, , ।
স্টাফ রিপোর্টার, পুঠিয়া: দিনের শেষে দই বিক্রি সেরে বাড়ি ফিরছিলেন। সেই ফেরাটাই আর হল না। রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার আমহাটায় ড্রাম ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ গেল ভ্যানচালক ও দই ব্যবসায়ী মানিক চাঁদের (৬০)।
একই ঘটনায় গুরুতর আহত হন আরও দু’জন। তাঁদের মধ্যে একজন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। অন্যজন প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরেছেন। দুর্ঘটনার পর ট্রাক ফেলে পালিয়ে যায় চালক। পরে নম্বরপ্লেটবিহীন ট্রাকটি উদ্ধার করেছে পুঠিয়া থানা পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের খবর, শুক্রবার ৩১ জুলাই রাত সাড়ে ৮টা নাগাদ বানেশ্বর-চারঘাট সড়কের আমহাটা খবির হাজির বিল্ডিং-সংলগ্ন এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহত মানিক চাঁদ চারঘাট উপজেলার হলিদাগাছী গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর সঙ্গে ভ্যানে ছিলেন, একই গ্রামের শিবলু (২৮) ও হাসেন আলী (৪৫)। তিনজনই বানেশ্বর থেকে চারঘাটের দিকে যাচ্ছিলেন। সেই সময় বিপরীত দিক থেকে আসা রাজশাহীগামী একটি ড্রাম ট্রাকের সঙ্গে ভ্যানটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
স্থানীয়দের দাবি, সংঘর্ষের অভিঘাত ছিল এতটাই প্রবল যে ভ্যানটি মুহূর্তের মধ্যে দুমড়ে-মুচড়ে যায়। চালক ও দুই যাত্রী ছিটকে পড়েন রাস্তার পাশে। আশপাশের মানুষ দ্রুত তাঁদের উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক মানিক চাঁদকে মৃত ঘোষণা করেন। শিবলুর অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আহত হাসেন আলী চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
দুর্ঘটনার পরই ট্রাক ফেলে পালিয়ে যায় চালক। খবর পেয়ে পুঠিয়া থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে রাজশাহীর বেলপুকুর থানার নর্থ বেঙ্গল ফিলিং স্টেশন এলাকা থেকে নম্বরপ্লেটবিহীন দুর্ঘটনাকবলিত ড্রাম ট্রাকটি উদ্ধার করে। রাত পৌনে ১১টা নাগাদ সেটি থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
পুঠিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদুল ইসলাম বলেন, দুর্ঘটনার পর চালক ট্রাক ফেলে পালিয়ে যান। পরে পুলিশ ট্রাকটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। ট্রাকটির কোনো নম্বরপ্লেট পাওয়া যায়নি। পলাতক চালককে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, বানেশ্বর-চারঘাট সড়কে ভারী যানবাহনের বেপরোয়া গতি এবং অসতর্ক চালনার কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। তাঁদের দাবি, কার্যকর নজরদারি ও কঠোর আইন প্রয়োগ না হলে এমন মর্মান্তিক ঘটনা থামানো কঠিন।