, , ।
সবুজ ইসলাম: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমনকে ঘিরে উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়েছে রাজশাহী। আজ (মঙ্গলবার) তার আগমন উপলক্ষে নগরজুড়ে বিরাজ করছে আনন্দ-উচ্ছ্বাস ও উৎসবমুখর পরিবেশ। প্রিয় নেতাকে একনজর দেখতে এবং তাঁকে স্বাগত জানাতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের মধ্যেও তৈরি হয়েছে ব্যাপক কৌতূহল ও উদ্দীপনা।
শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময়ের পাশাপাশি বিকেলে নগরীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে জনসভায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে রাজশাহীর উন্নয়নে একগুচ্ছ পরিকল্পনা তুলে ধরবেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে গত প্রায় এক সপ্তাহ ধরে রাজশাহীতে চলেছে ব্যাপক প্রস্তুতি। নগরীর সড়ক, সড়ক বিভাজক ও বিভিন্ন স্থাপনায় লাগানো হচ্ছে নতুন রং। কোথাও হয়েছে সড়ক সংস্কার, কোথাও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ। নগরীর বিমানবন্দর রোড, আমচত্বর, মহিলা কলেজ রোড, রেলগেট, সাহেববাজারসহ নগরজুড়ে সড়ক সংস্কার করা হয়েছে। পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমেও ব্যস্ত সময় পার করেছেন সিটি কর্পোরেশনের কর্মীরা।
অন্যদিকে, ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে প্রস্তুত করা হয়েছে সুবিশাল মঞ্চ। জনসভাকে সফল করতে সাংগঠনিকভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছেন বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের প্রথম রাজশাহী সফরকে ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে বাড়তি উচ্ছ্বাস। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, তাঁকে স্বাগত জানাতে নগরীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা প্রস্তুতি নিয়েছেন। জনসভায় ব্যাপক মানুষের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে চলছে নানা তৎপরতা। নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা, প্রধানমন্ত্রীর এ সফর রাজশাহীর উন্নয়ন, কৃষি ও কর্মসংস্থানসহ উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলবে।
প্রধানমন্ত্রীর সফরের অংশ হিসেবে আজ বেলা দেড়টায় রাজশাহী ধর্মসভা মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করবেন। পরে বেলা ৩টায় মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত জনসভায় যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।
রাজশাহী সদর আসনের সংসদ সদস্য ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু সোমবার জনসভাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের এটিই প্রথম রাজশাহী সফর। তাঁর আগমনকে স্বাগত জানাতে রাজশাহীবাসী প্রস্তুত। দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে এ সফর সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সৌহার্দ্যের বার্তা বহন করবে।
রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন বলেন, অল্প সময়ের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর সফরের প্রস্তুতি নিতে হলেও রাজশাহীর মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও আবেগ কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের এটিই প্রথম রাজশাহী সফর। তাঁর আগমনকে ঘিরে দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তিনি আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সন্তান হিসেবে তারেক রহমানের এ আগমন রাজশাহীর মানুষের কাছে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। দীর্ঘদিনের সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তারেক রহমান দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করেছেন বলেও দাবি করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর এ সফরে রাজশাহীর দীর্ঘদিনের দাবি ও প্রত্যাশাগুলো তুলে ধরা হবে বলে জানান সংসদ সদস্য মিলন। এসব দাবির মধ্যে রয়েছে বীজ সংরক্ষণের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, রাজশাহী বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীত করা, কৃষিভিত্তিক রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) স্থাপন, রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মাণকাজ দ্রুত সম্পন্ন করা এবং পূর্ণাঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা। পাশাপাশি রাজশাহী নগরীকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘শিক্ষা নগরী’ ঘোষণা করার দাবিও জানানো হবে।
