সর্বশেষ সংবাদ :

দুজনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা, ৫ কর্মকর্তা সাময়িক বরখাস্ত : নাটোরে সোনালী ব্যাংকে আত্মসাৎ জালিয়াতি

স্টাফ রিপোর্টার, নাটোর: নাটোরে রাষ্ট্রয়াত্ব সোনালী ব্যাংকে জালিয়াতি করে ১ কোটি ২৭ লাখ ৩৬ হাজার টাকা আত্মসাৎ এবং ভূঁয়া, মিথ্যা ঋণ ও অতিরিক্ত আমানত বৃদ্ধি দেখানো সহ নানা অপরাধে নাটোর পুরাতন বাসস্ট্যান্ড শাখার সাবেক ব্যবস্থাপক লিটন কুমার এবং বিপ্লব কুমার পালকে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে দেশের সকল ইমিগ্রেশনকে চিঠি দিয়েছে সোনালী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।
এ ছাড়া কোটি কোটি টাকার ভূঁয়া, মিথ্যা ঋণ ও অতিরিক্ত আমানত বৃদ্ধি দেখানোর বিষয় আভ্যন্তরিন অডিটে প্রমাণিত হওয়ায় মোট চারজন শাখা ব্যবস্থাপক সহ ৫ কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
একই সাথে অভিযুক্তদের স্ব স্ব দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে ব্যাংকের প্রধান শাখায় সংযুক্ত করতে বলা হয়েছে। গত ২২ ও ২৩ সেপ্টেম্বর সোনালী ব্যাংকের ভিজিল্যান্স এন্ড কমপ্লেইন্ট ম্যানেজমেন্ট ডিভিশন নাটোর ও নওগাঁর প্রধান শাখাকে গোপনীয়তার সাথে চিঠি দিয়ে এই নির্দেশনা দিলেও সোমবার বিষয়টি প্রকাশ হয়ে পড়ে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি সোনালী ব্যাংকের নাটোর শহরের বাসস্ট্যান্ড শাখা (পুরাতন মহিলা শাখা), স্টেশন বাজার শাখা, গুরুদাসপুর এবং চাঁচকৈড় শাখায় অভ্যন্তরীণ বিশেষ অডিট পরিচালনা করে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। এতে সোনালী ব্যাংক বাসস্ট্যান্ড শাখার সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক বর্তমানে নওগাঁ প্রধান শাখার সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার লিটন কুমার জালিয়াতি করে ব্যাংকের ৯২ লাখ ৭ হাজার টাকা এবং বাসস্ট্যান্ড শাখার সাবেক প্রিন্সিপাল অফিসার এবং বর্তমানে নওগাঁর টিটিডিসি শাখা ব্যবস্থাপক বিপ্লব কুমার পাল ৩৫ লাখ ২৮ হাজার টাকা আত্মসাৎ করে। পাশাপাশি সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার লিটন কুমার সেরা শাখা ব্যবস্থাপক হয়ে পুরস্কার বা এ্যাওয়ার্ড পাওয়ার জন্য অবৈধ উদ্দেশ্যে তিন কোটি ১১ লাখ ২৫ হাজার ৫০০ টাকার ভূঁয়া, মিথ্যা ঋণ ও অতিরিক্ত আমানত বৃদ্ধি দেখিয়েছেন। এগুলো সহ আরো বিভিন্ন গ্রাহকের নামে অর্থ আত্মসাতে বাসস্ট্যান্ড শাখার সাবেক শাখা প্রধান লিটন কুমারকে একই শাখার সাবেক প্রিন্সিপাল অফিসার এবং বর্তমানে নওগাঁর টিটিডিসি শাখা ব্যবস্থাপক বিপ্লব কুমার পাল সহযোগিতা করেন।
অডিটে নাটোর স্টেশন বাজার শাখার সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক বর্তমানে প্রধান শাখার সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার এএইচএম রোকনুজ্জামান ৪৭ লাখ ৩৬ হাজার টাকার ভূঁয়া ঋণ ও অতিরিক্ত আমানত বৃদ্ধি, একই অভিযোগে গুরুদাসপুর শাখার সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক বর্তমানে প্রধান শাখার সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার মনিরুজ্জামান ৭৭ লাখ ৯৯ হাজার টাকা এবং চাঁচকৈড় শাখার সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক বর্তমানে বড়াইগ্রাম শাখার প্রিন্সিপাল অফিসার হাফিজুর রহমান ২ কোটি ৮৮ লাখ টাকার ভূঁয়া, মিথ্যা ঋণ ও অতিরিক্ত আমানত বৃদ্ধি দেখিয়ে সেরা শাখা ব্যবস্থাপক হওয়ার পাশাপাশি ব্যাংকের ক্ষতিসাধন করেছে।
এ ধরণের জালিয়াতিমূলক কর্মকান্ডের শাস্তিমুলক ব্যবস্থা নিতে ৫ জন কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে সোনালী ব্যাংক পিএলসি কর্তৃপক্ষ। এছাড়া ১ কোটি ২৭ লাখ ৩৬ হাজার টাকা আত্মসাৎ এবং ভূঁয়া ঋণপত্র ও অতিরিক্ত আমানত বৃদ্ধি দেখানোর অপরাধে নাটোরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড শাখার সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক লিটন কুমার এবং বিপ্লব কুমার পালকে দেওয়া হয়েছে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা।
সোনালী ব্যাংকের জেনারেল ম্যানেজার ইনচার্জ শওকত জামান স্বাক্ষরিতপত্রে এই দুই কর্মকর্তাকে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে দেশের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও স্থল বন্দরের সকল ইমিগ্রেশনকে চিঠি দিয়েছে সোনালী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। সোনালী ব্যাংকের পাঁচটি শাখার শীর্ষ পাঁচজন কর্মকর্তার এধরনের জালিয়াতি প্রকাশ হয়ে পড়ায় জেলা জুড়ে সমালোচনার ঝড় বইছে।
এ সব বিষয়ে জানতে বার বার চেষ্টা করেও নাটোরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড শাখার সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক লিটন কুমারকে পাওয়া যায়নি। অপর অভিযুক্ত বিপ্লব কুমার পাল সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, বরখাস্ত ও দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার কোন লিখিতপত্র এখনো তিনি হাতে পাননি, তবে লোকমুখে শুনেছেন। লিখিতপত্র পেলে এ বিষয়ে কথা বলবেন।
অপরদিকে সোনালী ব্যাংকের নাটোর আঞ্চলিক কার্যালয়ের এজিএম ও ইনচার্জ আহসান রেজা বলেছেন, আত্মসাত ও জালিয়াতির দায়ে পাঁচ কর্মকর্তা সাময়িক বরখাস্ত ও দুজনকে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার ঘটনাটি সঠিক বললেও এ বিষয়ে মিডিয়ার সামনে এর চেয়ে বেশি কোন কথা তিনি উর্দ্ধতনদের অনুমতি ছাড়া বলতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন।


প্রকাশিত: September 29, 2026 | সময়: 7:36 am | সুমন শেখ