, , ।
ঈশ্বরদী প্রতিনিধি: পাবনার ঈশ্বরদীতে স্বেচ্ছাসেবকদলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর রাতে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের আহবায়ক শরিফুল ইসলাম শরিফ (৪৪) কে প্রথমে গুলি করে ও পরে এলোপাথারী কুপিয়ে গুরুতর আহত করেছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার রাত ১২টার দিকে ঈশ্বরদী উপজেলার জয়নগরে একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুলের সামনের সড়কে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে শরিফকে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে শরিফের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
স্থানীয় এলাকাবাসী ও পুলিশ জানায়, জয়নগর শিমুলতলা মোড় থেকে শরিফুল ইসলাম শরিফ নিজেই প্রাইভেটকার চালিয়ে জয়নগরে নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন। জয়নগর কিন্ডারগার্টেন স্কুলের সামনে পৌঁছালে সেখানে আগে থেকে ওৎ পেতে থাকা কয়েকজন দুর্বৃত্ত তার প্রাইভেটকারের সামনে দাঁড়িয়ে গুলি চালায়। এতে প্রাইভেটকারটি থেমে গেলে শরিফকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে তারা। এতে শরিফের মুখমণ্ডলসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়।
স্থানীয়রা গুরুতর আহত শরিফকে উদ্ধার করে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তার অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন।
ঈশ্বরদী উপজেলা জিয়া সাংস্কৃতিক সংসদ (জাসাস)-এর সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক মাষ্টার বলেন, দুর্বৃত্তদের হামলায় গুরুতর আহত শরিফুল ইসলাম শরিফের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি।
ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আশাদুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। আহত শরিফকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। হামলাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ শুরু করেছে।
বিএনপির একাধিক সুত্র জানায়, ঈশ্বরদী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম শরিফ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবের অনুসারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
সম্প্রতি ঈশ্বরদী উপজেলার মানিকনগর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পদকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে চরম বিরোধের সূত্রপাত হয়। শরিফ ওই বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পদপ্রত্যাশী ছিলেন। তবে সেই পদে আওয়ামীলীগের একজন সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর শরিফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবকে উদ্দেশ করে ‘কত টাকায় সভাপতির পদ বেচলেন’ সহ নানা মন্তব্য করে স্ট্যাটাস দেন। যা নিয়ে পাল্টা-পাল্টি সংবাদ সম্মেলন সহ নানা কর্মসূচী পালন হয়।
এ ছাড়াও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের আহবায়ক শরিফসহ ৬ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়ে লিখিত চিঠি দেন। এরপর থেকেই হাবিবপন্থীদের সঙ্গে শরিফের বিরোধ প্রকাশ্যে রূপ নেয় বলে দলীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে। তবে শরিফের ওপর হামলার সঙ্গে ওই রাজনৈতিক বিরোধের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তাৎক্ষণিকভাবে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশ বলছে, হামলার কারণ ও জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে।
এদিকে বৃহস্পতিবার বিকালে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের আহবায়ক শরিফুল ইসলাম শরীফের উপর হামলার প্রতিবাদ জানিয়ে ঈশ্বরদী শহরে বিশাল বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ঈশ্বরদী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের সাবেক সদস্য সচিব মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে শহরের রেলগেটস্থ জিরো পয়েন্ট থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। সে সময় বক্তারা হামলার সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবী জানান।