প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে নেতাকর্মীদের উচ্ছ্বাসের কথা তুলে ধরে রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম রাজশাহী সফরকে কেন্দ্র করে মহানগর বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত ও উচ্ছ্বসিত। রাজশাহীবাসীও তাঁকে একনজর দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি মহানগরবাসীর মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। রাজশাহীর মানুষের ভালোবাসা ও প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটবে এ সফরে। তাঁর আগমনে নগরীর উন্নয়ন-অগ্রযাত্রা আরও ত্বরান্বিত হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
মাহফুজুর রহমান রিটন আরও জানান, রাজশাহীর উন্নয়নে বেশ কিছু পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বিমান চত্বর থেকে কাশিয়াডাঙ্গা পর্যন্ত চার লেনের সড়ক নির্মাণ, কুমারপাড়া গুলগফুর পেট্রোল পাম্প থেকে বড়কুঠি হয়ে বরেন্দ্র জাদুঘর ও ফায়ার ব্রিগেড মোড় পর্যন্ত সড়ক উন্নয়ন ও প্রশস্তকরণ, নগরীর ৩০টি ওয়ার্ডে খেলার মাঠের উন্নয়ন ও ফুটসাল গ্রাউন্ড নির্মাণ এবং সিনিয়র সিটিজেন পার্ক স্থাপন। তিনি বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে নগরীতে বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। কিছু প্রকল্প সরকারের অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট হয়ে পড়ে থাকা হেতেমখাঁ-বর্ণালী সড়কের উন্নয়নকাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। মসজিদ, মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নেও কাজ চলছে।
এদিকে, উত্তরাঞ্চলের কৃষি ও কৃষকদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে আখচাষিদের জন্য প্রধানমন্ত্রী বিশেষ বার্তা দিতে পারেন বলে জানা গেছে। ফলে কৃষিনির্ভর এ অঞ্চলের মানুষের মধ্যেও সফরটি ঘিরে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। কৃষি, যোগাযোগ, উচ্চশিক্ষা ও নগর অবকাঠামোর উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হলে রাজশাহীসহ পুরো উত্তরাঞ্চল উপকৃত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠের মঞ্চ নির্মাণসহ সার্বিক প্রস্তুতি ও অগ্রগতি পরিদর্শন করেছেন রাজশাহী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আবু সাঈদ চাঁদ এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির রাজশাহী বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহীন শওকত। এ ছাড়া মাঠ পরিদর্শন করেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার মো. ইউসুফ আলী, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার হাবিবুর রহমান, জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলামসহ প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারা। তাঁরা জনসভা ঘিরে সার্বিক প্রস্তুতি ও মাঠের কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহী মেট্রোপালিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার মুখপাত্র গাজীউর রহমান বলেন, রাজশাহী মেট্রোপালিটন পুলিশের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থাগ্রহণ করা হয়েছে। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী যেখানে ল্যান্ড করবেন, সেখান থেকে শুরু যে দুইটি স্থান পরিদর্শন করবেন, এই স্থানসহ পুরো রুটটাতে আমাদের যে ধরনের নিরাপত্ত ব্যবস্থা দরকার, এই বিষয়গুলো আমরা পরিদর্শন করেছি। আমরা গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করছি। এগুলো সম্বয়ন করে প্রধানমন্ত্রীর সফর ও জনসভা নিরাপদ ও সুষ্ঠ, সুন্দর হয় এই বিষয়গুলো সামনে রেখে আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি।
সব মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমনকে ঘিরে রাজশাহীতে এখন উৎসবের আমেজ। নগরজুড়ে সাজসজ্জা, জনসভা ঘিরে প্রস্তুতি এবং নেতাকর্মীদের উচ্ছ্বাসে তৈরি হয়েছে প্রাণচাঞ্চল্য। দুর্গোৎসবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময় ও জনসভায় বক্তব্যের মধ্য দিয়ে এ সফর সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, রাজনৈতিক যোগাযোগ এবং রাজশাহীর উন্নয়ন-প্রত্যাশার ক্ষেত্রে কতটা তাৎপর্য বহন করে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন নগরবাসী।