, , ।
স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীর দামকুড়া থানার হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালতে শালিস বৈঠক চলাকালে জিয়াউল কবির (৪৮) নামের এক স্থানীয় সাংবাদিককে হত্যা চেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক বাদী হয়ে গত রবিবার দামকুড়া থানায় ৫ জনকে এজাহারনামীয় আসামী করে মামলাটি দায়ের করেন। মামলার এজাহার নামীয় আসামীরা হলেন পবার হরিপুর ইউনিয়নের সোনাইকান্দি বেড়পাড়া এলাকার মৃত খলিলুর রহমানের পুত্র ১. ফেরদৌস রহমান খোকন (৫৫), ২. ইসমাইল হোসেন পিন্টু (৬০), মৃত জয়নাল আবেদীনের পুত্র ৩. এজাহারুল হক কাকন (৫৭), ৪.মৃত লুতফার রহমান ঝাটুর পুত্র আজিজুর রহমান (৬০) এবং মৃত আব্দুল মান্নানের পুত্র ৫. শহিদুল ইসলাম (৩৫)।
বাদীর থানায় দায়েরকৃত এজাহার সূত্রে জানা যায়, হরিপুর ইউনিয়নের হরিপুর মৌজার সোনাইকান্দি জঙ্গলপাড়া এলাকার জমি সংক্রান্ত বিবাদ নিষ্পত্তির জন্য আদালতের নির্দেশক্রমে গত ১০ সেপ্টেম্বর হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালতে শালিসী বিচার বসে। বিচার চলাকালে ইউপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বিবাদী আজিজুর রহমান ও শহিদুল ইসলামকে ৩ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা বললে ১ ও ৩ নং আসামী ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।
একপর্যায়ে এজলাসের সামনে আসামীরা ক্ষিপ্ত ও উত্তেজিত হয়ে চেয়ারম্যানকে তেড়ে আসলে সাংবাদিক জিয়াউল কবির বিষয়টি পুনরায় উচ্চ আদালতে পাঠানোর পরামর্শ দেন। এতে তারা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে আসামীরা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মুসফিকুর রহমান রাসেল আসামীদের কক্ষের বাইরে বের করে দিলে তারা বাইরে গিয়ে সংঘবদ্ধ হয়ে সাংবাদিক জিয়াউল কবিরকে মারধর করে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
হামলার মুখে বাদী জিয়াউল কবির হেলমেট দিয়ে নিজ মাথা রক্ষার চেষ্টা করেন। এ সময় উপস্থিত মেম্বারসহ সাক্ষীরা দ্রুত এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে চেয়ারম্যানের কক্ষে নিয়ে যান। পরে ঘটনাস্থল ত্যাগ করার সময় আসামীরা সাংবাদিক জিয়াউল কবিরকে বিভিন্ন ধরণের ভয়ভীতি ও প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। মামলার বিষয়ে দামকুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, ভুক্তভোগী সাংবাদিকের লিখিত এজাহারের ভিত্তিতে থানায় নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। মামলার পর থেকে এজাহারনামীয় আসামীদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযানসহ পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।