বৈশাখীর ঘরে বাজল বিয়ের সানাই

স্টাফ রিপোর্টার: ছাপরার সামনে ছোট্ট উঠান। মাটির চুলায় তখন রান্না হচ্ছে পোলাও, মাছ, গরুর মাংস আর পায়েস। উঠানে বিয়ের গানের সুর। নতুন শাড়ি-গয়নায় কনে বৈশাখী, আর নতুন পাঞ্জাবি-পায়জামায় বর তারেক। অভাব আর অসহায়ত্বের সংসারে এমন আয়োজন যেন স্বপ্নের মতোই। সেই স্বপ্ন বাস্তব হলো বুধবার (১২ আগস্ট) বিকেলে রাজশাহীর পবা উপজেলার পারিলা ইউনিয়নের তেবাড়িয়া গ্রামে। বর তারেক বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী। বৈশাখীর বাবা নুর হোসেনও বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী। মা নাসরিন বিবি গৃহিণী। সংসারে অভাব এতটাই প্রকট যে মেয়ের বিয়ের আয়োজন করার সামর্থ্য ছিল না তাঁদের।
অন্যদিকে তারেকের বাবা নেই, অসুস্থ মা-ও তাঁর একমাত্র আশ্রয়। নওগাঁর গোয়ালমান্দা গ্রামের তারেক রাজমিস্ত্রির যোগানদার হিসেবে কাজ করেন। বৈশাখীর পরিবারের অসহায়ত্বের খবর পেয়ে বিয়ের দায়িত্ব নেন পারিলা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি খায়রুল আলম। আর বিয়ের পুরো আয়োজনের খরচ বহন করে ‘লিফাত প্রতিবন্ধী ফাউন্ডেশন’। সংগঠনটির চেয়ারম্যান রিয়াজ শিকদারের উদ্যোগেই দুই তরুণ-তরুণীর বিয়ের আয়োজন করা হয়। বিয়ের অতিথি ছিলেন পারিলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাঈদ আলী মোর্শেদ। তিনি নবদম্পতিকে একটি খাট উপহার দেন। ছোট্ট সেই উঠানে সেদিন তাই শুধু বিয়ের আয়োজন ছিল না- ছিল দুজন অসহায় মানুষের নতুন করে ঘর বাঁধার স্বপ্নও। বিয়েতে তারেকের সঙ্গে ১৫ জন বরযাত্রী আসেন। আমন্ত্রণ জানানো হয় এলাকার আরও প্রায় ২০০ মানুষকে। রান্নার আয়োজন থেকে অতিথি আপ্যায়ন—কোনো কিছুতেই কমতি ছিল না।
কাজী মো. ওয়াজেদ আলী ৬০ হাজার টাকা দেনমোহরে তাঁদের বিয়ে পড়ান। আধো আধো উচ্চারণে তারেক বলেন, ‘বৈশাখীকে আমার পছন্দ হয়েছে। তাই বিয়ে করছি। আপনারা সবাই আমাদের জন্য দোয়া করবেন।’ বিএনপি নেতা খায়রুল আলম বলেন, ‘বৈশাখীর পরিবার খুবই গরিব ও অসহায়। মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার মতো সামর্থ্য তাঁদের ছিল না। বিয়ের বয়স হলেও অর্থের অভাবে পরিবারটি দুশ্চিন্তায় ছিল। বিষয়টি জানার পর মনে হয়েছে, সামর্থ্য অনুযায়ী তাঁদের পাশে দাঁড়ানো উচিত। তাই লিফাত প্রতিবন্ধী ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় এই বিয়ের আয়োজন করেছি। শুধু বিয়ের দিনটি নয়, নবদম্পতি যেন সামনে ভালোভাবে জীবনযাপন করতে পারে, সে বিষয়েও আমরা পাশে থাকার চেষ্টা করব।’
পারিলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাঈদ আলী মোর্শেদ বলেন, ‘বৈশাখী ও তারেকের স্বপ্ন ও বেঁচে থাকার অধিকার অন্য সবার মতোই। সমাজের সামর্থ্যবান মানুষ ও সংগঠনগুলো এভাবে এগিয়ে এলে অসহায় মানুষের জীবনে পরিবর্তন আনা সম্ভব। এই বিয়েতে অংশ নিতে পেরে আমি আনন্দিত। নবদম্পতির নতুন জীবন যেন সুখী ও সুন্দর হয়, সে জন্য তাঁদের একটি খাট উপহার দিয়েছি।’ লিফাত প্রতিবন্ধী ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান রিয়াজ শিকদার বলেন, তাঁর নিজের সন্তান প্রতিবন্ধী হওয়ায় প্রতিবন্ধী মানুষের জীবন সংগ্রাম তিনি কাছ থেকে দেখেছেন। সেই অনুভূতি থেকেই অসহায় প্রতিবন্ধী মানুষের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছেন। তাঁর সংগঠনের উদ্যোগে এরই মধ্যে ১৫ জন প্রতিবন্ধীর বিয়ের আয়োজন করা হয়েছে।


প্রকাশিত: August 13, 2026 | সময়: 4:51 am | সুমন শেখ

আরও খবর