, , ।
স্টাফ রিপোর্টার: মফস্বল পত্রিকাগুলো টিকিয়ে রাখতে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন স্থানীয় পত্রিকায় বাধ্যতামূলকভাবে প্রকাশ, বিজ্ঞাপনের হার বৃদ্ধি এবং বিজ্ঞাপন নীতিমালার সংশোধনসহ তিন দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ আঞ্চলিক সংবাদপত্র পরিষদ (বিএএসপি)।
বুধবার (১৯ আগস্ট) তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনের কাছে এক দাবিনামায় সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ এসব দাবি জানান।
বিএএসপির দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে। স্থানীয় পত্রিকায় বিজ্ঞাপন ও ক্রোড়পত্র বৃদ্ধি: সরকারি, বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন স্থানীয়ভাবে প্রকাশিত কমপক্ষে দুটি পত্রিকায় দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি সরকারি ক্রোড়পত্র খাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে মফস্বলের পত্রিকাগুলোতে নিয়মিত ক্রোড়পত্র দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞাপনের হার বৃদ্ধি: ২০১৯ সালের নির্ধারিত বিজ্ঞাপন হার বর্তমান বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় উল্লেখ করে মফস্বল দৈনিক পত্রিকার জন্য প্রতি কলাম ইঞ্চি বিজ্ঞাপনের ন্যূনতম হার ১ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবি জানিয়েছে বিএএসপি। একই সঙ্গে প্রতি দুই থেকে তিন বছর পরপর বাজারমূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিজ্ঞাপনের হার পুনর্র্নিধারণ এবং মফস্বল পত্রিকার বাস্তবতা বিবেচনায় যৌক্তিক প্রচার সংখ্যা নির্ধারণের দাবি করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন নীতিমালার ভাষা সংশোধন: পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস (পিপিআর) ২০০৩ এবং বিজ্ঞাপন ও ক্রোড়পত্র নীতিমালা ২০০৮-এ জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞাপন ‘প্রকাশ করতে হবে’ বলা হলেও স্থানীয় ও আঞ্চলিক পত্রিকার ক্ষেত্রে ‘প্রকাশ করতে পারবে’ উল্লেখ রয়েছে। এই বৈষম্য দূর করে জাতীয়, স্থানীয় ও আঞ্চলিক সব পত্রিকার ক্ষেত্রে ‘প্রকাশ করতে হবে’ ভাষা ব্যবহারের মাধ্যমে দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারির দাবি জানানো হয়েছে।
দাবিনামায় বিএএসপি জানায়, করোনাভাইরাস মহামারির পর থেকে মফস্বল পত্রিকাগুলো দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক সংকটে রয়েছে। কাগজ, কালি, ছাপাখানা, অফিস ভাড়া ও সাংবাদিক-কর্মচারীদের বেতনসহ বিভিন্ন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বর্তমান বিজ্ঞাপন হার দিয়ে পত্রিকা পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে।
সংগঠনটির দাবি, দেশের জেলা পর্যায় থেকে প্রকাশিত সরকারি মিডিয়া তালিকাভুক্ত ৩০৫টি দৈনিক পত্রিকার সঙ্গে হাজার হাজার সাংবাদিক ও কর্মচারীর জীবন-জীবিকা জড়িত। এসব পত্রিকা টিকিয়ে রাখতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। দাবিনামায় বিএএসপির সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেন মঞ্জু ও মহাসচিব জাফর আহমেদ স্বাক্ষর করেন।