বুধবার, ১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
নুরুজ্জামান , বাঘা :
একটি স্বপ্ন, দীর্ঘ প্রস্তুতি আর অবিচল অধ্যবসায়ের পথ পেরিয়ে কাঙ্ক্ষিত সাফল্যের দেখা পেলেন রাজশাহীর বাঘা উপজেলার মেধাবী শিক্ষার্থী রুমা সুলতানা (মিম)। ৪৭তম বিসিএসে স্বাস্থ্য ক্যাডারে সহকারী সার্জন পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে তিনি মেধাতালিকায় ২৩তম স্থান অর্জন করেছেন। তাঁর এই অর্জনে আনন্দে ভাসছে পরিবার, শিক্ষক, শুভাকাঙ্ক্ষী এবং পুরো বাঘা উপজেলা।
বাঘা উপজেলার ছাতারী গ্রামের বাসিন্দা রুমা সুলতানা মো: মোয়াজ্জেম হোসেন ও মোছা: রাশিদা বেগম দম্পতির কন্যা। শিক্ষাজীবনের শুরু থেকেই তিনি ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী ও পরিশ্রমী। ২০১৪ সালে বাঘা ইসলামী একাডেমি উচ্চ বিদ্যালয়, কারিগরি ও কৃষি কলেজ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় গোল্ডেন জিপিএ-৫ অর্জনের পাশাপাশি রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের বৃত্তি লাভ করেন। এরপর ২০১৬ সালে রাজশাহীর নিউ গভ. ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষাতেও গোল্ডেন জিপিএ-৫ অর্জন করে নিজের ধারাবাহিক সাফল্য ধরে রাখেন।
উচ্চমাধ্যমিকের পর চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে ভর্তি হন ঢাকার আর্মড ফোর্সেস মেডিকেল কলেজে। সেখান থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জনের পর নিজেকে সরকারি স্বাস্থ্যসেবায় যুক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে বিসিএসের প্রস্তুতি শুরু করেন। দীর্ঘদিনের নিরলস অধ্যয়ন, আত্মবিশ্বাস এবং কঠোর পরিশ্রমের ফল হিসেবে তিনি এবার ৪৭তম বিসিএসে স্বাস্থ্য ক্যাডারে সহকারী সার্জন পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন।
রুমার এই অর্জন শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, এটি বাঘা উপজেলার জন্যও গর্বের একটি অধ্যায়। তাঁর সাফল্যে পরিবার, আত্মীয়স্বজন, শিক্ষক, সহপাঠী ও এলাকাবাসী উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। তাঁদের বিশ্বাস, একজন মানবিক ও দক্ষ চিকিৎসক হিসেবে রুমা দেশের স্বাস্থ্যসেবায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবেন।
স্থানীয় শিক্ষাবিদদের মতে, রুমা সুলতানার এই সাফল্য প্রমাণ করে যে, প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকেও একাগ্রতা, সঠিক পরিকল্পনা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ে সাফল্য অর্জন সম্ভব। তাঁর এই অর্জন এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। স্বপ্ন পূরণের এই যাত্রায় রুমা সুলতানা এখন শুধু তাঁর পরিবারের গর্ব নন, তিনি বাঘা উপজেলার তরুণ প্রজন্মের জন্যও এক উজ্জ্বল অনুপ্রেরণার নাম।
রুমা সুলতানার বাবা-মা’ মেয়ের এই সাফল্যকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, আমার মেয়ে বরাবরই পরিশ্রমী। এই অর্জন তার পরিশ্রমের ফল। আমরা বিশ্বাস করি, পরিশ্রম করলে মানুষ অসাধ্যকে সাফল্যে নিয়ে আসতে পারে। তাঁরা তাঁদের মেয়ের জন্য সকলের কাছে দোয়া পার্থনা করেন এবং তার শিক্ষকদের প্রতি কৃতজ্ঞাতা প্রকাশ করেন ।
সানশাইন /শামি