, , ।
রাণীনগর প্রতিনিধি: নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার ঘোষগ্রাম কফিলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোজাহার হোসেনের নিয়োগ, এমপিওভুক্তি, পদোন্নতি ও চাকরির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কৃষি ডিপ্লোমা অর্জনের আগেই এমপিওভুক্ত হওয়া এবং প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা অর্জনের আগে উচ্চতর পদে পদোন্নতি পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
এসব বিষয়ে একাধিকবার তদন্তের কথা জানা গেলেও অভিযোগগুলোর চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্রের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। এদিকে ২০২৪ সালে বরখাস্ত হওয়ার পর ২০২৬ সালের মে মাসে তিনি পুনরায় বিদ্যালয়ে যোগদান করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
অভিযোগসংশ্লিষ্ট নথিপত্রের তথ্য অনুযায়ী, মোজাহার হোসেনের কৃষি ডিপ্লোমা পাসের সাময়িক সনদ ইস্যু করা হয় ২০০০ সালের ২ আগস্ট। অথচ নথিতে দেখা যায়, এর প্রায় চার মাস আগে, ২০০০ সালের ১ এপ্রিল থেকেই তিনি এমপিওভুক্ত হন। ফলে ডিপ্লোমা অর্জনের আগে তাঁর এমপিওভুক্তির প্রক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হয়েছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
নথি অনুযায়ী, তিনি ১৯৯৭ সালের ১ জানুয়ারি কৃষি শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। অভিযোগ রয়েছে, প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার শর্ত পূরণের আগেই তিনি স্থায়ী নিয়োগ পান এবং পরবর্তী সময়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষকের পদে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তবে এসব নিয়োগ ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে তৎকালীন বিধিমালা, অনুমোদনপত্র এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত যাচাই করা প্রয়োজন।
১৯৯৬ সালের ১৪ জানুয়ারি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব ইরশাদুল হক স্বাক্ষরিত একটি পরিপত্রে কৃষি ডিপ্লোমা কোর্সের চতুর্থ সেমিস্টারে অধ্যয়নরত ব্যক্তিদের নির্দিষ্ট শর্তে মাধ্যমিক বিদ্যালয় বা দাখিল মাদ্রাসায় কৃষি শিক্ষকের শূন্যপদে সাময়িকভাবে শিক্ষকতার সুযোগ দেওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে।
পরিপত্র অনুযায়ী, চূড়ান্ত ডিপ্লোমা অর্জনের পর বিধি মোতাবেক নিয়োগ ও সংশ্লিষ্ট সুবিধা পাওয়ার বিষয়টি বিবেচনার কথা বলা হয়েছে। এ অবস্থায় মোজাহার হোসেনের নিয়োগ, এমপিওভুক্তি ও পরবর্তী পদোন্নতির ক্ষেত্রে ওই পরিপত্রসহ প্রযোজ্য বিধিবিধান অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, মোজাহার হোসেনের নিয়োগ ও পদোন্নতি সংক্রান্ত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে একাধিক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। ২০২৪ সালের একটি তদন্ত প্রতিবেদনেও বিভিন্ন অসংগতি উঠে এসেছে বলে সূত্রটি জানিয়েছে। একই বছরের ২১ আগস্ট তাঁকে বরখাস্ত করা হয়েছিল বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। তবে এসব তদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন, বরখাস্তের আদেশ এবং অভিযোগের বিষয়ে কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
পরবর্তী সময়ে ২০২৬ সালের ২১ মে তাঁকে পুনরায় বিদ্যালয়ে যোগদানের সুযোগ দেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তবে নিয়োগ ও পদোন্নতিসংক্রান্ত অভিযোগগুলোর নিষ্পত্তি হয়েছিল কি না এবং পুনর্বহালের সিদ্ধান্তের সঙ্গে সেসব অভিযোগের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের লিখিত আদেশ ও তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা জরুরি।
এসব অভিযোগ অস্বীকার করে প্রধান শিক্ষক মোজাহার হোসেন বলেন, ‘অভিযোগের কোনো সত্যতা নেই। নিয়ম মেনেই চাকরি করছি।’
তিনি তাঁর বক্তব্যের সমর্থনে বিভিন্ন তদন্ত প্রতিবেদন সাংবাদিকদের সরবরাহ করবেন বলে জানিয়েছিলেন। তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত দুই সপ্তাহ পার হলেও তিনি সেগুলো সরবরাহ করেননি।
এ বিষয়ে রাণীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাকিবুল হাসান বলেন, ‘শিক্ষক মোজাহার হোসেনের আগের নিয়োগ ও পদোন্নতিসংক্রান্ত অভিযোগগুলোর বিষয়ে আমার জানা নেই। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তিনি একটি বিস্ফোরক মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। ওই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তাঁকে বরখাস্ত করা হয়। পরবর্তীতে তিনি মুক্তি পেলে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির একটি সভায় তাঁকে স্বপদে পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরকে (মাউশি) অবহিত করা হলে, মাউশির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিনি পুনরায় বিদ্যালয়ে যোগদান করেন।’
প্রধান শিক্ষকের নিয়োগ, এমপিওভুক্তি ও পদোন্নতির অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বিভাগ, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের নথিপত্র যাচাই করে অভিযোগগুলোর বিষয়ে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত জানা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।