, , ।
স্টাফ রিপোর্টার: বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষি ও কৃষকের উন্নয়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ’র) মাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার বিএমডিএ’র প্রধান কার্যালয় ক্যাম্পাসে রাজশাহী সার্কেল এর আয়োজিত সভায় প্রতিষ্ঠানের চলমান বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম, প্রকল্প বাস্তবায়নের অগ্রগতি, সেচ ব্যবস্থাপনা এবং মাঠপর্যায়ে কৃষকদের সেবা প্রদানের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএমডিএ’র নির্বাহী পরিচালক মোঃ জাহাঙ্গীর আলম খান (গ্রেড-২)। সভায় বিএমডিএর বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সংশিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় রাজশাহী, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নাটোরের নির্বাহী প্রকৌশলী এবং রিজিয়নের আওতাধীন বিভিন্ন জোনের সহকারী প্রকৌশলীরা উপস্থিত ছিলেন। বরেন্দ্র অঞ্চলে সেচ কার্যক্রম সচল রাখা, কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী সেচসেবা নিশ্চিত করা, চলমান উন্নয়ন প্রকল্প গুলোর কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা এবং মাঠপর্যায়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কার্যক্রম আরও জোরদার করার ওপর গুরত্ব দেওয়া হয়।
মাসিক সমন্বয় সভায় নিজ নিজ এলাকার চলমান কার্যক্রম, সেচ ব্যবস্থাপনা এবং মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনার বিষয়গুলো তুলে ধরেন। পাশাপাশি আসন্ন সেচ মৌসুমকে সামনে রেখে ডিপ টিউবওয়েল গুলোর সার্বিক অবস্থা ও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা করা হয়। একই সঙ্গে কৃষকদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানো এবং তাঁদের সমস্যা দ্রুত সমাধানের ওপর গুরত্ব আরোপ করা হয় ও সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার, কাজের মান বজায় রাখা এবং প্রতিষ্ঠানের সেবামূলক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার বিষয়েও আলোচনা হয়।
সভাপতির বক্তব্যে নির্বাহী পরিচালক মোঃ জাহাঙ্গীর আলম খান বলেন, বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিএমডিএ’র কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। মাঠপর্যায়ে কৃষকদের প্রয়োজন ও সমস্যাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে। বরেন্দ্র অঞ্চলের কমান্ড এরিয়ার মধ্যে কোনো অবৈধ ডিপ টিউবওয়েল থাকতে দেওয়া হবে না। অবৈধ ভাবে পরিচালিত ডিপ টিউবওয়েলের বিষয়ে সংশিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কর্মকর্তাদের দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে উপজেলা নির্বাহী অফিসার, পুলিশ প্রশাসন ও সেচকমিটিকে সাথে নিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেন তিনি। কৃষকের সেচ সুবিধা নিশ্চিত করাই বিএমডিএর অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। তাই সেচ ব্যবস্থাপনায় কোনো ধরনের অনিয়ম বা অব্যবস্থাপনা বরদাশত করা হবে না। কমান্ড এরিয়ার মধ্যে অবৈধ ডিপ টিউবওয়েল পরিচালনার কারণে যাতে বৈধ সেচ ব্যবস্থাপনা ও কৃষকের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্থ না হয়, সেদিকে কর্মকর্তাদের সতর্ক থাকতে হবে।
সভায় তিনি আরও বলেন, বরেন্দ্র অঞ্চলে সেচ ব্যবস্থাকে আরও টেকসই, সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব করতে প্রচলিত বিদ্যুৎনির্ভর ডিপ টিউবয়েলগুলো পর্যায়ক্রমে সৌরবিদ্যুৎচালিত সোলার ব্যবস্থায় রুপান্তরের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গেএসব সেচ পাম্পে নেট মিটারিং ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে উৎপাদিত অতিরিক্ত সৌরবিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করে বিদ্যুৎ খরচ কমানোর পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।
বরেন্দ্র অঞ্চলের বিএমডিএ’র কমান্ড এরিয়ার মধ্যে বিভিন্ন সমস্যার কারণে যেসব ডিপ টিউবওয়েল বর্তমানে বন্ধ রয়েছে, সেগুলোর সমস্যা চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধান করতে হবে। প্রয়োজনে সংশিষ্ট প্রকৌশলী ও মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সরেজমিনে পরিদর্শন করে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। আসন্ন সেচ মৌসুম শুরুর আগেই বন্ধ ডিপ টিউবওয়েল গুলো সচল করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। কৃষক যেন সেচের পানির জন্য কোনো ধরনের সমস্যায় না পড়েন, সেটিই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। সেচ মৌসুমে প্রতিটি ডিপ টিউবওয়েল সচল রাখা এবং কৃষকের কাছে সময়মতো পানি পৌঁছে দেওয়ার জন্য সবাইকে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।”
সভায় বরেন্দ্র অঞ্চলে কৃষকদের সেচসুবিধা নিশ্চিত করার পাশাপাশি, কৃষি উৎপাদন বাড়ানো, অনাবাদি জমি চাষের আওতায় আনা পানি ও সেচ ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করা, কাজের গতি বাড়ানোর পাশাপাশি প্রতিটি ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা এবং বিএমডিএ’র সেবার পরিধি আরও সম্প্রসারণের বিভিন্ন দিক নিয়েও আলোচনা করা হয়।
মাসিক সমন্বয় সভায় উপস্থিত ছিলেন অতিঃ প্রধান প্রকৌশলী ড. আবুল কাসেম, সচিব মেহেদী হাসান, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আব্দুল লতিফ, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এটিএম মাহফুজুর রহমান, তত্ত্বাবধায়ক শিবির আহমেদ, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জিন্নুরাইন খান, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী রুবিনা খাতুন, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান মনির, নির্বাহী প্রকৌশলী এনামুল কাদির, নির্বাহী প্রকৌশলী হারুন-অর-রশিদ, নির্বাহী প্রকৌশলী তোফাজ্জল আলী সরকার, নির্বাহী প্রকৌশলী তরিকুল ইসলাম, নির্বাহী প্রকৌশলী এ,এস.এম দেলোয়ার হোসেন সহ প্রোগ্রামার/সিনিয়র কেমিস্ট, উপ-পরিচালক সেবা/হিসাব নিয়ন্ত্রক, সহকারী প্রকৌশলী, সহকারী ব্যসস্থাপক কৃষি উপস্থিত ছিলেন।
মাসিম সমন্বয় সভার শুরুতে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক চেয়ারম্যান ড.এম আসাদুজ্জামানসহ কর্তৃপক্ষের যারা মৃত্যুবরণ করেন তাদের সহ সকলের জন্য দোযা করেন বিএমডিএ’র জামে মসজিদের পেশ ইমাম।