সর্বশেষ সংবাদ :

কাটা ডাল বুকে জড়িয়ে কাঁদছে দুই ভাই বড়াইগ্রামে বরই বাগানের দুইশ’ গাছ কেটে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা

বড়াইগ্রাম প্রতিনিধি: ‘আমরা খুবই গরীব ঘরের ছেলে। খুব কষ্ট করে আমি রেস্টুরেন্টে আর আমার ছোট ভাই অন্যের জমিতে কাজের ফাঁকে ফাঁকে বাগানটা দাঁড় করাইছিলাম। এনজিও’র ঋণ আর নিজেদের উপার্জনের সব টাকা ঢালিচি এর পিছনে। এক একটা গাছ আমারে ছাওয়ালের (সন্তানের) মতন, কিন্তু হিংসা কইরি আমারে বাগানডাক রাইতের আন্ধাইরে শেষ কইরি দিলো।’ নিজের বাগানে দাঁড়িয়ে কাঁদতে কাঁদতে কথাগুলো বলছিলেন নাটোরের বড়াইগ্রামের চকনটাবাড়িয়া গ্রামের তরুণ উদ্যোক্তা কাওসার আহমেদ (৩২)। তিনি ওই গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে।
এ ঘটনায় কাওসারের ছোট ভাই শাওন আলম শুক্রবার থানায় একই গ্রামের গোলাম মাওলার ছেলে আসাদুল ইসলামের নামে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার ভোর তিনটা থেকে পাঁচটার মধ্যে যে কোন সময় উপজেলার চক নটাবাড়িয়া গ্রামে কাওসার ও তার ছোট ভাই শাওন আলমের স্বপ্নের বাগানের দুই শতাধিক ফল ও ফুলে ভরা বড়ই গাছ কেটে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা। বেসরকারি সংস্থার ঋণ আর ধারকর্জের টাকায় তারা দু’জনে আড়াই বিঘা জমিতে গড়ে তোলেন বড়ই বাগান। এজন্য আড়াই বিঘা জমি বাৎসরিক ৪৫ হাজার টাকায় লিজ নেন তারা। বাগানে প্রায় ছয় শ’ বড়ই গাছ রয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে শ্রম ও অর্থ ব্যয় করে বাগানটি পরিচর্যা করে আসছিলেন তারা। ইতিমধ্যে বাগানের পিছনে লিজের টাকা সহ প্রায় সাত লাখ টাকা খরচ হয়েছে। শুক্রবার সকালে শাওন বাগানে গিয়ে দেখেন গেটের তালা ভেঙ্গে রাতের অন্ধকারে দুর্বৃত্তরা দুই শতাধিক গাছ কেটে ফেলেছে। খবর পেয়ে ছুটে যান বড় ভাই কাওসারও। এ সময় কেটে ফেলা ফলবান গাছের ডালগুলো বুকে জড়িয়ে ধরে কান্না জড়িত কন্ঠে শাওন বলেন, বাগানে কোনদিন একটা কামলা (শ্রমিক) নেইনি। রোদে পুড়ে-বৃষ্টিতে ভিজে সব কাজ নিজেরাই করিছি। ১০-১১ মাসের শ্রম-ঘামে বড় করা গাছগুলা এইভাবে কাটপি স্বপ্নেও ভাবিনি।
ক্ষতিগ্রস্থ শাওন জানান, বৃহস্পতিবার তিনি বাগানের সেচপাম্প দিয়ে বাগান সংলগ্ন এক ব্যাক্তির অনুরোধে তার দুই বিঘা জমিতে সেচ দিয়ে দেন। কিন্তু এতে পাশের গভীর নলকুপের ম্যানেজার আসাদুল ইসলাম ক্ষিপ্ত হন। পরে তিনি সেখানে গিয়ে শাওনের সাথে তর্ক-বিতর্ক করেন। রাতেই গাছগুলো কেটে ফেলা হয় এবং সেখান থেকে জমিতে পানি দেয়ার পলিথিনের পাইপগুলোও চুরি হয়ে যায়। এলাকার অন্য কারো সাথে তাদের কোন শত্রুতা নেই। এজন্য আসাদুল ইসলামই গাছগুলো কেটেছে বলে তাদের ধারণা।
থানায় অভিযোগ করার পর থেকে পলাতক থাকায় এবং মোবাইল বন্ধ থাকায় এ ব্যাপারে অভিযুক্ত আসাদুল ইসলামের বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম জানান, এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


প্রকাশিত: August 16, 2026 | সময়: 4:57 am | সুমন শেখ