম্প্রাসারণ অধিদপ্তর বেশ উদ্যামী হয়ে উঠেছে। কফি পাকার পর কৃষক যেন নিজেই প্রক্রিয়া জাত-প্রস্তত করতে পারে সেজন্য কৃষক শফিকুল ইসলামকে একটি পাকা ঘর এক নির্মাণ করে বিনামূল্যে একটি মেশিন সরবারহ করেছেন কৃষি সম্প্রাসরণ অধিদপ্তর।
রাজশাহীর বরেন্দ্র অঞ্চল হিসাবে পরিচিতি তানোর উপজেলার মুন্ডুমালা পৌর এলাকার জোতগরিব গ্রামে বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম বাড়ি আগে চাপাইনবাবগঞ্জ জেলা থাকলে এখন তিনি বরেন্দ্র অঞ্চলের স্থানীয় বাসিন্দা হয়ে উঠেছেন। দীর্ঘ প্রবাস জীবন শেষ করে ৫ বছর আগে তিনি মিশ্র ফল বাগার শুরু করেন। পরিবেশ সংরক্ষণ ও বৃক্ষরোপণে বিশেষ অবদানে স্বীকৃতিস্বরুপ তিনি জাতীয় বৃক্ষরোপন পুরস্কার ২০২৫ এ ব্যাক্তি শ্রেনীতে (শ্রেনি-গ) প্রথম স্থান অর্জন করে প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে পুরস্কার গ্রহন করেন।
শফিকুল ইসলাম জোতগরিব বাড়ি পাশে প্রায় ৪০ বিঘা জমি উপর গড়ে তুলেছেন নানা জাতের ফলের বাগান। তবে কফি চাষ করেছেন প্রায় ৫০ শতক জমিতে। তিন বছর আগে ১৩০ টি কফির গাছ লাগালেও গত বছর থেকে ফল পাচ্ছেন তিনি। গত বছল প্রথম ফল পেয়ে ছিলেন প্রায় ৪২ কেজি কফি। চলতি বছর গাছে যে পরিমান কফি ধরেছে তাতে ৫ মণ হবে বলে আসা তার।
শফিকুল ইসলাম বলেন গত তিন বছর আগে তানোর উপজেলা কৃষি সম্প্রাসরণ থেকে উপজেলা চার জন কৃষককে ১৩০ টি করে কফি গাছ দেয়া প্রদর্শনী হিসাবে। অন্য তিনজন সফলতা না পেলেও তিনি কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ ও নিজের মেধা শক্তি এবং পরিশ্রম করে গাছ গুলো বেশ যত্ন নেন। এবং এক বছর পরেই গাছে ফল আসতে শুরু করে। গত বছর ৪২ কেজি কফি পেয়েছিলেন তিনি। সে সময় নিজের কফি প্রক্রিয়া করার মেশিন না থাকায় তিনি এক হাজার টাকা কেজি দরে বিক্রি করে দিয়েছিলেন। শফিকুল ইসলাম আরো বলেন,কফি চাষে সফলতা পাওয়া পরিধি বাড়িয়ে ১৩০ টি থেকে চলতি বছর আরো ৬০০ কফি গাছ দিয়েছে কৃষি বিভাগ। শফিকুল ইসলাম বলেন,বরেন্দ্রর কড়া মাটিতে এমন সুস্বাদু কফি চাষ করা যাবে তিনি কখনো ভাবতে পারেনি। তার কফি চাষ দেখে স্থানী কৃষকেরা কফি চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছে। প্রতিদিনই বিভিন্ন অঞ্চল থেকে কেউ না কেউ তার কফি গাছ দেখতে আসেন।
তানোর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল্লাহ আহম্মেদ বলেন,কফি চাষ বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষকের জন্য এক বাড়তি আয়ের সম্ভবনা রয়েছে। কারণ কফি গাছ রোপনে বাড়তি কোন জায়গার প্রয়োজন নেই। যে কোন ফলের বাগানের গাছের ছায়ার মধ্যে এ গাছ বেড়ে উঠে। কৃষি কর্মকর্তা বলেন,তানোরে শফিকুল ইসলামের কফি চাষে যে সফলতা দেখিয়েছেন তা অন্য কৃষকদের উৎসাহ জুগাবে। কফি একটি লাভজনক চাষাবাদ। বরেন্দ্র অঞ্চলে কফি চাষে বিস্তার হলে দেশে কফি চাহিদা মেটাবে বলে আশা করছি।