সর্বশেষ সংবাদ :

‘তিন কারণে শিক্ষার্থীরা ইংরেজি- গণিতে দুর্বল, দায় বেশি শিক্ষকদের’

সানশাইন ডেস্ক: এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় এবার ৬ লাখ ৯০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী ফেল করেছে। তাদের বেশিরভাগই ইংরেজি ও গণিত বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে। এতসংখ্যক শিক্ষার্থীর ফল বিপর্যয়ের পেছনে তিনটি কারণ চিহ্নিত করেছেন দেশের বর্তমান সৃজনশীল কারিকুলাম প্রণেতাদের অন্যতম অধ্যাপক ড. ছিদ্দিকুর রহমান খান।
প্রবীণ এ শিক্ষাবিদের মতে, এসএসসি ও এইচএসসির মতো পাবলিক পরীক্ষায় কোনো যুক্তিতেই এতসংখ্যক শিক্ষার্থীর ফেল গ্রহণযোগ্য নয়। যদি কেউ ফেল করে, তাহলে ওই শিক্ষার্থীর চেয়েও শিক্ষকরা বেশি দায়ী বলেও অভিমত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইআর) সাবেক এ পরিচালকের।
অধ্যাপক ড. ছিদ্দিকুর রহমান খান বলেন, ‘প্রশ্নপত্র কঠিন হয়েছে কিংবা খাতা কঠোরভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে- যেটিই বলা হোক না কেন, কোনোভাবেই এতসংখ্যক শিক্ষার্থীর ফেল গ্রহণযোগ্য নয়।’ তিনি বলেন, ‘একজন শিক্ষার্থী নবম ও দশম শ্রেণিতে দুই বছর একই বই পড়ে। দশম শ্রেণি শেষে বিদ্যালয়ের নির্বাচনি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করার পর সে এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের সুযোগ পায়। এরপর আরও প্রায় তিন মাস পরীক্ষার প্রস্তুতি নেয়। এত কিছুর পর বোর্ড পরীক্ষায় এক-দুই বা তার বেশি সাবজেক্টে (বিষয়) ফেল করলো? কেন ফেল করলো, কীভাবে এটা সম্ভব?’
বর্তমানে যে সৃজনশীল কারিকুলামে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা চলছে, তা প্রণয়নে সামনের সারিতে ছিলেন অধ্যাপক ড. ছিদ্দিকুর রহমান খান। এ কারণে এ পদ্ধতিতে শেখানোর বিষয়েও ঘাটতি আছে বলে মনে করেন তিনি। বিদ্যালয়পর্যায়ে ক্লাসে শেখানোর ক্ষেত্রে শিক্ষকদের দুর্বলতা ও অবহেলা রয়েছে জানিয়ে ছিদ্দিকুর হরমান বলেন, ‘কারিকুলামে যেভাবে শেখানোর কথা, সেভাবে শেখালে কেউ ফেল করার কথা নয়। প্রথমত— এনসিটিবি কারিকুলামটা নামমাত্র মানে, দ্বিতীয়ত- শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের ব্যাপক ঘাটতি রয়েছে। তারা মানসম্মত উপায়ে ক্লাসে পড়াতে পারেন না।’
‘আর সবশেষ যেটা সমস্যা তা হলো- শিক্ষকরা বেতন-ভাতা খুব কম। এ কারণে তারা নিজ পেশায় মনোযোগ কম দেন। অভাব নিয়ে তো শিক্ষকতা হয় না। এতে ক্লাসে শিক্ষার্থীদের পড়াতেও তারা অবহেলা করেন। এ কারণে প্রস্তুতির ব্যাপক ঘাটতি নিয়েই এসএসসির মতো পাবলিক পরীক্ষায় বসে হোঁচট খাচ্ছে লাখ লাখ শিক্ষার্থী’ যোগ করেন এ শিক্ষাবিদ।
চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল আজ সকালে প্রকাশ করা হয়। প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় মোট ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে পাস করেছে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন। ১১টি বোর্ডে গড় পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। পাস করাদের মধ্যে ছাত্র ৫ লাখ ৩০ হাজার ৯৩৮ জন ও ছাত্রী ৬ লাখ ৭ হাজার ৯৩৯ জন।
ছাত্রীদের গড় পাসের হার ৬৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ এবং ছাত্রদের পাসের হার ৫৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ। এবার ফেল করেছে ৬ লাখ ৯০ হাজার ৬০৮ জন। ফেল করা শিক্ষার্থীদের অধিকাংশই গণিত ও ইংরেজি বিষয়ে খারাপ করেছে। বিশেষ করে মানবিক বিভাগের পরীক্ষার্থীরা প্রতি ১০০ জনে ৫১ জনই এবার ফেল করেছে।
এদিকে, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন। তাদের মধ্যে ছাত্রী ৬৩ হাজার ৮৯৬ জন এবং ছাত্র ৫২ হাজার ৭৮০ জন। পাসের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তিসহ প্রায় সব ক্ষেত্রে এগিয়ে ছাত্রীরা। ১১টি বোর্ডের ফলাফলে সবার ওপরে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড এবং তলানিতে মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড। তবে শুধু সাধারণ ৯টি শিক্ষা বোর্ডের হিসাব কষলে ফলাফলে সবার নিচে ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ড।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৭১ দশমিক ৬৩ শতাংশ, রাজশাহীতে ৬৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ, কুমিল্লায় ৬৫ দশমিক ৪২ শতাংশ, যশোরে ৬৬ দশমিক ২৭ শতাংশ, চট্টগ্রামে ৫৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ, বরিশালে ৬০ দশমিক ৩৫ শতাংশ, সিলেটে ৫৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ, দিনাজপুরে ৫৮ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ এবং ময়মনসিংহে ৫৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ।
এছাড়া বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে দাখিল পরীক্ষায় পাসের হার ৫৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ। আর বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি (ভোকেশনাল) ও দাখিল (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় গড় পাসের হার ৫৮ দশমিক ২০ শতাংশ।


প্রকাশিত: August 11, 2026 | সময়: 4:25 am | সুমন শেখ